সেনার সঙ্গে ঠান্ডা লড়াইয়ের মাঝেই আজ রাজ্যপালকে সরকার গঠনের আর্জি জানাবেন ফড়নবিশ
মুখ্যমন্ত্রিত্ব ও মন্ত্রক বন্টণ নিয়ে বিজেপি এবং সেনার মধ্যে ঠান্ডা লড়াইয়ের মধ্যেই আজ রাজ্যপাল ভগত সিং কোশিয়ারির সঙ্গে দেখা করে মহারাষ্ট্রে সরকার গঠনের আবেদন জানাবেন দেবেন্দ্র ফড়নবিশ।
মুখ্যমন্ত্রিত্ব ও মন্ত্রক বন্টণ নিয়ে বিজেপি এবং সেনার মধ্যে ঠান্ডা লড়াইয়ের মধ্যেই আজ রাজ্যপাল ভগত সিং কোশিয়ারির সঙ্গে দেখা করে মহারাষ্ট্রে সরকার গঠনের আবেদন জানাবেন দেবেন্দ্র ফড়নবিশ। জানা গেছে শুধুমাত্র বিজেপি নয়, সেনা শিবিরেরও একটি প্রতিনিধি দল আজ দেখা করতে পারে রাজ্যপালের সঙ্গে।

ফিফটি-ফিফটি ফর্মুলা নিয়ে ঠান্ডা লড়াই
সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে বিজেপি-সেনা জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও সরকার গঠনের প্রসঙ্গ ঝুলে সেই মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সি নিয়ে টানাপোড়নের মধ্যে। সরকার গঠন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া যাচ্ছে না। মুখ্যমন্ত্রিত্বের প্রসঙ্গে জলঘোলা শুরু হতেই জোটের ভবিষ্যত নিয়েও উঠে গেছে প্রশ্ন। বিজেপি শিবিরের খবর, শিবসেনাকে মুখ্যমন্ত্রিত্ব ছাড়ার প্রশ্নই আসে না। যদিও সেনা শিবির তাদের ফিফটি-ফিফটি ফর্মুলায় অনড়।

লিখিত নিশ্চয়তা চেয়ে সুর চড়ায় সেনা শিবির
এর আগে শনিবার শিবসেনার বিধায়করা মাতোশ্রীতে বৈঠকে বসেন। বৈঠক শেষে শিবসেনা বিধায়ক প্রতাপ সারনায়ক সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, "লোকসভার আগে অমিত শাহজী আমাদের ফিফটি ফিফটি ফর্মুলার বিষয়ে আশ্বস্ত করেছিলেন। সেই মতে দুটো দলেরই আড়াই বছর করে সরকার চালানোর সমান অধিকার থাকা উচিৎ। শিবসেনার পক্ষ থেকেও আড়াই বছর মুখ্যমন্ত্রী থাকা উচিৎ। এই ক্ষেত্রে আমরা উদ্ধাবজীকে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের থেকে লিখিত ভাবে নিশ্চয়তা আদায়ের কথা বলেছি।" তাঁরা আরও জানিয়েছিলেন, লিখিত এই প্রতিশ্রুতিতে সাক্ষর করতে হবে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ অথবা দেবেন্দ্র ফড়নবিশকে।

বিজেপি-র ফর্মুলাতে সেনা শিবিরে কমবে মন্ত্রীর সংখ্যা
গত নির্বাচনে আলাদা লড়েছিল দুই দল। এরপর কোনও দল সংখ্যাগরিষ্টতা না পাওয়ায় জোট গঠন করে সরকার চালায় দুই দল। ২০১৪ সালে মন্ত্রিত্ব বন্টণের ক্ষেত্রে বিধায়কদের সংখ্যার অনুপাতের ফর্মুলা গ্রহণ করেছিল বিজেপি-সেনা জোট। প্রতিটি ১২ জন বিধায়কের জন্য একজন করে পূর্ণ মন্ত্রী ও ৬ জন বিধায়কের জন্য থাকবে একজন করে জুনিয়র মন্ত্রী। এই সমীকরণেই মন্ত্রিসভা গঠন করে পাঁচ বছর সরকার চালান দেবেন্দ্র ফড়নবিশ। এই বারও বিজেপি সেই ফর্মুলায় সরকার গঠনের কথা বলছে। এদিকে গতবারের তুলনায় ৭ ও ১৭টি আসন কম পেয়েছে। সেই হিসাবে গতবারের ১৮ জন মন্ত্রীর জায়গায় বিজেপির হওয়ার কথা ১৭ জন মন্ত্রী। অপর দিকে সেনার মন্ত্রী সংখ্যা একজন কমে দাঁড়াবে পাঁচ-এ।

শেষ ভরসা অমিত শাহ
এদিকে শুক্রবার সেনা প্রধান উদ্ধব ঠাকরেকে ফোন করে মহারাষ্ট্রে জোটের জয়ের জন্য শুভেচ্ছা জানান বিজেপির সর্বভারতীয় প্রেসিডেন্ট অমিত শাহ। তবে সরকার গঠনের বিষয়ে দীপাবলীর পর আলোচনা হবে বলে উদ্ধবকে জানান তিনি। তবে শিবসেনা জানাচ্ছে, তারা আশা করে ছিল যে অমিত শাহ মুখ্যমন্ত্রিত্ব নিয়ে জোটের জট কাটাবেন। তবে আজ ফড়নবিশ সরকার গঠনের দাবি জানালে জোটের মোর কোন দিকে ঘোরে সেটাই দেখার।

সেনাকে চাপে রাখতে বিক্ষুব্ধদের দলে ফেরাচ্ছে বিজেপি
শিবসেনাকে চাপে রাখতে বিজেপি আরও একটা কৌশলের অবলম্বন নিয়েছে। তা হল, বিক্ষুব্ধ বিধায়কের ঘর ওয়াপসি। বিজেপির দাবি মোট ১৫ জন বিক্ষুব্ধ বিধআয়ক দলে ফেরার বিষয়ে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। ইতিমধ্যেই তিনজন বিধায়ক তাঁদের বিজেপিকে নিস্বার্থ সমর্থন দেওয়ার কথা ঘোষণাও করে দিয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications