অপমানের প্রতিশোধ! আড়াই বছরের চেষ্টায় মহারাষ্ট্র সরকারের রাশ ফড়নবীশের হাতে
অপমানের প্রতিশোধ! আড়াই বছরের চেষ্টায় মহারাষ্ট্র সরকারের রাশ ফড়নবীশের হাতে
মহারাষ্ট্রে প্রায় ১০ দিনের রাজনৈতিক অস্থিরতার পারদ বেশ খানিকটা নেমেছে। মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন উদ্ধব ঠাকরে। তার ঠিক ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বিজেপি নেতা দেবেন্দ্র ফড়নবীশ মহারাষ্ট্রের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শিবসেনার বিদ্রোহী বিধায়ক একনাথ শিন্ডের নাম ঘোষণা করেন। মহারাষ্ট্রে রাজনৈতিক অস্থিরতার নেপথ্যে যে দেবেন্দ্র ফড়নবীশের কৌশল কাজ করেছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

আড়াই বছর আগের অপমানের প্রতিশোধ
২০১৯ সালের মহারাষ্ট্রে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর ক্ষমতা বাটোয়ারা নিয়ে বিজেপির সঙ্গে শিবসেনার দ্বন্দ্ব শুরু হয়। শিবসেনা দাবি করেছিল, আড়াই বছর বিজেপি ক্ষমতায় থাকবে, আড়াই বছর শিবসেনা। কিন্তু সেই দাবি বিজেপি মানেনি। এরপরেই শিবসেনা জোট থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেয়। শিবসেনার সঙ্গে যখন এনসিপি ও কংগ্রেসের জোট যখন চূড়ান্ত পর্যায়, দেবেন্দ্র ফড়নবীশ মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে রাজ্যপালের কাছে শপথ বাক্য পাঠ করেন। এনসিপির বিধায়ক অজিত পাওয়ার উপমুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ বাক্য পাঠ করেন। শপথ বাক্য পাঠের আগে এই খবর কাক পক্ষীও টের পায়নি। কিন্তু দেবেন্দ্র ফড়নবীশ শপথ বাক্য পাঠ করলেও মন্ত্রিসভা গঠন করতে পারেননি। অজিত পাওয়ার ফের এনসিপির কাছে চলে যান। মহা বিকাশ আঘাদি জোটের সঙ্গে সরকার গঠন করে। সেই সময় আপমানিত দেবেন্দ্র ফড়নবীশ ক্ষমতা ফিরবেন বলে প্রকাশ্যে প্রতিজ্ঞা করেন। সেই অপমানেরই যেন বদলা নিলেন তিনি। আড়াই বছর পর আজ তিনি ফের মহারাষ্ট্র সরকারের কাণ্ডারী।

আড়াই বছরের গোপন আঁতাত
মহা বিকাশ আঘাদি জোটের প্রতিটি কৌশলের ওপর প্রখর নজর ছিল দেবেন্দ্র ফড়নবীশ। যদিও সেই সময় বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ২০১৯ সালের ঘটনার পুরনাবৃ্ত্তি যেন না হয়। অমিত শাহ ঘনিষ্ট দেবেন্দ্র ফড়নবীশের কূটনৈতিক বুদ্ধিতে আস্থা বিজেপির নেতৃত্বের ছিল। অন্যদিকে, ২০১৯ সালের অপমানের পর দেবেন্দ্র ফড়নবীশ মহা বিকাশ আঘাদি জোট ভাঙার পরিকল্পনা করতে থাকেন। তিনি শিবসেনার নেতা বিধায়কদের সঙ্গে তিক্ত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়লেও প্রবীণ নেতা একনাথ শিন্ডের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে ঘনিষ্ট ছিলেন। যার ফলে মহা বিকাশ আঘাদি জোট নিয়ে শিবসেনার একাংশের অসন্তোষের খবর তিনি সহজেই পেতেন।

একনাথ শিন্ডের সহযোগিতা
মহা বিকাশ আঘাদি জোট নিয়ে একনাথ শিন্ডের ক্ষোভ ও বিজেপির প্রতি দূর্বলতাকেই কাজে লাগান দেবেন্দ্র ফড়নবীশ। মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন দেবেন্দ্র ফড়নবীশের ঘনিষ্ট হিসেবে পরিচিত ছিলেন একনাথ শিন্ডে। একজন ভালো সংগঠক হিসেবে বিজেপি নেতারা দেবেন্দ্র ফড়নবীশকে পছন্দ করতেন। তাঁর কাছ থেকেই একনাথ শিন্ডে পার্টি লাইন আপ ভালো করে শেখেন। উদ্ধব ঠাকরের সঙ্গে যখন শিবসেনার বিধায়করা দেখা করতে পারতেন না, তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন শিন্ডে। তাঁদেরকে শিবসেনার বিদ্রোহী করে নিজের দলে টানতে থাকেন একনাথ শিন্ডে।

অসন্তোষের আগুন হাতিয়ার দেবেন্দ্র ফড়নবীশের
যাঁরা ঘনিষ্টভাবে কাজ করেছেন, তাঁরা সকলেই একবাক্যে ফড়নবীশের বুদ্ধির প্রশংসা করেছেন। দেবেন্দ্র ফড়নবীশের ঘনিষ্ট সূত্রের দাবি, মানুষের আবেগ তিনি বুঝতে পারেন। মানুষের আবেগকে হাতিয়ার করে কাজ করানোর বিষয়ে দক্ষ কারিগর তিনি। তাই শিবসেনার অভ্যন্তরে অসন্তোষকে তিনি হাতিয়ার করলেন। ৪০ জন সেনা বিধায়ককে তিনি দলের মধ্যেই বিদ্রোহী করে তুললেন। তাঁদের সাহায্যেই মহারাষ্ট্রে ক্ষমতায় ফিরলেন। শিবসেনার আবেগের পারদ বেশ খানিকটা বাড়িয়ে একনাথ শিন্ডেকে মুখ্যমন্ত্রী করলেন।

সুদক্ষ প্রশাসক
চতুর কূটনীতিকের সঙ্গে দেবেন্দ্র ফড়নবীশ সুদক্ষ প্রশাসক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ২০১৭ সালে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন দেবেন্দ্র ফড়নবীশ কৃষকদের ৩৪ হাজার কোটি টাকার ঋণ মুকুব করে দিয়েছিলেন। পাশাপাশি কৃষক বান্ধব বেশ কয়েকটি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন। ২০১৯ সালের মধ্যে তিনি মহারাষ্ট্রকে ক্ষরামুক্ত রাজ্য করার লক্ষ্যে একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। মেট্রোরেলের বিষয়ে একাধিক কার্যকরী সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন দেবেন্দ্র ফড়নবীশ।












Click it and Unblock the Notifications