দিল্লি-পাঞ্জাব-উত্তরপ্রদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতি, তাপপ্রবাহে বড় সমস্যায় একাধিক রাজ্য
দিল্লি-পাঞ্জাব-উত্তরপ্রদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতি, তাপপ্রবাহে বড় সমস্যায় একাধিক রাজ্য
ভারতের বেশ কয়েকটি রাজ্যের তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলি কয়লার ঘাটতির কারণে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের শিকার হচ্ছে। কয়লার অপ্রতুলতার কারণে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ তৈরি করতে না পারা রাজ্যগুলির মধ্যে প্রথম দিকে রয়েছে, দিল্লি, পাঞ্জাব এবং উত্তরপ্রদেশ। দিল্লি সরকার বৃহস্পতিবার মেট্রো ট্রেন এবং হাসপাতাল সহ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলিতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহেরও সম্ভাব্য বিপত্তি সম্পর্কে সতর্ক করেছে।

কী বলছেন দিল্লির বিদ্যুৎ মন্ত্রী?
দিল্লির বিদ্যুৎ মন্ত্রী সত্যেন্দ্র জৈন রাজধানী শহরের বিদ্যুউ ঘাটতি পরিস্থিতি মূল্যায়ন করার জন্য একটি জরুরি বৈঠক করেছেন এবং জাতীয় রাজধানীতে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলিতে পর্যাপ্ত কয়লার যোগান নিশ্চিত করার জন্য কেন্দ্রকে অনুরোধ করেছেন। দাদরি-২ এবং উনচাহার পাওয়ার স্টেশনগুলি থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার কারণে, দিল্লি মেট্রো এবং দিল্লি সরকারী হাসপাতাল সহ অনেক প্রয়োজনীয় প্রতিষ্ঠানে ২৪ ঘন্টা বিদ্যুৎ সরবরাহে সমস্যা হতে পারে বলে একটি সরকারী বিবৃতিতে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

চাপ সামলানোর চেষ্টা করছে দিল্লি সরকার!
দিল্লির বিদ্যুৎ মন্ত্রী জেন বলেছেন, বর্তমানে, দিল্লির বিদ্যুতের চাহিদার ২৫-৩০ শতাংশ এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলির মাধ্যমে মেটানো হচ্ছে এবং তারা কয়লার ঘাটতির সম্মুখীন হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, সরকার এই বিদ্যুৎ ঘাটতি পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে এবং রাজধানীর কোনও এলাকায় যাতে মানুষ বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সম্মুখীন না হন সেজন্য সম্ভাব্য সব রকমের চেষ্টা করে যাচ্ছেন।'

কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে পাঞ্জাবও!
পাঞ্জাবের বিদ্যুৎ মন্ত্রী হরভজন সিং জানিয়েছেন তাপপ্রবাহের কারণে রাজ্যে বিদ্যুৎ-এর চাহিদা ৪০ শতাংশ বেড়েছে। কৃষকদের সংগঠন কিষাণ মজদুর সংগ্রাম কমিটি বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার অমৃতসরে বিদ্যুৎমন্ত্রীর বাড়ির সামনে একটি বিক্ষোভ কর্মসূচীর ঘোষণা করেছে এবং সরকার কৃষিক্ষেত্রে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারছে না বলে অভিযোগ এনেছে। পাঞ্জাবের বিদ্যুৎমন্ত্রী হরভজন সিং বলেছেন, 'ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রার কারণে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বিদ্যুতের চাহিদা ৪০ শতাংশ বেড়েছে। শুধু পাঞ্জাব নয়, অন্যান্য রাজ্যও একই সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে, তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।'

৩০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতি উত্তরপ্রদেশেও!
তাপপ্রবাহ জনিত কারণে যোগীরাজ্য উত্তরপ্রদেশে ৩০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতি রয়েছে। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে রাজ্যে প্রায় ২৩ হাজার মেগাওয়াটের বিদ্যুৎ চাহিদা রয়েছে, যেখানে এখন সরবরাহ হচ্ছে মাত্র ২০ হাজার মেগাওয়াট৷ বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতির কারণে উত্তরপ্রদেশের গ্রামীণ এলাকা এবং ছোট শহরগুলিতে লোডশেডিং হচ্ছে! বর্তমানে উত্তরপ্রদেশের গ্রামগুলিতে নির্ধারিত ১৮ ঘণ্টার বদলে গড়ে ১৫ ঘণ্টা ৭ মিনিট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে!












Click it and Unblock the Notifications