লাগামছাড়া তাপপ্রবাহে জেরে ধাক্কা খাচ্ছে ভারতের উন্নয়ন, কেমব্রিজের গবেষণায় চাঞ্চল্যকর তথ্য
HeatWave: গরম বাড়ছে প্রতিনিয়ত। তাপপ্রবাহে ওষ্ঠাগত প্রাণ। এসি-ফ্যান চালিয়ে স্বস্তি খুঁজছেন সাধারণ মানুষ। তবে তাতেই শেষ নয়। এই তাপপ্রবাহের প্রভাব ভারতের ওপর আরও ভয়ঙ্কর বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কেমব্রিজের এক গবেষণায় উঠে এসেছে সেই তথ্য। ভারতের উন্নয়নের পথে নাকি বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে এই তাপপ্রবাহ।
গবেষণা বলছে, ভারতের জনসংখ্যার ৯০ শতাংশ হয় স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যায় ভুগছে, নাহলে খাদ্যাভাবে কষ্ট পাচ্ছে। মৃত্যুও বাড়ছে। আর এসবের পিছনে কারণ হিসেবে তাপপ্রবাহের কথাই উল্লেখ করা হচ্ছে।

কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই সমীক্ষায় আরও বলা হয়েছে, এশিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ ভারত এই তাপপ্রবাহের বিষয়টাকে খুব গুরুত্ব দিয়ে দেখছে না। তাপপ্রবাহ কতটা প্রভাব ফেলছে, সে হিসেব নাকি রাখছে না কেন্দ্রীয় সরকার! এমনটাই দাবি করা হয়েছে সমীক্ষায়।
চলতি এপ্রিল মাসে ভারতের আবহাওয়া দফতর একাধিক রাজ্যে কমলা সতর্কতা জারি করেছে। সেই তালিকায় রয়েছে বিহার, ঝাড়খণ্ড, ওডিশা, অন্ধ্রপ্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ। আর ওই সব রাজ্যে শ্রমিকেরা প্রবল গরমেও বাধ্য হয়েছে বাইরে বেরিয়ে কাজ করতে। তাপমাত্রা ও আর্দ্রতাকে তোয়াক্কা না করেই কাজ করতে হয়েছে তাঁদের।
গবেষকরা উল্লেখ করেছেন, এই দেশের জনগণের ক্ষেত্রে প্রবল গরমের কারণে বেড়েছে ঝুঁকি। যা নাকি আবহাওয়া পরিবর্তনের থেকেও ভয়ঙ্কর। কোন কোন এলাকায় পরিস্থিতি সবথেকে খারাপ, তা সরকার চিহ্নিত করতে সমর্থ হচ্ছে না সরকার, এমনই দাবি গবেষণায়।

এই গবেষণা পত্রের অন্যতম গবেষক রমিত দেবনাথ উল্লেখ করেছেন, যে সব জায়গার মানুষ তারপ্রবাহের কারণে সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন, সেই জায়গাগুলিকে চিহ্নিত করতে হবে। সেই সব জায়গায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রয়োজনীয় ব্য়বস্থা নিতে হবে।

সাম্প্রতিককালে ভারতে তাপপ্রবাহের মাত্রা অত্যন্ত বেড়ে গিয়েছে। গত কয়েক বছর ধরেই তার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় উষ্ণতার পারদ চড়ছে চড়চড় করে। পশ্চিমবঙ্গেও অবস্থা খুবই শোচনীয়। বৃহস্পতিবার এ রাজ্যের বাঁকুড়ায় তাপমাত্রা ৪৪ ডিগ্রি ছাড়িয়ে গিয়েছে। সেটাই ছিল দেশের সর্বাধিক তাপমাত্রা।
কলকাতাতেও তাপপ্রবাহের মাত্রা বেড়েছে। বিদ্যুতের চাহিদাও বাড়ছে পাল্লা দিয়ে। গত কয়েকদিনে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে হু হু করে। এ বিষয়ে রাজ্যগুলিকে কেন্দ্র সতর্ক করেছে। প্রশাসনও নজর রাখছে এ বিষয়ে। খুব প্রয়োজন না হলে দুপুরে বাড়ি থেকে বেরতে নিষেধ করা হয়েছে। সতর্ক থাকতে বলেছেন চিকিৎসকরা।












Click it and Unblock the Notifications