করোনার দ্বিতীয় ওয়েভ থেকে রেহাই নেই কারোর, দেশের একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়–কলেজে মৃত্যু শিক্ষাবিদদের
করোনার দ্বিতীয় ওয়েভ থেকে রেহাই নেই কারোর, দেশের একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়–কলেজে মৃত্যু শিক্ষাবিদদের
করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ওয়েভ সমাজের সব ক্ষেত্রের মানুষদেরই আক্রান্ত করছে। মন্ত্রী থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী, ধনী থেকে গরীব তালিকায় বাদ নেই কেউই। মৃত্যু মিছিলের কলরবে দেশের নাগরিকের প্রাণ ওষ্ঠাগত। সেরকমই শিক্ষা ক্ষেত্রেও এই মারণ ভাইরাস প্রাণ কেড়েছে বহুজনের। শীর্ষ স্তরের অধ্যাপক থেকে গ্রামীণ স্কুলের প্যারা–শিক্ষক, দিল্লি থেকে উত্তরপ্রদেশ উভয় রাজ্যের শিক্ষা ক্ষেত্র এই মহামারিতে বিপর্যস্ত। শিক্ষা ক্ষেত্রের সব স্তরেই সহকর্মী ও বন্ধুদের হারানোর যন্ত্রণা প্রবলভাবে দেখা দিয়েছে।

করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
করোনার থাবা পড়েছে এমন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় অন্যতম (এএমইউ), সাম্প্রতিক ওয়েভে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্গত স্কুলের শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মী সহ ৫০ জন সদস্যের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখপাত্র রাহাত আবরার। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডিইউ) জনসংযোগ আধিকারিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে এই দ্বিতীয় ওয়েভে শিক্ষা কর্মীদের মধ্যে ২৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন। একই চিত্র উঠে এসেছে জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়াতেও, এখানে চারজন অধ্যাপক সহ মোট ১৫ জন কর্মী কোভিডে প্রাণ হারান।

৫০ জনের মৃত্যু আলিয়া মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে
শনিবার, এএমইউ হারিয়েছে আইন বিভাগের প্রধান মহম্মদ শাকিল আহমেদকে। যিনি দীর্ঘ ১২ বছর এখানে পড়িয়েছেন এবং দু'টি আইন নিয়ে বইও লিখেছেন। একটি হল ইউনিফর্ম সিভিল কোড ও দ্বিতীয়টি হল মেইনটেনেন্স অফ দ্য মুসলিম ডিভোর্স। সহ-উপাচার্য তারিক মনসুর বলেন, 'তিনি দারুণ একজন শিক্ষক ছিলেন এবং প্রতিষ্ঠিত শিক্ষাবিদ ছিলেন। তাঁর প্রাণবন্ত উপস্থিতি একটি অদম্য চিহ্ন রেখে গিয়েছে।' এই বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু অন্যান্য বরিষ্ঠ অধ্যাপকও গত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে কোভিডের সঙ্গে লড়াই করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। এঁরা হলেন মনোবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান সাজিদ আলি খান, মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান শাদাব আহমেদ খান এবং সংস্কৃত বিভাগের প্রাক্তন চেয়ারম্যান খালিদ বিন ইউসুফ। গত সপ্তাহে এএমইউ খুব অবাক হয়ে যায় যখন তারা তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ ইংরাজির শিক্ষক মহম্মদ ইউসুফ আনসারিকে এই মারণ ভাইরাসের কারণে হারিয়ে ফেলেন। ৩০ বছর বয়সের মধ্যেই আনসারির সঙ্গে এএমইউয়ের দীর্ঘকালের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই তিনি স্নাতক ও স্নাতকোত্তর হন এবং পিএইচডিও করছিলেন এএমইউ থেকে এবং ২০১৪ সাল থেকে তিনি ইংরাজি বিভাগে পড়াতে শুরু করেছিলেন। ইউসুফের সহকর্মী ও তাঁর পিএইচডির সুপার ভাইজার সীমিন হাসান বলেন, 'একজন ছাত্র হিসাবে ইউসুফ তাঁর সময়োপযোগী ও দারুণ সুন্দর হাতের লেখার কারণে শিক্ষকদের কাছে স্নেহের পাত্র হয়ে উঠেছিলেন। যখন ইউসুফ পড়াতে শুরু করল, আমার তখন চিন্তা হত তাঁর ভদ্র ও চুপচাপ স্বভাবের জন্য পড়ুয়ারা আদৌও তাকে মানবে কিনা। কিন্তু পড়ুয়ারা ইউসুফকে খুবই পছন্দ করত এবং ইউসুফও গভীরভাবে তার কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিল। গিরিশ কর্নড়ের ওপর ইউসুফের পিএইচডির পেপার প্রকাশিত হয়।' বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখপাত্র আবরার বলেন, 'আমরা একাধিক বিভাগের বহু প্রধানকে হারিয়েছি, শিক্ষার দিক থেকে পড়ুয়াদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কিন্তু তার চেয়েও বেশি আমরা একে-অপরের খুব ঘনিষ্ঠ ছিলাম, যেহেতু এটা আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং সকলে আমরা এখানে বন্ধু হিসাবে মিশতাম তাই এই ক্ষতি কোনওভাবেই পূরণ হওয়ার নয়।'

জামিয়া মিলিয়াতেও শীর্ষ শিক্ষাবিদদের মৃত্যু
জামিয়াতে ঐতিহাসিকবিদ রিজওয়ান কাইসার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বেসিক সায়েন্সের ইন্টারডিসিপ্লিনারি রিসার্চের প্রাক্তন ডিরেক্টর শফিক আনসারি সহ বেশ কিছু শীর্ষ শিক্ষাবিদের মৃত্যু হয়েছে।

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় হারিয়েছে ২ জন শিক্ষককে
অন্যদিকে, ডিইউ কমিউনিটিতেও যুগ্ম রেজিস্ট্রার সুধীর শর্মা ও পদার্থ বিজ্ঞান ও জ্যোর্তিবিজ্ঞান বিভাগের বিনয় গুপ্তা, যিনি প্রাক্তন ডিন ছিলেন সেরকম কিছু শীর্ষ পদে থাকা ব্যক্তিদের মৃত্যু হয়েছে করোনা ভাইরাসে। গত কয়েক সপ্তাহে বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তাদের বহু শিক্ষককে হারিয়েছে। কিরোরি মাল কলেজ রসায়ন বিভাগের প্রমোদ কুমার সিং ও কমার্স বিভাগের অরুনেশ চৌধুরির করোনায় মৃত্যু হয়েছে। ডিইউ-এর শিক্ষকরা এখন মৃত শিক্ষকদের পরিবারকে সহায়তা করার জন্য শিক্ষক ওয়েলফেয়ার ফান্ড সংগ্রহ করছেন, এমনকী অশিক্ষক কর্মীদেরও এখানে যুক্ত করা হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications