রাজরানীর জেদ থেকে শুরু হয় রাজস্থানের 'ধিঙ্গা গাভার' উৎসব! নেপথ্যে রয়েছে কোন পৌরাণিক ঘটনা
রাজরানীর জেদ থেকে শুরু হয় রাজস্থানের 'ধিঙ্গা গাভার' উৎসব! নেপথ্যে রয়েছে কোন পৌরাণিক ঘটনা
এই বিচিত্র দেশের পরতে পরতে রয়েছে বহু ধরনের নানান মনগ্রাহী কহিনি। গোটা ভারত জুড়ে এমন বহু উৎস গড়ে উঠেছে, বা পরম্পরা মফিক তা পালত হয়েছে , যার খোঁজ হয়তো সকল ভারতবাসী পাননি। এদেশে বহু প্রান্তিক বা আঞ্চলিক নানান ধরনের উৎসব রয়েছে। যার নেপথ্যে কখনও রয়েছে অজানা ইতিহাস , আবার কখনও রয়েছে অদ্ভুত কিছু ঘটনা। রয়েছে বহু পৌরাণিক কাহিনি । এমনই একটি কাহিনি হল রাজস্থানের 'ধিঙ্গা গাভার' উৎসব। একনজরে দেখা যাক, আসলে ঠিক কী এই উৎসব? নেপথ্যে রয়েছে কোন কাহিনি?

যোধপুরের বুকের ধিঙ্গা গাওয়ার উৎসব
মূলত, সমাজে নারীর স্থান কতা উপরে তা প্রকাশ করতেই এই ধিঙ্গা গাভার উৎসবের প্রচলন হয়েছে। রাজস্থানের মহিলারা ওই উৎসবে অংশ নিয়ে নানান সময় বহু ধরনের সাজসে নিজেকে সজ্জিত করেন। মূলত শিব-পাবর্তীর এক পৌরাণিক কাহিনি কথা অবলম্বন করে এই এলাকায় ধিঙ্গা গাভার উৎসব পালিত হয়। যেখানে গোটা রাত জেগে মহিলারা বিভিন্ন দেবদেবীর সাজে নিজেকে সাজান। আর রক্ষা করেন ধিঙ্গা গাভারের মূর্তি।

রাজ রানীর জেদ ও রাজস্থানের উৎসব
কথিত রয়েছে নারীশক্তির পুজোই মূলত উদ্দেশ্য ধিঙ্গা গাভার উৎসবের। উদয়পুরের মাহারাণ রাজসিং আব্বাল নিজের ছোট রানীকে তুষ্ট করতে এই উৎসবের প্রচলন করেন। এর আগে ছোটরানী ছিলেন যোধপুরের রাজকুমারী। পরে তিনি মেবারের রানী হয়ে আসেন। কথিত রয়েছে মেবারের রাজাকে সেই সময় এই ধিঙ্গা গাভার উৎসবের প্রচলন করার কথা বলেন রানী। শুধু তাই নয় । উৎসব নিয়ে জেদ ধরে বসে থাকেন তিনি। এরপর রাজা কোনও উপায় না পেয়ে শেষে স্ত্রীর জেদের কাছে হার মানেন! শুরু হয় মেবারে ধিঙ্গা গাভার । শোনা যায়, মেবার থেকে সেই উৎসব আসে রানীর বাপের বাড়ির এলাকায়। ফলে যোধপুরে আরও ধুমধাম সহকারে করা হয় ধিঙ্গা গাভার উৎসব।

পুরুষদের মারধর করেন মহিলারা!
কার্যত রাজস্থানের রঙিন এক উৎসবের মধ্যে পড়ে এই ধিঙ্গা গাভার উৎসব। এখানে অবিবহিত মহিসারা অবিবাহিত পুরুষদের লাঠির বাড়ি প্রথা মেনে মারেন! অবাক হলেও এটাই প্রথা। এই সময় পরম্পরা মেনে বহু যুগ ধরে পুরুষদের মারধর করার নিয়ম রয়েছে। ১৬ দিনের ধিঙ্গা গাভার উৎসবে মহিলারা বিভিন্ন রকমের আকর্ষণীয় সম্মোহনী সাজে সেজে পুরুষদের নজর কাড়েন। মনে করা হয়, এই উৎসবে কোনও মহলার কাছে যদি কোনও অবিবাহিত পুরুষ মার খান ,তাহলে এক বছরের মধ্যে এই পুরুষের বিয়ে সম্পন্ন হবে। এই ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে বহু প্রচলিত এক পৌরাণিক কাহিনি।

শিব পার্বতীর কাহিনি
রাজস্থানের এই ধিঙ্গা গাভার উৎসবের নেপথ্যে রয়েছে এক পুরনো কাহিনি। মনে করা হয়, একবার মুচির বেশে শিব অবতীর্ণ হন মর্ত্যে। আর তা তিনি করেন পার্বতীর নজর কাড়তে। এদিকে, পার্বতীও স্বামীর ছলনার কাছে হেরে যাননি। পরে পার্বতীও সেজে ফেলেন ভিল উপজাতির সাজ। পরে সেই প্রেম কাহিনি অবলম্বন করেই এই উৎসব ধিঙ্গা গাভার পালিত হয়। এই উৎসবে মাতৃশক্তির এর অমোঘ বন্দনা পালিত হয়।

উৎসবের বিশেষ আকর্ষণ
সাধরাণত বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেখা যায় যে উৎসেবর সঙ্গেবিবা জড়িত রয়েছে শাস্ত্র মতে সেখানে বিধবা মহিলাদের উপস্থিত থাকতে বারণ করা হয়। তবে এই ধিঙ্গা গাভার উৎসবে বিধবা মহিলারা পুজো করতে পারেন। এই অধিকার মেবারের রাজার আমল থেকেই প্রচলিত রয়েছে বলে জানা যায় । এই বিশেষ উৎসবে মহিলারা রাস্তায় নেমে সংঘবদ্ধভাবে এগিয়ে যান, নানান ধরনের সাজ সজ্জা নিয়ে। লাঠি হাতে এই সময় কার্যত দাপটের সঙ্গে চলেন রাজস্থানের মহিলারা। এই মহিলাদের রাস্তা আটকে যে ব্যক্তি আসেন, তাঁকেই মারধর করা হয় লাঠি দিয়ে। যুগযুগ ধরে এই রীতিই প্রচলিত। উৎসবের রীতি অনুযায়ী সূর্যাস্তের পর পুরনো যোধপুর শহরের বিভিন্ন স্থানে ১১ টি ধিঙ্গা গাভারার মূর্তি স্থাপন করা হয়। প্রতিটি দেবীর মূর্তিতে প্রায় ৫ কেজি থেকে ৩০ কেজি পর্যন্ত সোনার গয়না থাকে। এক বিশেষ ধরনের প্রসাদ এই দিন দেবীকে অর্পণ করা হয়। এই বিশেষ ধরনের প্রসাদকে বলা হয় মোই। এতে দই , শুকলো ফল ও বিশেষ ধরনের একটি পাতা দেওয়া থাকে।












Click it and Unblock the Notifications