ভূমিকম্পে দুলল দিল্লি-কলকাতা-চেন্নাই, নেই সুনামির সতর্কবার্তা

আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, ওডিশার পারাদ্বীপের ২৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে বঙ্গোপসাগরে এই ভূমিকম্পের উপকেন্দ্র ছিল। গতকাল রাত পৌনে দশটা নাগাদ কম্পন অনুভূত হয়। দিল্লি, চণ্ডীগড় থেকে শুরু করে উত্তরপ্রদেশ, বিহারের বিস্তীর্ণ এলাকা, কলকাতা-সহ দুই ২৪ পরগনা, হাওড়া, পূর্ব মেদিনীপুর কেঁপে ওঠে। পাশাপাশি, ভুবনেশ্বর, অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূল ভাগে আলোড়ন অনুভব করা গিয়েছে। তামিলনাড়ুতে চেন্নাইয়ে ভূমিকম্প বোঝা গিয়েছে। তবে গোটা চেন্নাইয়ে নয়। চেন্নাইয়ের নুঙ্গমবক্কম, পোরুর এবং ট্রিপলিকেন এলাকায় ভূমিকম্পের প্রভাব পড়েছে। কম্পন হলেও সুনামির সতর্কবার্তা নেই।
২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর বঙ্গোপসাগরের নীচে এর চেয়েও তীব্রতর কম্পন তৈরি হয়েছিল। ৯.১ মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে। সমুদ্র ফুলে উঠে ভাসিয়ে নিয়ে গিয়েছিল ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ, তামিলনাড়ুর বিস্তীর্ণ অঞ্চল, আফ্রিকার মাদাগাস্কার, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ডের বিরাট এলাকা। অন্তত আড়াই লক্ষ মানুষ মারা গিয়েছিলেন। মার্কিন ভূতত্ত্ববিদদের মতে, গতকালের কম্পনের মাত্রা যদি আর একটু বেশি হত, তা হলে অনুরূপ ঘটনা ঘটতে পারত।
গতকালের কম্পন প্রাণঘাতী না হলেও আশঙ্কা ছড়িয়েছে যথেষ্টই। কলকাতা, ভুবনেশ্বর, চেন্নাইতে বহুতলগুলি থেকে হুড়মুড়িয়ে নেমে আসেন মানুষজন। রাস্তায় ভিড় জমে যায়। অবশ্য কম্পন কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী হয়। ফলে কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
ভূত্বক কয়েকটি প্লেটের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। এগুলির নানা নাম। ইন্ডিয়া প্লেট, ইউরেশিয়ান প্লেট, অস্ট্রেলিয়ান প্লেট ইত্যাদি। প্লেটগুলি সঞ্চরণের সময় যে ধাক্কা লাগে, তার ফলে কম্পন অনুভূত হয়। এক্ষেত্রে সেটা হয়েছে কি না, তা জানার চেষ্টা চলছে। অবশ্য সব সময় যে এই কারণে ভূমিকম্প হবে, তা নয়। অন্যান্য কারণেও কম্পন হতে পারে।












Click it and Unblock the Notifications