ভারতে প্রতিদিন পণের বলি ২০ জন নারী, ভয়ঙ্কর রিপোর্ট এনসিআরবি-র
ভারতে পণপ্রথা অনেক দশক আগে আইন করে নিষিদ্ধ হলেও এই প্রথা যে এখনও সমাজে কতটা গভীরভাবে গেঁথে রয়েছে তা সাম্প্রতিক একাধিক ঘটনায় ফের প্রমাণিত।
গত ২১ অগাস্ট মারাত্মক অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যান নিকি নামে এক বধূ। অভিযোগ উঠেছে, সিরসা গ্রামের শ্বশুরবাড়িতে তাঁকে গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। স্বামী তাঁকে মারধর করছেন সহ নিকির নানা ভিডিও জনমানসে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

নিকির পরিবার জানিয়েছে, ২০১৬ সালের বিয়ের সময় তার শ্বশুরবাড়িতে একটি স্করপিও এসইউভি, একটি মোটরসাইকেল এবং সোনা উপহার দেওয়া সত্ত্বেও, পরবর্তীতে ৩৬ লক্ষ টাকা ও একটি বিলাসবহুল গাড়ির নতুন দাবি জানানো হয়। জানা গিয়েছে, অত্যাচারের ঘটনা বারবার ঘটার পরও নিকিকে বারবার শ্বশুর বাড়িতে ফেরত পাঠায় তাঁর পরিবার। নিজেদের সম্মান রক্ষা করতে গিয়ে মেয়ের জীবন চলে যাবে, এই ভাবনা এখনও মেয়ের বাড়ির লোকেদের মনে তৈরি হয়নি, এমনটাই মনে করছেন সমাজকর্মী বিশেষজ্ঞরা। ফলে নিকির ক্ষেত্রেও তাঁকে বাড়িতেই রেখে দিয়ে ফেরত না পাঠালে এত ভয়াবহ পরিণতি হয়ত হতো না।
আর এটা কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে পণপ্রথা আজও ভয়ঙ্করভাবে বিদ্যমান। ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরো (NCRB) রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০১৭ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে ভারতে পণপ্রথার কারণে ৩৫,৪৯৩ জন মহিলা মারা গিয়েছেন। অর্থাৎ প্রতিদিন প্রায় ২০ জনকে মরতে হয়েছে পণের বলি হয়ে।
মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, পণপ্রথা পিতৃতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণকে শক্তিশালী করার একটি হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। নারীরা এখন উচ্চ বেতনের চাকরি করলেও, তাদের এখনও নির্ভরশীল হিসেবে দেখা হয়। বস্তুত, পণপ্রথা নারীদের দায় হিসেবে দেখার ধারণাকে শক্তিশালী করে। সেখানে তাদের বাবা-মা বাধ্যবাধকতা পূরণ করবে বলে আশা করা হয়।
পাশাপাশি বিশেষজ্ঞরা এটাও মনে করছেন যে, ভারতীয় দণ্ডবিধির এই অপরাধ সংক্রান্ত ধারার অতিরিক্ত অপব্যবহারের ফলে প্রকৃত ভুক্তভোগী বা নিগৃহীতারা সমস্যায় পড়েন। তাঁরা বিচার পান না। একইসঙ্গে আদালতে অনেক সময় শারীরিক নির্যাতনের রিপোর্ট চাওয়া হয়, অথচ মানসিক উৎপীড়নের কোনও প্রমাণ দেওয়া সম্ভব হয় না। ফলে বিচারের বাণী নীরবে নিভৃতে কাঁদে।












Click it and Unblock the Notifications