India vs Pakistan: নতুন ভারতের সঙ্গে আর 'পাঙ্গা' নয়! মোদী সরকারের 'কল্পনাতীত' শাস্তিতে থরহরিকম্প পাকিস্তান
India vs Pakistan: জঙ্গি হামলায় পাকিস্তানকে কড়া সবক শেখাল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভারত। পহেলগাঁওতে নৃশংস জঙ্গি হামলায় চলে গিয়েছে ২৬টি তরতাজা প্রাণ। হামলার নেপথ্যে রয়েছে পাকিস্তানের মদতপুষ্ট জঙ্গি সংগঠন লস্কর ই তৈবার ছায়া সংগঠন টিআরএফ। ছেড়ে কথা বলবে না ভারত। মোদী সরকারের গৃহীত অন্তত ৭টি বলিষ্ঠ পদক্ষেপে সেকথা ভালো মতো টের পেয়ে গিয়েছে পাকিস্তান। সন্ত্রাসে মদতদাতা পাকিস্তানের কাছে একথা জলের মতো পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে যে, প্রাণের বিনিময়ে সন্ত্রাস রেয়াত করবে না আজকের ভারতবর্ষ।
পূর্বে সীমান্তে নাশকতার ঘটনায় কূটনৈতিক বিবৃতিতেই সীমাবদ্ধ থাকত দেশের সরকার। কিন্তু এখন সেই যুগ ফুরিয়েছে। আজকের ভারত নতুন ভারত। আজকের ভারত দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, দুঃসাহসী। পহেলগাঁওয়ের বৈসরন উপত্যকায় যে রক্তস্রোত বয়েছে, তার পাল্টা কড়া কূটনৈতিক স্ট্রাইক করেছে ভারত। যা কিনা দেশে স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে কার্যত বেনজির।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ইতিমধ্যেই বলে দিয়েছেন, জঙ্গিদের চিহ্নিত করে খুঁজে বের করে তাদের প্রত্যেককে ও জড়িতদের কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে। সন্ত্রাসবাদীদের পৃথিবী থেকেই মুছে দেওয়া হবে। আর তাই মান্ধাতা আমলের রীতি রেওয়াজকে দূরে ঠেলে ৭টি দুঃসাহসিক পদক্ষেপ নিয়েছে ভারত।
সিন্ধু জল চুক্তি রদ:
১৯৬০ সালের সিন্ধু জল চুক্তি রদ করেছে ভারত। সন্ত্রাসবাদের রক্ত ও নদীর জল যে একই স্থানে প্রবাহিত হতে পারে না, সেই বার্তা পাকিস্তানকে হাড়ে হাড়ে বুঝিয়ে দিয়েছে ভারত। শুধু রাজনৈতিক বিবৃতি দিয়ে ক্ষান্ত থাকেনি ভারত। সন্ত্রাস দমনে পাকিস্তানের সঙ্গে বিদেশ নীতিতে আমূল পরিবর্তন ঘটাতেও কার্পণ্য করেনি ভারতবর্ষ।
পাকিস্তানি সামরিক আধিকারিকদের বিতাড়ন:
পাকিস্তানের শীর্ষ সামরিক কর্তাদের ভারত থেকে চলে যেতে নির্দেশ দিয়েছে সরকার। পাশাপাশি পাকিস্তানি কূটনীতিকদের সদস্য সংখ্য়াও ৪৫ শতাংশ ছেঁটে ফেলতে বলা হয়েছে ভারতের তরফে। আর তাতেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে ভারতের বার্তা। সন্ত্রাসের সঙ্গে একই পাল্লায় কূটনীতি চলতে পারে না। তারই খেসারত এবার দিতে হবে পাকিস্তানকে।
SAARC ভিসা বাতিল:
SAARC ভিসা এক্সজেম্পশন স্কিমের আওতায় আর ভারতে আসা যাবে না। ওই ভিসা নিয়েও যারা বর্তমানে ভারতে রয়েছেন, সেই সমস্ত পাকিস্তানিদের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ভারত ছাড়তে নির্দেশ দেওয়া হয়। ভারতের তরফে এই পদক্ষেপে বুঝিয়ে দেওয়া হয়, নতুন ভারতে সন্ত্রাসে মদতদাতা দেশের অধিবাসীদের কোনও জায়গা হবে না।
আটারি সীমান্ত সিল:
