হেরেও বাপি লাহিড়ী প্রমাণ করলেন তিনি হারেননি!

বাপি লাহিড়ী আসা ইস্তক শ্রীরামপুর লোকসভা আসন নিয়ে চিন্তায় ছিল তৃণমূল কংগ্রেস। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর তিনি হারলেন বটে, কিন্তু এই লোকসভা আসনের অন্তর্গত শ্রীরামপুর বিধানসভায় সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়ে বাংলার শাসক দলকে বিপদঘণ্টা শুনিয়ে দিয়ে গেলেন। এমনকী, এই লোকসভার অন্তর্গত আরও দু'টি বিধানসভা, উত্তরপাড়া ও চাঁপদানিতে প্রাপ্ত ভোটের নিরিখে রইলেন তৃণমূল কংগ্রেসের ঠিক পরেই, অর্থাৎ দ্বিতীয় স্থানে।
ভোটের আগে বাপি লাহিড়ী যখনই যেখানে গিয়েছেন, পিলপিল করে ভিড় জমিয়েছে মানুষ। এর জেরে যথেষ্ট উদ্বেগে ছিল শাসক দল। ৩০ এপ্রিল ভোটের দিন এখানে ব্যাপক রিগিং চালানোর অভিযোগ উঠেছিল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে। যদিও তারা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছিল স্পষ্টভাবে। গণনার দিন প্রথম দিকে এগিয়ে ছিলেন বাপি লাহিড়ী। শেষ পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জিতে যান। তিনি নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সিপিএমের তীর্থঙ্কর রায়কে হারান ১৫৩,৭৭৮ ভোটে। তৃতীয় স্থান দখল করে কংগ্রেস নয়, বিজেপি! ২০০৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি শ্রীরামপুর লোকসভা আসনে পেয়েছিল ৩৮,৪৭৬টি ভোট, যেখানে এ বার তারা পেয়েছে ২৮৫,৮১৪ টি ভোট। তেমন মজবুত সংগঠন না থাকা সত্ত্বেও এই সাফল্য ঈর্ষণীয় বৈকি!
এদিকে, বিধানসভাওয়াড়ি ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে, তৃণমূল কংগ্রেসের উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ রয়েছে। শ্রীরামপুর বিধানসভা বাপি লাহিড়ী পেয়েছেন ৫৪,২৪১টি ভোট আর কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় পেয়েছেন ৫১,৫৪১টি ভোট। অর্থাৎ এটা বিধানসভা নির্বাচন হলে হেরে যেতে তৃণমূল কংগ্রেস। প্রসঙ্গত, ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই আসনে জিতেছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সুদীপ্ত রায়। তিনি পেয়েছিলেন ৯৭,৫৪০টি ভোট। সেই নিরিখে বিচার করলে দেখা যাচ্ছে, ভোট কমেছে তৃণমূল কংগ্রেসের।
অন্যদিকে, শ্রীরামপুর লোকসভা আসনের অন্তর্গত উত্তরপাড়া ও চাঁপদানি বিধানসভায় দ্বিতীয় স্থান দখল করেছেন বাপি লাহিড়ী। উত্তরপাড়ায় কল্যাণবাবু পেয়েছেন ৬৯,৩১৫টি ভোট। সেখানে বাপি লাহিড়ী পেয়েছেন ৫০,৫৯১টি ভোট। চাঁপদানিতে কল্যাণবাবু পেয়েছেন ৫৪,১২৮টি ভোট আর বাপি লাহিড়ী পেয়েছেন ৫১,৬৯৫টি ভোট। অর্থাৎ এখানে কার্যত তৃণমূল কংগ্রেসের ঘাড়ের ওপর নিঃশ্বাস ফেলেছে বিজেপি। এই দুই বিধানসভাতেই সিপিএম অনেক পিছনে।
শ্রীরামপুর বিধানসভায় এমন ফলাফলে বাপি লাহিড়ী উচ্ছ্বসিত। তিনি বলেন, "জিতে লোকসভায় যেতে পারলে এখানে অনেক কাজ করতে পারতাম। যাই হোক, শ্রীরামপুর বিধানসভায় মানুষ আমাকে জিতিয়ে দিয়েছেন, সেই জন্য আমি কৃতজ্ঞ।" অন্যদিকে, ভোটের প্রচারে পরস্পরের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেও সে কথা এখন মনে রাখতে চাইছেন না কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান, "বাপি লাহিড়ী একজন পরিচিত মুখ, সম্মানীয় ব্যক্তি। ভবিষ্যতে কখনও সামনাসামনি দেখা হলে ওঁকে যথোপযুক্ত সম্মান জানাব।"












Click it and Unblock the Notifications