মোদীর কেন্দ্র বেনারসে ছাত্রীর হেনস্থাকাণ্ডে কি মুখ পুড়ল বিজেপি-র, উঠছে নানা প্রশ্ন
দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মহিলা উন্নয়ন নিয়ে সরব হন নরেন্দ্র মোদী।
প্রধানমন্ত্রীর নিজের নির্বাচনী কেন্দ্র বারাণসী বেশ কয়েকদিন ধরেই উত্তপ্ত এক ছাত্রীর হেনস্থাকে কেন্দ্র করে। দিনে দিনে সেই ঘটনায় রাজনৈতিক রঙ গাঢ় হচ্ছে। ঘটনার জেরে যেভাবে ছাত্র আন্দোলন ঠেকাতে গিয়ে ছাত্রীদের ওপর পুলিশি লাঠিচার্জ হয়েছে, তা নিয়ে সরব হয়েছে বিজেপি বিরোধী সব কটি রাজনৈতিক দল। কংগ্রেসের তরফে রাহুল গান্ধী ঘটনাকে 'বিজেপি-র বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও-এর সংস্করণ ' বলে কটাক্ষ করেছেন।

দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মহিলা উন্নয়ন নিয়ে সরব হন নরেন্দ্র মোদী। কিন্তু রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে তাঁর 'বেটি বাঁচাও , বেটি পড়াও' অভিযান কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে মোদীর নিজের নির্বাচনী কেন্দর বারাণসীতেই। সেখানে বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে কিছুদিন আগে হেনস্থা করেন কয়েকজন বাইক আরোহী। ঘটনার বিষয়ে বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে , তারা উল্টে ওই ছাত্রীকে প্রশ্ন করে, যে তিনি কেন সন্ধ্যের পর বাইরে ঘুরছিলেন।
প্রথমত ছাত্রী হেনস্থা, তারপর তাঁকে উল্টে দোষারোপ এবং পরে বিষয়টির প্রতিবাদ করতে থাকা ছাত্রীদের ওপর পুলিশি লাঠিচার্জ; সবমিলিয়ে গোটা পরিস্থিতিতে মোদীর মহিলা উন্নয়নের উদ্যোগের মুখ পুড়েছে বলে ধারণা অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকের।
একটা সময়ে বিএইচইউ বা বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়কে ভারতের জাতীয় রাজনৈতিক চেতনার আঁতুর ঘর মনে করা হত। সেই জায়গায় এইভাবে পুরুষতন্ত্রের দাপাদাপি অনেকেই মেনে নিতে পারছেন না। এছাডা়ও মোদীর নিজেরই কেন্দ্রে তাঁর নিজের 'বেটি বাঁচাও , বেটি পড়াও' -এর উদ্যোগে যেভাবে কালিমা ঘষেছে বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তথা বিজেপি শাসিত উত্তরপ্রদেশ সরকার, তা বেশ লজ্জাজনক।
এর আগে, বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ে মহিলাদের হস্টেলে আমিষ বন্ধ করার জন্য সুপ্রিম কোর্টে পর্যন্ত যায় কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে লিঙ্গ ভেদাভেদের প্রতিবাদে মহিলাদের বিক্ষোভকেও কড়া হাতে দমন করে কর্তৃপক্ষ। তারপর ছাত্রীর যৌন হেনস্থা ও নতুন এই ছাত্র আন্দোলন। সবমিলিয়ে বেনারসের ছাত্র রাজনীতির সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিঃসন্দেহে ভাবাচ্ছে জাতীয় রাজনীতিকে।












Click it and Unblock the Notifications