উত্তরপ্রদেশে অমিত শাহ ও আজম খানের জনসভার উপর নিষেধাজ্ঞা কমিশনের

উত্তরপ্রদেশ সরকারের কাছে লিখিতভাবে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, অমিত শাহ এবং আজম খানের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করার নির্দেশ দিয়েছে। এবং এই দুই নেতার বিরুদ্ধে যদি এখনও পর্যন্ত কোনও ফৌজদারি মামলা না দায়ের করা হয়ে থাকে তাহলে মামলা দায়ের করার কথাও জানিয়েছে কমিশন।
যাতে লোকসভা ভোটের আগে নতুন করে কোনও রকম অশান্তির পরিবেশ তৈরি না হয় তাই শুক্রবার একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ভিএস সম্পদের নেতৃত্বে নিজেদের সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগ করে বিতর্কিত ওই দুই নেতার বিরুদ্ধে কড়া মনোভাব নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
কমিশনের নির্দেশে বলা হয়েছে, ভারতীয় সংবিধানের ৩২৪ ধারা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় এফআইআর তৎপরতার সঙ্গে দায়ের করতে হবে। এবং দুই নেতার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করতে হবে।
একইসঙ্গে নির্বাচন কমিশনের তরফে বলা হয়েছে, অমিত শাহ এবং আজম খানের ক্ষেত্রে উত্তরপ্রদেশের মতো স্পর্শকাতর জায়গায় জেলা প্রশাসনের তরফে কোনও রকমের জনসভা, মিছিল-মিটিং, জমসমাবেশে, পথসভার নির্দেশ দেওয়া হবে না। যাতে কোনও ভাবেই জনতার সামনে এই দুই নেতা কোনওরকম বক্তব্য রাখতে না পারেন তার জন্যও কড়া নজর দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জেলা প্রশাসনকে।
বিজেপির উত্তরপ্রদেশ শাখার দায়িত্বে থাকা অমিত শাহ বুধবারই এলাহবাদ কোর্টে নিজের গ্রেফতারির উপর স্থগিতাদেশের জন্য আর্জি জানান। একইসঙ্গে গত ৪ এপ্রিল শামলিতে নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে ঘৃণ্য মন্তব্য করার অপরাধে তার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের দমনের জন্যও আর্জি জানিয়েছেন অমিত শাহ।
ভারতীয় দণ্ডবিধির ১২৫ ও ১৫৩এ ধারায় অমিত শাহর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। দুই ধারাতেই অমিত শাহের বিরুদ্ধে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে শত্রুতা প্রচারের অভিযোগ রয়েছে।
মুজাফ্ফরনগরের কাছেই এক জনসভায় অমিত শাহ বলেছিলেন, যারা জাটেদের হত্যাকারীদের রক্ষা করেছে, ক্ষতিপূরণ দিয়েছে, এবারের নির্বাচন সেই সরকারকে গদি থেকে টেনে নামানোর জন্য। এটা আমাদের মর্যাদার নির্বাচন এবং অপমানের প্রতিশোধ নেওয়ার পালা।
অন্যদিকে উত্তরপ্রদেশের সপা নেতা আজম খানের অবাঞ্ছিত কার্যক্রমের পরেও তাঁর প্রতি নরম মনোভাব দেখানোর কারণে নির্বাচন কমিশন অখিলেশ সরকারের নিন্দা করেছে। বুধবার আজম খানের বক্তব্যের পুংখানুপুঙ্খ বিবরণ চেয়ে পাঠায় কমিশন। উল্লেখ্য মঙ্গলবার এক জনসভায় বক্তব্য রাখতে উঠে আজম খান বলেন, কার্গিলের যুদ্ধে মুসলিম জওয়ানরাই জয় এনে দিয়েছিল। পরে নিজের এই বিতর্কিত মন্তব্যের পক্ষে সওয়াল করে আজম খান সংবাদসংস্থা আইএএনএসকে জাননা, তাঁর কার্গিল বক্তব্যকে স্বাগত জানানো উচিত।
এদেশে মুসলিমদের অবদান নিয়ে কথা বললে কার কী ক্ষতি? আমরা কেন এ বিষয়ে কথা বলতে পারব না? কেন মুসলিম সৈন্যদের বলিদানকে উপেক্ষা করা হবে? এই প্রশ্নও তোলেন আজম খান।












Click it and Unblock the Notifications