কাপড় খোলাই শেষ নয়, মার্কিন নোংরামির আরও কাহিনী বললেন দেবযানী

গতকাল পর্যন্ত জানা গিয়েছিল, ভিসা জালিয়াতির অভিযোগে নিউ ইয়র্কে নিযুক্ত ভারতের ডেপুটি কনসাল জেনারেল দেবযানী খোবরাগাডের কাপড় খুলে তল্লাশি চালিয়েছে মার্কিন পুলিশ। এর জেরে তোলপাড় হয়ে যায় গোটা ভারত। কেন্দ্র পাল্টা কিছু ব্যবস্থা নেয়। কিন্তু, এদিন দেবযানী খোবরাগাডের পাঠানো ই-মেইল থেকে দেখা যাচ্ছে, অপমান তাতেই শেষ হয়নি। হাতকড়া পরিয়ে জনসমক্ষে তাঁকে পুলিশের গাড়িতে তোলা হয়। তার পর কী হল?
দেবযানী জানাচ্ছেন, "আমি স্বীকার করছি যে, আমি ভেঙে পড়েছিলাম। আমাকে হাজতে রাখা হয়েছিল অপরাধী, মাদকাসক্তদের সঙ্গে। আমি আমার কূটনীতিক রক্ষাকবচের কথা বারবার বললেও ওরা শোনেনি। সবার সামনে আমার পোশাক খুলে তল্লাশি চালায়। জোর করে আমার শরীর থেকে ডিএনএ-র নমুনা সংগ্রহ করে। ক্যাভিটি সার্চ চালায়। লজ্জায়, অপমানে আমি কুঁকড়ে যাচ্ছিলাম। কিন্তু, নিজের দেশের কথা ভেবে নিজেকে সংযত রাখতে হয়েছিল। আমার সঙ্গে ওরা অশ্লীল ভাষায় কথা বলছিল।" তাঁর এই স্বীকারোক্তির পর আরও খাপ্পা হয়ে গিয়েছে আইএফএস অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটির দাবি, লিখিতভাবে আমেরিকা নিঃশর্ত ক্ষমা চাক। নইলে আমেরিকার বিরুদ্ধে আরও কঠোর কূটনীতিক পদক্ষেপ নিতে হবে ভারত সরকারকে।
প্রসঙ্গত, ডিএনএ পরীক্ষা ও রন্ধ্র তল্লাশি বা ক্যাভিটি সার্চ হল অপরাধতত্ত্বের দু'টি তদন্তমূলক অঙ্গ। ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে অপরাধীদের সম্পর্কে তথ্যভাণ্ডার বা ডেটা বেস বানানো হয়। পরবর্তী ক্ষেত্রে তাতে অপরাধী শনাক্ত করতে সুবিধা হয়। আর ক্যাভিটি সার্চ করা হয় চোর, চোরাচালানকারীদের ক্ষেত্রে। 'ক্যাভিটি' কথার অর্থ হল রন্ধ্র। পেশাদার অপরাধীরা শরীরের বিভিন্ন রন্ধ্র যেমন, নাকের ফুটো, কানের ফুটো, মুখগহ্বর, পায়ুছিদ্র, যোনিগহ্বর ইত্যাদি জায়গায় মাদক, সোনা লুকিয়ে রাখে। তাই এভাবে তল্লাশি চালানো হয়।
ক্যাভিটি সার্চ আবার দু'ধরনের হয়। ভিসুয়াল এবং ম্যানুয়াল। ভিসুয়াল পদ্ধতিতে শরীরে বিভিন্ন রন্ধ্রে জোরালে আলো ফেলে দেখা হয়, ভিতরে কিছু লুকিয়ে রাখা আছে কি না। আর ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে আঙুল বা চিমটে ঢুকিয়ে খোঁজা হয় নিষিদ্ধ জিনিস। ভিসা জালিয়াতির মামলায় কাউকে ক্যাভিটি সার্চ করা হচ্ছে, এ ঘটনা বিরলতম। তাও এক্ষেত্রে এমন একজন যিনি বিদেশি দূত। চোরাচালানকারী কিংবা দাগি অপরাধী নন।












Click it and Unblock the Notifications