ঘন কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহের কবলে দেশ, ১৬ রাজ্যে সতর্কতা জারি আইএমডির
ভারতের আবহাওয়ায় ফের কনকনে সতর্কবার্তা। ঘন কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহের জেরে দেশের বিস্তীর্ণ অংশে নাজেহাল জনজীবন। বৃহস্পতিবার ভোর থেকেই উত্তর ভারতের বিভিন্ন রাজ্য সহ রাজধানী দিল্লীতে ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায় চারপাশ। দৃশ্যমানতা হঠাৎ কমে যাওয়ায় রাস্তায় গাড়ির গতি থমকে যায়, বহু এলাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়।
কুয়াশা ও ধোঁয়াশার দাপটে বুধবার উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ে একটি ক্রিকেট ম্যাচও বাতিল করতে হয়। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তর (আইএমডি) বৃহস্পতিবার দেশের ১৬টি রাজ্যে কুয়াশা সতর্কতা জারি করেছে। বিশেষ করে উত্তরপ্রদেশের সব জেলায় জারি হয়েছে 'রেড অ্যালার্ট'। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, উত্তরপ্রদেশ, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, চণ্ডীগড় ও উত্তরাখণ্ডের কিছু অংশে ঘন থেকে অতিঘন কুয়াশা দেখা দিতে পারে। একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে অরুণাচল প্রদেশ, অসম, মেঘালয়, বিহার, হিমাচল প্রদেশ, ঝাড়খণ্ড, নাগাল্যান্ড, মণিপুর, মিজোরাম, ত্রিপুরা ও ওড়িশাতেও। কম দৃশ্যমানতার কারণে সড়ক, রেল ও বিমান চলাচলে বিঘ্নের আশঙ্কা রয়েছে।

পাঞ্জাব ও হরিয়ানার কিছু এলাকায় দৃশ্যমানতা ৫০ মিটারেরও নিচে নেমে যেতে পারে বলে 'অরেঞ্জ অ্যালার্ট' জারি করেছে আইএমডি। পাশাপাশি পশ্চিম মধ্যপ্রদেশ ও উত্তরাখণ্ডে শৈত্যপ্রবাহের সতর্কতাও দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, দক্ষিণ ভারতে তামিলনাড়ু, কেরালা ও আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে বজ্রবিদ্যুৎ সহ বজ্রঝড়ের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।
এদিকে রাজধানী দিল্লিতে বায়ুদূষণের পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। অধিকাংশ এলাকায় এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) ৩০০ ছাড়িয়ে 'অতি খারাপ' স্তরে পৌঁছেছে। কুয়াশা ও ধোঁয়াশার পুরু আস্তরণে দৃশ্যমানতা আরও কমে গেছে। দূষণ নিয়ন্ত্রণে দিল্লি জুড়ে কার্যকর রয়েছে জিআরএপি ৪ বিধিনিষেধ। বিএস-III পেট্রোল ও বিএস-IV ডিজেলচালিত যানবাহনের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। পাশাপাশি বৈধ দূষণ সার্টিফিকেট না থাকলে আজ থেকে পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি না দেওয়ার সিদ্ধান্তও কার্যকর হয়েছে।
ঘন কুয়াশা, শৈত্যপ্রবাহ ও দূষণের যুগলবন্দিতে দেশজুড়ে বাড়ছে সতর্কতা, নিত্যযাত্রী থেকে প্রশাসন, সকলেই এখন পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রাখছে।












Click it and Unblock the Notifications