টার্গেটে একাধিক সেনাঘাটি! রাজৌরি সেক্টরে ড্রোন ওড়ার উপর জারি নিষেধাজ্ঞা
জঙ্গিদের হাতে নয়া অস্ত্র! যা চিন্তা বাড়াচ্ছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের। এই অবস্থায় বড়সড় সিদ্ধান্ত। সীমান্তবর্তী জম্মু-কাশ্মীরের রাজৌরি সেক্টরে ড্রোন ওড়ার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি এই সেক্টরে খুব নিচু দিয়ে কোনও ক
জঙ্গিদের হাতে নয়া অস্ত্র! যা চিন্তা বাড়াচ্ছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের। এই অবস্থায় বড়সড় সিদ্ধান্ত। সীমান্তবর্তী জম্মু-কাশ্মীরের রাজৌরি সেক্টরে ড্রোন ওড়ার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি এই সেক্টরে খুব নিচু দিয়ে কোনও কিছু ওড়ানো যাবে না বলেও জারি করা নিষেধাজ্ঞাতে বলা হয়েছে। রাজৌরি সেক্টরের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট আর কে শাবান এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা জরুরি ভিত্তিতে রাজি করেছেণ।
উল্লেখ্য, বুধবার ড্রোনের মাধ্যমে সেনাঘাঁটির উপর হামলার চেষ্টা করা হয়। মনে করা হচ্ছে, সীমান্তবর্তী পাকিস্তান থেকে এই ড্রোন উড়িয়ে হামলার চেষ্টা করা হয়েছ। আর এরপরেই কার্যত এই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।
জারি করা নিষেধাজ্ঞাতে আরও বলা হয়েছে যে, অনেক সময় সরকারি বিভিন্ন সংস্থাগুলি ড্রোনের সাহায্যে ম্যাপিং, সার্ভে সহ একাধিক কাজ করে থাকে। কিন্তু এক্ষেত্রে সেই কাজ করার আগে অবশ্যই এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট কিংবা স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের কাছে অনুমতি নিতে হবে বলে জানানো হয়েছে।

হাই অ্যালার্টে রাখা হয়েছে সেনাবাহিনীকে
রবিবার ভারতীয় বায়ুসেনা ছাউনি টার্গেট করে একের পর এক বোমা নিক্ষেপ করা হয় ড্রোনের সাহায্যে। মাত্র ছয় মিনিটের ব্যবধানে একাধিক বোমা নিক্ষেপ করা হয়। বোমাগুলি বায়ুসেনার ঘাঁটির উপর পড়লে ভবনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। দুই আধিকারিকও এই ঘটনাতে গুরুতর আহত হন। এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই জম্মু কালুচক সেনা ছাউনির উপর ড্রোন উড়তে দেখা যায়। সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে থাকা সেনা ছাউনিতে একের পর এক ড্রোন ওড়ার খবর সামনে আসছে। ফলে এই মুহূর্তে সেনা বাহিনীকে হাই অ্যালার্টে রাখা হয়েছে সীমান্তে। সেনা ছাউনিগুলিতেও রয়েছে হাই অ্যালার্ট। ড্রোন বা এই ধরনের কোনও জিনিস সামনে আসলেই গুলি করে নামানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ড্রোন হামলা দেশের নিরাপত্তায় উদ্বেগজনক
তবে এই ঘটনায় রীতিমত উদ্বিগ্ন প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। প্রতিরক্ষামন্ত্রকের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রথমে ভারতীয় সেনা ছাউনির উপর হামলার জন্যে ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে। পাকিস্তানের মাটিতে থাকা একাধিক জঙ্গি সংগঠন যে ড্রোন ব্যবহার করছে দীর্ঘদিন ধরে সে রকম একাধিক প্রমাণ রয়েছে। বিশেষত জম্মু-কাশ্মীরে আগ্নেয়াস্ত্র ফেলা, ড্রাগ সহ টাকার ওপার থেকে এপারে পাঠানোর ক্ষেত্রে ড্রোন জঙ্গিরা ব্যবহার করে থাকে। কিন্তু যেভাবে জঙ্গিরা হামলার ক্ষেত্রে ড্রোনের ব্যবহার করছে তা দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় রীতিমত চ্যালেঞ্জের বলে মনে করছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা।

সীমান্তের ওপার থেকে হামলার চেষ্টা লস্করের!
বহু ক্ষেত্রে ইসলামিক স্টেট জঙ্গিদের এই ধরনের ড্রোন হামলা করেছে। বিশেষত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোনের সাহায্যে একাধিক হামলা ঘটিয়েছে ইসলামিক স্টেট। এবার সেই ঘটনার সঙ্গে ভারতের সেনাঘাটিগুলির উপর হামলার মিল পাচ্ছেন অনেকেই। ইতিমধ্যে এনআইএ ভারতীয় বায়ুসেনা ঘাঁটিতে ড্রোন হামলার তদন্তভার নিয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে তদন্তকারীদের অনুমান, লস্কর সম্ভবত সীমান্তের ওপার থেকে এভাবে হামলার চেষ্টা করছে। আরও হামলা লস্কর চালাবে বলেও অনুমান। ফলে সীমান্তবর্তী সব জায়গাতে হাই-অ্যালার্ট রয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications