দেশজুড়ে লকডাউন, দিল্লি থেকে উত্তরপ্রদেশ না খেয়ে হেঁটে চলেছে কিশোর
দেশজুড়ে লকডাউন, দিল্লি থেকে উত্তরপ্রদেশ না খেয়ে হেঁটে চলেছে কিশোর
গোটা দেশে লকডাউন। বন্ধ সমস্ত ধরনের গণ পরিবহন। করোনা ভাইরাসের সঙ্গে মোকাবিলা করার জন্য মঙ্গলবারই লকডাউনের ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কিন্তু ১৬ বছরের এই কিশোর ২৫০ কিমি হেঁটে দিল্লি থেকে উত্তরপ্রদেশে চলেছে। ওই কিশোরের বাড়ি উত্তরপ্রদেশে। জানা গিয়েছে কোনও খাবার ছাড়াই সে হেঁটে চলেছে তার বাড়ির দিকে।

দিল্লি থেকে উত্তরপ্রদেশ হেঁটে যাচ্ছে এই কিশোর
ওই কিশোরের নাম শান্তি পাল। সে দক্ষিণ দিল্লির অ্যান্ড্রুস গঞ্জ এলাকায় ছোলে বাটুরে বিক্রি করে। উত্তরপ্রদেশের বাদাউন জেলার বাসিন্দা সে। ওই কিশোর জানিয়েছে যে শুক্রবারই সে তার বাড়ি পৌঁছে যাবে।

শান্তি বুধবার থেকে না খেয়ে রয়েছে
করোনা আতঙ্কে ২১ দিনের লকডাউন ঘোষণা সরকারের। কিন্তু যে সমস্ত গরীব মানুষ অর্থের জন্য বড় শহরে এসে কাজ করেন, তাঁরা তাঁদের গ্রামে ফিরতে শুরু করে দিয়েছেন। রাস্তা একেবারে জনশূণ্য ও অপ্রয়োজনীয় সরবরাহের দোকানগুলিও বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এই পটভূমিতে, দৈনিক মজদুর ও দরিদ্র শ্রমিকরা প্রতিদিনের যোগান জোগাড় করতে সংগ্রাম করছে। কোনও সহযোগিতা কারোর থেকে না পেয়ে, হাজার হাজার শ্রমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে তাঁরা তাঁদের বাড়িতে ফেরত যাবেন। শান্তি জানিয়েছে যে তার কাছে খাবার অল্প ছিল এবং বুধবার থেকে সে কিছু খায়নি।
মারণ রোগ থেকে বাঁচতে সরকারের নির্দেশ মেনে মানুষ ঘরের ভেতরই রয়েছেন। করোনা আতঙ্কে বিভিন্ন ক্ষেত্রে গ্রাহকের সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে কিন্তু লকডাউনের ঘোষণার পর এই শ্রেণীর মানুষের কাছে বেঁচে থাকার জন্য রসদ জোগাড় করা আর এক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
|
খাবার না খেয়ে দু’দিন ধরে হেঁটে গ্রামে পৌঁছান শ্রমিক
এ ধরনের আরও এক ঘটনা ঘটেছে মহারাষ্ট্রেও। যেখানে পুনের ২৬ বছরের দৈনিক শ্রমিক ১৩৫ কিমি হেঁটে তাঁর আদিবাড়ি নাগপুরের চন্দ্রপুর জেলার জাম্বে যান। তিনি পুনে থেকে নাগপুর ট্রেনেই এসেছেন, কিন্তু সরকারের লকডাউন ঘোষণার জন্য তিনি নাগপুরে আটকে পড়েন। এরপর ওই শ্রমিক কারোর থেকে সাহায্য না পেয়ে মঙ্গলবার থেকে তাঁর গ্রামের উদ্দেশ্যে হাঁটতে শুরু করেন। দু'দিন কোনও খাবার ছাড়াই তিনি হাঁটেন। এই সময় শুধু জল খেয়ে ছিলেন তিনি।












Click it and Unblock the Notifications