পাকিস্তানের সঙ্গে একমাত্র সচল স্থল সীমান্ত পারাপারও বন্ধ করে দেওয়া হল। অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হল পঞ্জাবের আটারি ওয়াঘা সীমান্ত। আর্থিক, সামাজিক ও কূটনৈতিক স্তরে অত্যন্ত বলিষ্ঠ পদক্ষেপ এটি। কেবল শান্তি প্রতিষ্ঠায় বিশ্বাসী ভারত তাই এত বড় পদক্ষেপ নিয়ে জবাব দিল পাকিস্তানকে।
পাকিস্তানি ভিসা বাতিল:
কোনও পাকিস্তানি নাগরিক আর ভারতে আসতে পারবেন না। পাকিস্তানিদের ভারতের ভিসা দেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হল। আবার ভারত থেকে যাঁরা বৈধ নথি নিয়ে পাকিস্তানে রয়েছেন, তাঁদের ১ মে-এর মধ্যে দেশে ফিরতে হবে। আগে ইস্যু করা ভিসাও প্রত্যাহার ভারতের। মেডিক্যাল ইস্যুতে অনুমোদিত ভিসাও বাতিল করা হয়েছে। অর্থাৎ, টেররজিম ও ট্যুরিজম একসঙ্গে চলতে পারে, একথাও বুঝিয়ে দিল ভারত।
সীমান্তে বন্ধ 'রিট্রিট সেরেমনি':
আটারি ওয়াঘা সীমান্তে বন্ধ করে দেওয়া হল দুই দেশের সেনাদের করমর্দন অনুষ্ঠান। বিএসএফের তরফে স্পষ্ট বার্তা, ভারতবাসীকে টার্গেট করা হয়েছে। আর তাই পাকিস্তানের সঙ্গে লোক দেখানো বন্ধুত্ব রাখবে না ভারত। রিট্রিট সেরেমনি তাই বন্ধ করে দেওয়া হল।
সামরিক রণসজ্জা ভারতের:
নয়াদিল্লির কূটনৈতিক স্ট্রাইকে এমনিতেই ভয়ে কাঁটা ইসলামাবাদ। তার উপর সামরিক স্তরেও ভারতের রণসজ্জা দেখে গুটিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান। আরব সাগরের বুকে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ভারতের গর্ব আইএনএস বিক্রান্ত। মধ্য সেক্টরে চলছে মিলিটারি এক্সেরসাইজ। সমুদ্রপথেও আইএনএস সুরাট থেকে ইতিমধ্যেই মধ্য পাল্লার সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল পরীক্ষা করা হয়েছে। অর্থাৎ, পহেলগাঁও-তে নিহতদের বিচারে পুরোদমে প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারত।
লস্কর কমান্ডার নিকেশ, জঙ্গিদের বাড়িতে বুলডোজার:
শুক্রবারই আবার বান্দিপোরায় লস্কর ই তৈবার শীর্ষ কমান্ডার আলতাফ লালিকে নিকেশ করেছে সেনা। সকালেই পহেলগাঁও হামলায় জড়িত কাশ্মীরি জঙ্গিদের বাড়িও ধ্বংস করেছে সেনা। আইইডি দিয়ে জঙ্গি আদিলের বাড়িতে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। বুলডোজার দিয়ে জঙ্গি আসিফ শেখের বাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। পাকিস্তানি দুই জঙ্গি আলি ভাই ও হাসিম মুসার স্কেচও প্রকাশ করা হয়েছে। এদের খোঁজ পেলে ২০ লক্ষ টাকা পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়েছে। দেশের কোণায় কোণায় এখন এদের বিরুদ্ধে তল্লাশি চলছে।
"মোদী হ্যায় তো মুমকিন হ্যায়"
কোনও ব্যবসায়িক অভিসন্ধি থেকে নয়। আজকের ভারত যথা সময়ে যথা যোগ্য, একেবারে সোজাসাপটা জবাবে বিশ্বাসী। প্রতিশোধ স্পৃহাকে দমিয়ে রাখার পুরোনো দিন শেষ। আজকের ভারত নতুন ভারত। আর তাই, নতুন ভারতের মেরুদণ্ড তৈরি ইস্পাত দিয়ে। অন্যায় হলেই যা দিয়ে আগুন ঝরবে।












Click it and Unblock the Notifications