দিশেহারা যুবসমাজ, লকডাউনের একবছর পরেও ক্রমবর্ধমান বেকারত্বে জেরবার গোটা দেশ
দিশেহারা যুবসমাজ, লকডাউনের একবছর পরেও ক্রমবর্ধমান বেকারত্বে জেরবার গোটা দেশ
গত বছরের ২৫শে মার্চ দেশজুড়ে প্রথমবারের জন্য জারি হয় সম্পূর্ণ লকডাউন। বন্ধ হয়ে যায় ব্যবসা-বাণিজ্য। গত এক বছর যাবৎ সংগঠিত-অসংগঠিত, সকল ক্ষেত্রেই চাকরির টানাটানির মাঝে তলানিতে ঠেকেছিল ভারতীয় অর্থনীতি। সেই দূরবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও ভারতে বেকারত্বের হার যে ক্রমবর্ধমান, তা স্পষ্ট সাম্প্রতিক কিছু রিপোর্টেই। কেন্দ্রীয় অর্থনৈতিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা (সিএমআইই) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে বেকারত্বের হার ৭.৮% থাকলেও চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তা কমে হয়েছে ৬.৯%। যদিও এ ফল যে আশাপ্রদ নয়, তা সাফ জানিয়েছেন অর্থনীতি বিশেষজ্ঞরা।

বেকারত্ব বৃদ্ধিতে লকডাউনের প্রভাব
কোভিডের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে বেকারত্বের হার গত বছরের এপ্রিলে পৌঁছায় ২৩.৫%-এ! যদিও জুলাইয়ে তা কমে হয় ৭.৪%। সিএমআইইর তথ্যানুযায়ী, গত বছরের ডিসেম্বরে বেকারত্বের হার ৯.১% থেকে এ বছরের জানুয়ারিতে কমে হয় ৬.৫! যদিও বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতে বেকারত্বের হার কমাতে গেলে দরকার লাগাতার পর্যবেক্ষণ। কেন্দ্রের তরফে কড়া ব্যবস্থা ও ফলপ্রসূ প্রকল্প গ্রহণ করা হলেও কলকারখানা ও কৃষিক্ষেত্রে নিয়মানুযায়ী প্রকল্প বাস্তবায়ন না করাতে যে বেকারের সংখ্যা বৃদ্ধি হচ্ছে, তা জানিয়েছে সিএমআইই।

কতটা ফলদায়ক হল আত্মনির্ভর ভারত রোজগার যোজনা ?
কেন্দ্রের তথ্যানুযায়ী, গত বছরের অক্টোবরে দেশ জুড়ে চালু হওয়া আত্মনির্ভর ভারত রোজগার যোজনার (এবিআরওয়াই) আওতায় প্রায় ১৬.৫ লক্ষ মানুষ সুফল পেয়েছেন। পাশাপাশি নানা ক্ষেত্রের কর্মচারীদের উপর থেকে অর্থনৈতিক বোঝা সরানোর ক্ষেত্রে এই প্রকল্পের আওতায় কাজ করা শুরু করে কর্মচারী প্রভিডেন্ট ফান্ড সংস্থা (ইপিএফও)। এবিআরওয়াইয়ের আওতায় কর্মচারী ও মালিক, দু'পক্ষেরই প্রায় ১২% পর্যন্ত অংশীদারিত্ব বহনের দায়িত্ব কেন্দ্র নিলেও, তা কতদূর ফলদায়ক হয়েছে সে বিষয়ে বিস্তর ধোঁয়াশা রয়েছে, এমনই মত আর্থিক বিশেষজ্ঞদের।

সঠিক কৌশলের অভাবে প্রকল্প বাস্তবায়নে সমস্যা
আত্মনির্ভর ভারত রোজগার যোজনার আওতায় দু'বছরের মধ্যে ৫০-৬০ লক্ষ কর্মসংস্থানের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছিল কেন্দ্র। যদিও সঠিক কৌশলের অভাবে যোজনা বাস্তবায়নে যে বিস্তর ত্রুটি থেকে গেছে, তা স্বীকার করে নিয়েছেন কেন্দ্রীয় শ্রম ও মজুর বিভাগের আধিকারিকরা। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ যোজনার (পিএমজিকেওয়াই) আওতায় ২০২০-এর মার্চ-আগস্টের মধ্যে কর্মচারী ও মালিকপক্ষের বেতন সরবরাহের দায়িত্ব নেয় কেন্দ্র। কেন্দ্রের হিসাবে, উক্ত খাতে প্রায় ৩৮.৮২ লক্ষ ইপিএফ অ্যাকাউন্টে মোট ২,৫৬৭.৬৬ কোটি টাকা প্রদান করেছে মোদি সরকার।

আশঙ্কা বাড়ছে ইপিএফও-র তথ্য ও
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইপিএফও-র তথ্যেও কর্মসংস্থানের হাল-হকিকত বেশ স্পষ্ট। কেন্দ্রীয় সূত্রে খবর, ইপিএফও পেরোল তথ্যানুযায়ী গত বছরের জানুয়ারির তুলনায় প্রায় ২৮% বেড়েছে রিটায়ারমেন্ট তহবিলে নাম নথিভুক্তির সংখ্যা। পাশাপাশি তথ্য এও দেখিয়েছে যে, চলতি অর্থবছরের প্রথম দশ মাসে ইপিএফও প্রায় ৬২.৪৯ লক্ষ নতুন সাবস্ক্রাইবারকে নথিভুক্ত করেছে, যদিও ২০১৯-২০-তে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ৭৮.৫৮ লক্ষ!












Click it and Unblock the Notifications