দ্বিতীয়বারের চেষ্টায় এলিট লিস্টে ভারত! সফল ডিআরডিও-র হাইপারসনিক পরীক্ষা
দ্বিতীয়বারের চেষ্টায় এলিট লিস্টে ঢুকল ভারত। সোমবার সকালে ওড়িশা উপকূলের বালাসোরের এপিজে আবদুল কালাম টেস্টিং রেঞ্জ থেকে সাফল্যের সঙ্গে হাইপারসনিক টেকনোলজি ডেমোনস্ট্রেটর ভেহিকেল-র পরীক্ষা সফল হল। ভারতীয় প্রযুক্তিতে তৈরি প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বড়সড় পদক্ষেপ বলে মত ডিআরডিও আধিকারিকদের।

পরীক্ষা সফল হওয়ায় এলিট লিস্টে ভারত
এই পরীক্ষা সফল হওয়ায় আমেরিকা, রাশিয়া ও চিনের পর বিশ্বের চতুর্থ দেশ হিসেবে সেই হাইপারসনিক প্রযুক্তিধর দেশে পরিণত হল ভারত। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ভারতের অস্ত্রভান্ডারে চলে আসবে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই হাইপারসনিক মিসাইল। এর আগেও একবার এই প্রযুক্তির পরীক্ষা করা হয়েছিল। সেবার সাফল্য মেলেনি।

অগ্নি মিসাইল বুস্টার ব্যবহার করে পরীক্ষাটি হয়
অগ্নি মিসাইল বুস্টার ব্যবহার করে পরীক্ষাটি হয়। সেই বুস্টার হাইপারসনিক ভেহিকেলকে ৩০ কিলোমিটার উচ্চতায় নিয়ে যায়। তারপর অগ্নি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় সেটি। সফলভাবে স্ক্র্যামজেট ইঞ্জিন চালু করা হয়। এই পরীক্ষার নেতৃত্বে ছিলেন DRDO-এর প্রধান সতীশ রেড্ডি ও তাঁর টিম। তাঁদের তরফে জানানো হয়েছে এদিনের পরীক্ষা সম্পূর্ণ সফল।

হাইপারসনিক কী?
হাইপারসনিক-এর অর্থ শব্দের চেয়ে ছ'গুন বেশি গতিসম্পন্ন। প্রতি সেকেন্ডে দুই কিলোমিটারের বেশি গতিতে ছুটতে পারে এই হাইপারসনিক প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্র। শুধু গতিই নয়, এই ক্ষেপণাস্ত্রকে নিয়ন্ত্রণ করাও অনেকটাই সহজ। শত্রুপক্ষও এর অবস্থান নির্ধারণ করতে পারে না। কার্যকারিতাও বহুমুখী। ভূমি, আকাশ এবং যুদ্ধজাহাজ তিন প্ল্যাটফর্ম থেকেই ছোড়া যাবে এই ক্ষেপণাস্ত্র। সক্ষম হবে পরমাণু অস্ত্র থেকে শুরু করে রাসায়নিক ও জৈবিক অস্ত্র বহনেও।

অস্ত্র ভাণ্ডারে নয়া মিসাইল যোগ
গতবছরই ভারত নিজেদের অস্ত্র ভাণ্ডারে আরও ১০টি নতুন পরমাণবিক অস্ত্র যোগ করেছিল। বর্তমানে ভারতের ভাণ্ডারে পরমাণু অস্ত্রের সংখ্যা ১৫০। একদিকে লাদাখে চিনা আগ্রাসন, অন্যদিকে কাশ্মীর সীমান্তে পরপর পাকিস্তানের সংঘর্ষবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন। এরই মাঝে ভারতের দুই প্রান্তেই অস্থির পরিস্থিতি।

চিন-পাকিস্তান থেকে পিছিয়ে ভারত
যদিও ভারতের তুলনায় চিন এবং পাকিস্তানের হাতে অধিক সংখ্যক পরমাণু অস্ত্র রয়েছে। চিনের হাতে ৩২০ টি পরমাণু অস্ত্র রয়েছে। সেখানে পাকিস্তান এবং ভারতের ভাণ্ডারে পরমাণু অস্ত্রের সংখ্যা যথাক্রমে ১৬০ এবং ১৫০টি। নিজেদের পরমাণু অস্ত্রসম্ভারের 'উল্লেখ্যযোগ্য আধুনিকীকরণ' করছে চিন। নতুন স্থল এবং সমুদ্র-নির্ভর ক্ষেপণাস্ত্র এবং পরমাণুধর যুদ্ধবিমানের মাধ্যমে প্রথমবারের জন্য পরমাণু ত্রয়ী তৈরি করছে বেজিং। এদিকে ভারত এবং পাকিস্তান ধীরে ধীরে নিজেদের পরমাণু সম্ভারের আয়তন এবং বৈচিত্র বাড়াচ্ছে।












Click it and Unblock the Notifications