আরও এক বিরোধী রাজ্যে ইডির হানা! অর্থ তছরুপের মামলায় গ্রেফতার তামিলনাড়ুর মন্ত্রী
ইডি হানা দিল আরও এক বিরোধী রাজ্যে। ইডির জালে গ্রেফতার অর্থ তছরুপের মামলায় অভিযুক্ত তামিলনাড়ুর মন্ত্রী সেন্থিলবালাজি। সম্র্্তি রাজ্য সচিবালয়ের মন্ত্রীর অফিসে, চেন্নাইয়ের বাংলো এবং করুরু ও কেয়েম্বাটুরের বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি।
শেষমেশ গ্রেফতার করা হল মন্ত্রীকে। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট তামিলনাড়ুর বিদ্যুৎ মন্ত্রী ভি. সেন্থিলবালাজিকে মানি লন্ডারিং মামলায় গ্রেফতার করেছে মঙ্গলবার গভীর রাতে। চেন্নাইয়ে তাঁর বাড়িতে ১৮ ঘন্টা জিজ্ঞাসাবাদের পরে গ্রেফতার করা হয় মন্ত্রীকে।

দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধী নেতারা অভিযোগ তুলে আসছেন যে, মোদী সরকার অপব্যবহার করে আসছে কেন্রীব য় তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে। সেইমতোই বিজেপি বিরোধী আরো এক রাজ্য দক্ষিণের তামিলনাড়ুতে ডিএমকের মন্ত্রীকে গ্রেফতার করল ইডি।
দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর সেন্থিলবালাজিকে গ্রেফতার করা হয়। মঙ্গলবার রাত দুটোয় গ্রেফতারের পর চেন্নাইয়ের ওমান্দুরার এস্টেটের সরকারি মাল্টি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে মেডিকেল চেকআপের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। নথিপত্র নিয়ে আরও তিনটি গাড়ি তাদের অনুসরণ করে।
যুব কল্যাণ ও ক্রীড়া উন্নয়ন মন্ত্রী উদয়নিধি স্টালিন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী এম. সুব্রহ্মণ্যন এবং পিডব্লিউডি মন্ত্রী ই.ভি. ভেলুও হাসপাতালে গিয়েছিলেন। মন্ত্রী সেকার বাবু দাবি করেন, সেন্থিলবালাজি আইসিইউতে পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। ডিএমকে রাজ্যসভার সাংসদ এবং সিনিয়র অ্যাডভোকেট এন.আর. এলাঙ্গো বলেন, ইডি আধিকারিকরা সেন্থিলবালাজির পরিবারের সদস্যদের বা অন্য কাউকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে কি না জানায়নি।
#WATCH | Tamil Nadu Electricity Minister V Senthil Balaji breaks down as ED officials took him into custody in connection with a money laundering case and brought him to Omandurar Government in Chennai for medical examination pic.twitter.com/aATSM9DQpu
— ANI (@ANI) June 13, 2023
এদিকে ওমান্দুরার সরকারী এস্টেটে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। ১৩ জুন ইডি রাজ্য সচিবালয়ে সেন্থিলবালাজির অফিসিয়াল চেম্বারে, চেন্নাইয়ের বাংলোতে এবং করুর ও কোয়েম্বাটুরে অন্যান্য স্থানে এই অর্থ চথরূপ মামলায় তল্লাশি চালায়। এই প্রথম কোনো মন্ত্রীকে টার্গেট করে কোনো কেন্দ্রীয় সংস্থা ফোর্ট সেন্ট জর্জে প্রবেশ করে।
কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং ডিএমকে সভাপতি ও তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন এই ঘটনাকে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকারের 'ভীতি প্রদর্শনের কৌশল' বলে অভিহিত করেছেন। গভীর রাতে গ্রেফতারের নিন্দা জানিয়েছেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেও।
মল্লিকার্জুন খাড়গে এক বিবৃতিতে বলেছেন, "এটি বিরোধীদের বিরুদ্ধে মোদী সরকারের রাজনৈতিক হয়রানি এবং প্রতিহিংসা ছাড়া কিছুই নয়। বিরোধী দলে আমরা কেউই এই ধরনের নির্লজ্জ পদক্ষেপে ভয় পাব না।" মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও টুইট করেন। তিনি লেখেন, ডিএমকে-র বিরুদ্ধে বিজেপির রাজনৈতিক প্রতিহিংসার নিন্দা জানাই। সরকারি বাসভবনে ইডির অভিযান অগ্রহণযোগ্য। এটি বিজেপির একটি বেপরোয়া কাজ।

যদিও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এই প্রতিবেদনটি দাখিল করার সময় পর্যন্ত কোনও বিবৃতি প্রকাশ করেনি। তবে জানা গিয়েছে, ২০১১ সালে সেন্থিলবালাজি পরিবহণ মন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করার সময় একটি চাকরির র্যাবকেটের সঙ্গে অর্থ তছরূপে অভিযুক্ত। জয়ললিতার মন্ত্রিসভায় থাকাকালীন এই ঘটনা।
অভিযোগ, মেট্রোপলিটন ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশনে চাকরির জন্য ঘুষ চাওয়া হয়েছিল। গত মাসে সুপ্রিম কোর্ট তদন্তের দুয়ার খুলে দেয়। তদন্তকারী অফিসারকে এই ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দেয়। সেই মোতাবেক তামিলনাড়ুর মন্ত্রীর চেম্বারে ও বাংলোতে হানা দিয়ে ১৮ ঘন্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর গ্রেফতার করা হয় তাঁকে।












Click it and Unblock the Notifications