আঁধার হবে দিল্লি, আলো রাখতে হুমকি অরবিন্দ কেজরিওয়ালের

কেন? দিল্লিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে দু'টি সংস্থা। বিএসইএস রাজধানী পাওয়ার লিমিটেড এবং বিএসইএস যমুনা পাওয়ার লিমিটেড। এরা শুধু সরবরাহের কাজটিই করে। তিনটি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার কাছ থেকে এরা বিদ্যুৎ কেনে। এনটিপিসি, এনএইচপিসি এবং ডিভিসি। বিএসইএস রাজধানী পাওয়ার লিমিটেড এবং বিএসইএস যমুনা পাওয়ার লিমিটেড এতদিন বাজার দরে বিদ্যুৎ বিক্রি করত গ্রাহকদের কাছে। অরবিন্দ কেজরিওয়াল ক্ষমতা এসে বিদ্যুতের দাম কমিয়ে দেওয়ায় এরা বিপাকে পড়েছে।
একটা উদাহরণ দেওয়া যাক। ধরে নিন, এরা ইউনিট পিছু বিদ্যুৎ কিনছিল ৫ টাকায়। আর বিক্রি করছিল ৬ টাকায়। লাভ থাকছিল এক টাকা। এখন বিদ্যুৎ সেই আগের দামে কিনতে হচ্ছে। অথচ বিক্রি করতে হচ্ছে ৩ টাকায়। ফলে লোকসান বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। গত এক মাসে ঠিকঠাক টাকা দিতে না পারার জন্য ইতিমধ্যে ২৫৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কম মিলেছে। ৫ ফেব্রুয়ারির আগে বকেয়া না মেটালে বিদ্যুৎ সরবরাহ পর্যায়ক্রমে বন্ধ করে দেবে এনটিপিসি, এনএইচপিসি এবং ডিভিসি।
বিএসইএস যমুনা পাওয়ার লিমিটেডের তরফে বলা হয়েছে, তাদের এলাকা যথা, ময়ূরবিহার, পাটপারগঞ্জ, গান্ধীনগর, জঙ্গপুরা, বসুন্ধরা এনক্লেভ, প্রীতবিহারে সাধারণত বিদ্যুতের চাহিদা হল ৮৫০ মেগাওয়াট। সামনে গরমকাল আসছে। সে সময় তা বেড়ে হবে ১৪০০ মেগাওয়াট। ফলে পরিস্থিতি ঘোরালো হবে। ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে হয়তো রোজ ৮-১০ ঘণ্টা লোডশেডিং করেত হবে। গরমে সেটা বেড়ে ১৮-২০ ঘণ্টা দাঁড়াতে পারে।
অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে সব কিছু জানানো সত্ত্বেও তিনি অনড়। বরং শুক্রবার হুমকি দিয়ে বলেছেন, দিল্লিবাসী যদি লোডশেডিংয়ের কোপে পড়ে, তা হলে দুই বেসরকারি বিদ্যুৎ সংস্থার লাইসেন্স বাতিল করে দেওয়া হবে। এক ঘণ্টার জন্যও লোডশেডিং করা চলবে না। আগে হিসাব পরীক্ষক দিয়ে এদের খাতাপত্র পরীক্ষা করা হবে, তার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এতদিন এরা সাধারণ মানুষের পকেট কাটছিল বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
তরজা যা-ই চলুক, আখেরে নাজেহাল হওয়ার মুখে দিল্লির সাধারণ মানুষ।












Click it and Unblock the Notifications