ফের এক বিএলও-র মৃত্যু, এক্স-এ পোস্ট করা নাচের ভিডিও নিয়ে চাপে কমিশন
এসআইআর প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ভোটার তালিকা সংশোধনে যুক্ত এক ডজনেরও বেশি বুথ-লেভেল অফিসার (বিএলও) কাজের চাপে আত্মহত্যা করেছেন বলে খবর। এমন পরিস্থিতিতে ভারতের নির্বাচন কমিশনের পোস্ট করা একটি নাচের ভিডিও ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। অনেকেই কমিশনকে পরিস্থিতি সম্পর্কে উদাসীন এবং সংবেদনহীন বলে আখ্যা দিচ্ছেন।
দেশের ১২টি রাজ্যে যখন ভোটার তালিকা সংশোধনের এই নিবিড় কার্যক্রম, যাকে "ম্যারাথন" হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে, জোরকদমে চলছে, তখনই বিএলও-দের উপর চাপ চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। এমনই পরিস্থিতিতে কাজের বিপুল চাপের কারণে আত্মহত্যার একাধিক খবর সামনে এসেছে। সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশের মোরাদাবাদে সোমবার একজন বিএলও-এর আত্মহত্যার খবর পাওয়া গিয়েছে। বাংলায়ও এমন ঘটনা ঘটেছে একাধিক।

এই বিশেষ নিবিড় সংশোধন কর্মসূচির আওতায় বিএলও-দের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের তথ্য যাচাই ও সংগ্রহ করতে হচ্ছে। তাঁদের উপর প্রায়শই হাজারেরও বেশি ভোটারের দায়িত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি, তাঁদের নিজেদের মূল পেশা যেমন শিক্ষকতা বা অন্য সরকারি কাজও সামলাতে হয়। উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের চাপ এবং কঠোর সময়সীমা এই কর্মীদের চরম মানসিক চাপের মধ্যে ঠেলে দিয়েছে।
এই রকম উদ্বেগজনক খবরের মধ্যেই রবিবার সন্ধ্যায় নির্বাচন কমিশন এক্স-এ একটি ভিডিও শেয়ার করে। এতে দেখা গিয়েছে কেরলের একটি হলে বিএলও-রা একজন নাচের প্রশিক্ষকের সঙ্গে একটি গানের তালে তালে নাচছেন।
ভিডিওটি ইসিআই-এর 'এসআইআর জয়থন'-এর অংশ বলে দাবি করা হয়েছে। এতে "৫০ মিনিট কাজ ও ১০ মিনিট মজার" একটি সময়সূচি প্রস্তাব করা হয়, যেখানে সঙ্গীত, জুম্বা, স্ট্রেচিং এবং নকল করার মতো কার্যকলাপ অন্তর্ভুক্ত ছিল। ইসিআই জানায়, এটি জেলা-স্তরের একটি উদ্যোগ যা সংশোধন প্রক্রিয়ায় "শক্তি ও আনন্দ যোগাতে" সাহায্য করবে।
পোস্টটির ক্যাপশনে লেখা ছিল, "দ্রুত বিরতি, শক্তিশালী দল... কেরলে চলমান এসআইআর-এর অধীনে নির্বাচন কর্মকর্তারা, বিএলও সহ, তাদের কাজের ফাঁকে বিরতি উপভোগ করছেন।" পোস্টে কেরলের প্রধান নির্বাচনী কর্মকর্তা এবং তিরুবনন্তপুরম জেলা কালেক্টরকেও ট্যাগ করা হয়েছিল। ভিডিওতে এই দুই কর্মকর্তাকেও অংশগ্রহণে দেখা গেছে।
কিন্তু ইসিআই-এর এই "মজার বিরতির" ভাবনা জনসাধারণ ভালোভাবে নেয়নি। বিশেষ করে, যখন বিএলও-দের উপর কাজের প্রবল চাপ এবং আত্মহত্যার মতো ঘটনা ঘটছে, তখন এই নাচের ভিডিও প্রকাশের কারণে ইসিআই-কে "পরিস্থিতি সম্পর্কে নির্বোধ" ও "সংবেদনহীন" বলে তীব্র সমালোচনা করা হয়। জনগণের ক্ষোভের মাত্রা আরও বাড়ে, কারণ এই পদক্ষেপটিকে বাস্তবতার থেকে বিচ্ছিন্ন মনে করা হয়েছে।
অনেক ব্যবহারকারী ইসিআই-এর এই পদক্ষেপের সমালোচনা করে প্রশ্ন তোলেন। একজন লিখেছেন, "লজ্জা হয় না আপনাদের... এত বিএলও আত্মহত্যা করছেন, আর আপনারা নাচের ভিডিও শেয়ার করতে ব্যস্ত?" অন্য একজন ইসিআই-কে "নির্লজ্জতার জীবন্ত প্রতীক" বলে মন্তব্য করেন।
কেউ কেউ এই ভিডিওটিকে বিএলও-দের মৃত্যু নিয়ে এক প্রকার 'নোংরা রসিকতা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁরা জানতে চেয়েছেন, এ ধরনের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম কেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করার প্রয়োজন পড়ল? সামাজিক ব্যবহারকারীরা এই পদক্ষেপের সময়জ্ঞান ও উদ্দেশ্যের উপর প্রশ্ন তোলেন।
রাজ্যসভার কংগ্রেস নেতা প্রমোদ তিওয়ারি সোমবার দাবি করেন যে, "এসআইআর-এর চাপে" ২০ জনেরও বেশি বিএলও মারা গেছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এই কার্যক্রমে আর কত প্রাণ যাবে?












Click it and Unblock the Notifications