চিকিৎসকই ভগবান, জানালেন করোনা থেকে সুস্থ হয়ে ওঠা যুবতী
চিকিৎসকই ভগবান, জানালেন করোনা থেকে সুস্থ হয়ে ওঠা যুবতী
বিশ্বজুড়ে এখন আতঙ্কের একটাই নাম করোনা ভাইরাস। এই দেশেও করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এই পরিস্থিতিতে যখন প্রত্যেকেই লকডাউনের নিয়মে ঘরবন্দী হয়ে রয়েছেন, ঠিক তখনই দেশবাসীর কাছে ত্রাতা হয়ে দাঁড়িয়েছেন দেশের চিকিৎসকরা। মারণ রোগ করোনা থেকে এখন যাঁরা সুস্থ হয়ে উঠেছেন তার সমস্ত কৃতিত্বই দেশের চিকিৎসকদের। সেরকমই এক ২৩ বছরের যুবতী করোনা থেকে সুস্থ হয়ে জানিয়েছেন যে তিনি চিকিৎসকদের মধ্যেই ভগবানকে দেখতে পেয়েছেন, যাঁরা তাঁকে এই কোভিড–১৯ রোগের হাত থেকে বাঁচিয়েছেন। কলকাতার এক সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা চলছিল ওই যুবতীর। ১২ দিন চিকিৎসা চলাকালীন তাঁর মনোবল বাড়াতে সহায়তা করেন চিকিৎসকরা।

স্কটল্যান্ড থেকে ফিরে আইডি হাসপাতালে ভর্তি
ওই যুবতী স্কটল্যান্ডে পড়াশোনা করতে গিয়েছিলেন এবং ১৯ মার্চ কলকাতায় ফেরেন। কলকাতা বিমানবন্দরেই তাঁর ধরা পড়ে করোনার উপসর্গ, বিমানবন্দর থেকেই তিনি বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে চলে যান এবং করোনা সংক্রমণের পজিটিভ রিপোর্ট পাওয়া যায়। মঙ্গলবার তাঁকে আইডি হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

চিকিৎসকরাই ভগবান, জানান যুবতী
ওই যুবতী উত্তর ২৪ পরগণার হাবড়ার বাসিন্দা। তিনি বাড়ি ফিরে এসে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি শুনেছিলাম চিকিৎসকরা ভগবান হন। এবার সেটা আমি স্বচক্ষে দেখেনিলাম। আমি সত্যি তাঁদের কাছে কৃতজ্ঞ। রোজদিন আমায় চিকিৎসক ও রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিকরা মনোবল জোগাতেন এবং আমায় বলতেন যে এটা নিয়ে আতঙ্কিত না হতে এটা সাধারণ ফ্লু, সর্দি, কাশির মতোই একটা রোগ।' তিনি সকলের কাছে আর্জি জানিয়েছেন যে রাজ্য ও কেন্দ্রের সব নির্দেশ মেনে চলুন, যাতে করোনা ভাইরাসের প্রকোপ কমানো যায়। যুবতী বলেন, ‘মানুষের আতঙ্কিত হওয়ার দরকার নেই। তাঁরা শুধু পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুক ও লকডাউনের সব নিয়ম মেনে চলুক'।

কলকাতা বিমানবন্দরও যুবতীকে পরীক্ষা না করে ছেড়ে দেয়
যুবতী জানান, তিনি স্কটল্যান্ড থেকে ফিরে মুম্বই বিমানবন্দরকে জানিয়েছিলেন যে তাঁর জ্বর জ্বর ভাব মনে হচ্ছে এবং তিনি হোম কোয়ারান্টাইনে যেতে চান। যদিও তিনি দাবি করেন যে তাঁকে নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বোস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আটকানো হয়নি। যুবতী বলেন, ‘আমার শরীরে হাল্কা তাপমাত্রা ছিল বলে আমি প্যারাসিটামল খেয়েছিলাম। মুম্বই বিমানবন্দর থেকে আমায় হোম কোয়ারান্টাইনে যেতে বলে কিন্তু কলকাতা বিমানবন্দরে আমায় আটকানো হয়নি। আমি নিজে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে গিয়ে জানাই যে আমার জ্বর আছে। এরপর তারা আমায় আইডি হাসপাতালে গিয়ে পরীক্ষা করার পরামর্শ দেয়। আমি হাসপাতালে যাই কারণ আমার বাড়িতে ভাই রয়েছে আর আমি চাই না তারও সংক্রমণ হোক।'

স্কটল্যান্ডে যুবতীর করোনা টেস্ট হয়নি
স্কটল্যান্ড থেকে চলে আসার সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রসঙ্গে যুবতী বলেন, ‘আমার বন্ধুরাও তাঁদের বাড়ি ফেরার জন্য স্কটল্যান্ড ছাড়তে শুরু করে। আমি যখন স্কটল্যান্ড কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করি তাঁরা পরীক্ষা করতে চায় না এবং আমায় হোম কোয়ারান্টাইনে যেতে বলে। তাই আমি ভাবলাম বাড়ি ফিরে যাই অন্তত পশ্চিমবঙ্গে চিকিসা পাব।' স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে জানা গিয়েছে যে ওই যুবতীকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হলেও তাঁকে ১৫দিনের জন্য বাড়িতে থাকতে বলা হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications