গিলে বিপদে, পেট কেটে শেষে উদ্ধার ১২ সোনার বিস্কুট!

গল্পটা বেশ মজাদার। দিল্লির চাঁদনি চকের এক ব্যবসায়ী (নিরাপত্তার স্বার্থে নাম গোপন রাখা হল) দু'দিন আগে ডাক্তারকে গিয়ে বলেন, পেটে খুব ব্যথা করছে। অসাবধানতাবশত জলের বোতলের ছিপি গিলে ফেলেছেন। প্রথমে ডাক্তারবাবু তাই বিশ্বাস করেছিলেন। কিন্তু আলট্রাসোনোগ্রাফিতে দেখা যায়, পেটে কয়েকটি চকচকে জিনিস রয়েছে। চৌকো আকারের। আকার-প্রকারে জলের বোতলের ছিপির সঙ্গে কোনও মিল নেই। এবার ডাক্তার তাঁকে চেপে ধরেন। যা শোনেন, তাতে চক্ষু চড়কগাছ!
৬৩ বছরের ওই ব্যবসায়ীকে কাজের সুবাদে প্রায়ই বাইরে যেতে হয়। দিন পনেরো আগে সিঙ্গাপুর থেকে ফিরছিলেন। সঙ্গে ছিল ১২টি সোনার বিস্কুট। প্রতিটির ওজন ৩৩ গ্রাম। ভারতে বাজারদর অন্তত ১২ লাখ টাকা। কিন্তু বিমানে অতগুলো সোনার বিস্কুট নিয়ে উঠবেন কী করে! তল্লাশির সময় তো ধরা পড়ে যাবেন। ভেবেচিন্তে তিনি তাই একটা একটা করে সোনার বিস্কুট গিলেই ফেললেন! ভেবেছিলেন মলের সঙ্গে বেরিয়ে যাবে। তখন উদ্ধার করে নিলেই হল।
কিন্তু ঘুঘু দেখলেও ফাঁদ দেখেননি বাবাজীবন! ধাতব বিস্কুটগুলো পেটে অ্যায়সা সেঁধিয়ে গেল যে, আর বেরোতেই চায় না। কলা খেলে, মাখন খেলেন, ঘি খেলেন, গলা ভাত খেলেন, মায় জোলাপও খেলেন! বিস্কুট আর বেরোয় না। এদিকে পেটে ব্যথা বেড়েই চলেছে। ক্রমশ তা অসহ্য হয়ে উঠল। বাড়ির লোক প্রশ্ন করতে তাদেরও বললেন এক কথা, "জলের বোতলের ছিপি গিলে ফেলেছি।"
শেষে ডাক্তারি পরীক্ষায় ধরা পড়ে গেল। শ্রী গঙ্গারাম হাসপাতালের শল্য চিকিৎসক সি এস রামচন্দ্রন বলেন, "আমি ওঁকে সেই ১৯৮৯ সাল থেকে চিকিৎসা করছি। এর আগে গল ব্লাডার অপারেশন হয়েছে। তা ছাড়া নানা কারণে পেটে আরও তিনবার অপারেশন হয়েছে। খুবই ধনী ব্যবসায়ী। দুই ছেলে বাইরে থাকে। এই বয়সে কেন এমন করলেন, বুঝতে পারছি না।"
তিনি জানান, সোনার বিস্কুটগুলো ক্ষুদ্রান্ত্রে আটকে ছিল। বৃহদন্ত্র দিয়ে মলাশয়ে চলে গেলে বেরিয়ে যেত। কিন্তু আড়াআড়ি আটকে যাওয়ায় বিপত্তি ঘটে যায়। দু'ঘণ্টা অপারেশন চালিয়ে বিস্কুটগুলি বের করা হয়। ওই হাসপাতালের আর এক চিকিৎসক ধাওয়াল শর্মা বলেন, "পেট তো নয়, যেন মনে হচ্ছিল সোনার খনি থেকে সোনা বের করছি। ১২টা সোনার বিস্কুট ছিল।" তিনি আরও জানান, ক্ষুদ্রান্ত্রে আটকে থাকা বিস্কুটের অবস্থান জানতে মেটাল ডিটেক্টরের সহায়তা নিতে হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications