'ইচ ওয়ান পে ওয়ান', টিকা সঙ্কটে দেশের প্রান্তিক মানুষের পাশে দাঁড়াতে কেন্দ্রের নয়া অস্ত্র ই-ভাউচার
'ইচ ওয়ান পে ওয়ান', হতদরিদ্রদের টিকাকরণে নয়া পন্থা কেন্দ্রের
দেশজুড়ে করোনা টিকাকরণ শুরু হলেও টিকার ভাঁড়ারে টান! স্বভাবতই টিকা পাচ্ছেন না জনসাধারণ। অন্যদিকে শুধু অপর্যাপ্ত টিকাই নয়, ভ্যাকসিন না পাওয়ার কারণ হিসেবে উঠে আসছে অর্থের অভাবও। সরকারি ক্ষেত্রে বিনামূল্যে দেওয়া হলেও বেসরকারি ক্ষেত্রে টিকার মূল্য ১০০০ টাকা পর্যন্ত ছাড়াচ্ছে বহু ক্ষেত্রে। ভারতের মতো দেশে যেখানে অধিকাংশ মানুষ দারিদ্র্য সীমার নীচে, সেইখানে এত টাকা নিয়ে টিকা কেনার সামর্থ্য যে নেই নাগরিকদের, তা উপলব্ধি করেছে কেন্দ্র। পরিস্থিতি সামলাতে 'ইচ ওয়ান পে ওয়ান' প্রকল্পের বাস্তবায়নের পথে এগোছে মোদী সরকার, খবর সূত্রের।

দরিদ্রদের পাশে দাঁড়াতে দরকার 'ই-ভাউচার'
'ইচ ওয়ান পে ওয়ান' প্রকল্পে দরিদ্র অংশের পাশে দাঁড়াবেন দেশের আর্থিকভাবে স্বচ্ছল নাগরিকরা। সূত্রের খবর, কেন্দ্র প্রস্তাবিত প্রকল্পে আওতায় যাঁদের টিকা নেওয়ার ইচ্ছা বা দরকার রয়েছে অথচ অর্থ নেই, তাঁদের পাশে দাঁড়াতে পারবেন যেকোনো সচেতন নাগরিক। এক্ষেত্রে সরকারের তরফে ই-ভাউচার বিলি করা হবে, যা অনলাইন মাধ্যমে যে কেউ কোনো দরিদ্র নাগরিকের জন্য কিনতে পারবেন। পরবর্তীতে সেই ই-ভাউচার নিয়ে হাসপাতালে গেলে বিনামূল্যে টিকা পাবেন সেই আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া নাগরিক।

সরকারি তহবিলের উপর বোঝা কমাতে এই প্রকল্প
সরকারি আধিকারিকদের বিশ্বাস, এই ই-ভাউচার প্রকল্প আদতে সরকারি হাসপাতালের উপর থেকে বোঝা অনেকটাই কমিয়ে দেবে, ফলে ত্বরান্বিত হবে টিকাকরণের প্রক্রিয়া। যদিও বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রকল্প আসলে সরকারি তহবিলকে কিছুটা স্বস্তি দেবে। কেন্দ্রীয় সূত্রের খবর, ভারতের রিজার্ভ ব্যাংক অনুমোদিত এই ই-ভাউচারগুলি যত খুশি সংখ্যক কিনতে পারবেন যে কোনো নাগরিক। অতএব, বিত্তশালী নাগরিকদের কাছে সুযোগ রয়েছে দেশের বিশাল সংখ্যক দরিদ্র মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর।

২১শে জুন থেকে নিখরচায় টিকা আঠারোর্ধ্ব নাগরিকদের
এদিকে সোমবার বিকালে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেখানেই তিনি ২১শে জুন থেকে দেশের আঠারোর্ধ্ব নাগরিকদের সম্পূর্ণ নিখরচায় টিকাকরণের কথা জানান। পাশাপাশি রাজ্যগুলিকে কেন্দ্রের তরফে বিনামূল্যে টিকা বিলি করার আশ্বাস দেন মোদী। ভাষণে মোদী স্পষ্ট জানান, "দেশে উৎপাদিত মোট টিকার ৭৫% ক্রয় করে বিনামূল্যে রাজ্যে সরবরাহ করবে কেন্দ্র। বাকি ২৫% বেসরকারি ক্ষেত্রের জন্য বরাদ্দ হবে। ভ্যাকসিনের প্রতি ডোজে লিখিত মূল্যের উপর অতিরিক্ত ১৫০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত নিতে পারবে বেসরকারি ক্ষেত্রগুলি।"

"আগামীতে বাড়বে জোগান, ৩টি টিকার চলছে ট্রায়াল"
আগামীদিনে ভারতে যে টিকার উৎপাদন ও জোগান বাড়বে, সে প্রসঙ্গে স্পষ্ট বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী। কোভ্যাক্সিন ও কোভিশিল্ডের পাশাপাশি আরও তিনটি টিকা যে ট্রায়াল প্রক্রিয়ায় রয়েছে, তাও জানান মোদী। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের হিসাব বলছে, সোমবার দেশে মোট টিকাকরণের সংখ্যা ছড়িয়েছে ২৩.৫৯ কোটির গন্ডি। প্রত্যহ ১কোটি নাগরিকের টিকাকরণ ও এ বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের সকল নাগরিকের টিকাকরণের লক্ষ্য নিলেও তা পূরণ করতে পারবে কেন্দ্র? প্রশ্ন কিন্তু থেকেই যাচ্ছে।












Click it and Unblock the Notifications