লোকসভায় মমতার কর্মোদ্যোগের প্রশংসা প্রধানমন্ত্রীর, বোঝাপড়ার অভিযোগ তুলল সিপিএম

রাষ্ট্রপতির বক্তৃতার ওপর জবাবি ভাষণ দিতে গিয়ে এ দিন প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আমি সব সময় সহযোগিতামূলক যুক্তরাষ্ট্রের কথা বলেছি। যেখানে রাজ্যগুলি পরস্পরের থেকে শিখবে। কেন্দ্রীয় সরকারও রাজ্যের থেকে শিখতে পারে। ভালো কাজকে সব সময় স্বাগত জানাতে হবে। কোনও রাজ্যে যদি অন্য দলের সরকারও থাকে, তবুও তারা ভালো কাজ করলে আমার শিখতে আপত্তি নেই। ছোট্ট রাজ্য সিকিম পরিবেশ সংরক্ষণে খুব ভালো কাজ করছে। সিকিম সরকার সেখানকার কৃষকদের জৈব পদ্ধতিতে চাষ করতে শিখিয়েছে। বৃষ্টির জল ধরে রেখে কীভাবে তাকে কাজে লাগাতে হয়, দেখিয়েছে তামিলনাড়ু। বাংলার উদাহরণও নিন। ৩৪ বছরে রাজ্যটার কী দুর্দশা হয়েছিল! সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের উন্নয়নে কঠোর পরিশ্রম করছেন।"
আজকের ভাষণে নরেন্দ্র মোদী যেন স্বপ্নের ফেরিওয়ালা। কীভাবে দেশে কৃষিজ উৎপাদন বাড়বে, দেশের বিপুল যুবশক্তিকে কীভাবে কাজে লাগাতে হবে ইত্যাদির রূপরেখা বাতলান। ভাষণের একটা বড় অংশ জুড়ে ছিল নারী নির্যাতন নিয়ে উদ্বেগ। বলেছেন, "রাজনীতিবিদদের বলব, ধর্ষণের মানসিক কারণ খোঁজার চেষ্টা বন্ধ করুন। রাজ্য সরকারগুলির দায়িত্ব মেয়েদের সুরক্ষা দেওয়া। ধর্ষণ নিয়ে শিথিল মনোভাব দেখালে আমরা আমাদের আত্মার কাছে অপরাধী হয়ে যাব।"
এ ছাড়াও ভাষণে বারবার বলেছেন, গরিব মানুষের উন্নতির কথা। আশ্বাস দিয়েছেন, কোনও গরিবের সন্তান যেন খালি পেটে রাতে ঘুমোতে না যায়। সব গরিব ঘরে জল, খাদ্য ও বিদ্যুতের ব্যবস্থা করাই তাঁর সরকারের আশু কর্তব্য। শক্তিশালী ভারত খুব শীঘ্র চীনের থেকেও এগিয়ে যাবে বলে আশা ব্যক্ত করেন তিনি। প্রসঙ্গত, এদিনই শেষ হল লোকসভার প্রথম অধিবেশন।
তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, "মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরিশ্রম করছেন, এটা সত্যি। প্রধানমন্ত্রী ভরা লোকসভায় দাঁড়িয়ে একে স্বীকৃতি দেওয়ায় আমরা খুশি। আমাদের ভালো লেগেছে।"
বিজেপি রাজ্য সভাপতি রাহুল সিনহা বলেন, "এটা সৌজন্য। প্রধানমন্ত্রী হিসাবে একজন মুখ্যমন্ত্রীকে যে সৌজন্য দেখানো উচিত, তাই দেখিয়েছেন নরেন্দ্র মোদীজি। এ থেকে বোঝা যাচ্ছে, তিনি ভালো কাজের প্রশংসা করেন। এর পিছনে রাজনীতি খোঁজা ঠিক নয়।"
তবে সবথেকে আক্রমণাত্মক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সিপিএম সাংসদ মহম্মদ সেলিম। তিনি বলেন, "আমরা আগেই বলেছিলাম, মোদী-মমতা জোট হয়েছে। বাইরে যতই ওঁরা পরস্পরকে গালাগালি করুন, ভিতরে ভিতরে বোঝাপড়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেমন বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মিথ্যা কথা বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও আজ সংসদে দাঁড়িয়ে মিথ্যা কথা বললেন। বাংলার কী দুর্দশা হয়েছে, সেটা সবাই জানে। তবুও প্রধানমন্ত্রী সত্যিটা বলেননি। বামপন্থার বিরুদ্ধে এঁরা সবাই একজোট।"












Click it and Unblock the Notifications