জামিয়ার অশান্তির ঘটনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট জমা দিল্লি পুলিশের
জামিয়ার অশান্তির ঘটনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট জমা দিল্লি পুলিশের
বিগত কয়েকদিন থেকেই নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে ফুঁসছে গোটা দেশ। প্রতিবাদে রাস্তায় নামে দেশের একাধিক নামজাদা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীরা। এবার রবিবার রাতে নতুন করে অশান্তি ছড়ায় জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে। বিক্ষোভরত পড়ুয়াদের উপর গুলি চালানোর অভিযোগ ওঠে পুলিশের বিরুদ্ধে।

আহত ৩১ জন পুলিশ ও ৬৭ জন পড়ুয়া
এবার এই ঘটনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট জমা দিল্লি পুলিশ। ওই রিপোর্টের সূত্র অনুসারে ওই ঘটনায় ৩১ জন পুলিশ ও ৬৭ জন পড়ুয়া ও সাধারণ সহ মোট ৯৮ জন আহত হয়েছে। ওই অশান্তির ঘটনায় কোনও না কোনও ভাবে যুক্ত থাকার অভিযোগে এখনও পর্যন্ত ৪৭ জনকে আটক করেছে পুলিশ। ওই রিপোর্টে পুলিশ আরও বলেছে ওই সময় কমপক্ষে ১৪ টি বাস এবং ২০ টি গাড়িতে ভাঙচুর চালায় বিক্ষুব্ধ জনতা।

পুলিশের বিরুদ্ধে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ
রবিবার নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায় বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায়। পুলিশের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী পড়ুয়া ও সাধারণ মানুষের উপর আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। পাল্টা বিক্ষোভরত পড়ুয়াদের বিরুদ্ধেই আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে বিক্ষোভে সামিল হওয়ার অভিযোগ তুলতে দেখা যায় দিল্লি পুলিশকে।
এরপরই দেশজুড়ে চলতে থাকা নাগরিকত্ব আইন বিরোধী প্রতিবাদে নতুন করে ঘৃতাহুতি দেয় জামিয়ার এই অশান্তির ঘটনা। এই ঘটনার এই ঘটনার তিন দিন পর দিল্লি পুলিশকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দিতে দেখা যায়। সূত্রের খবর, যদিও এর আগে দিল্লি পুলিশের তরফে বলা হয়েছিল এই ঘটনায় কমপক্ষে ছয় জন পুলিশ আধিকারিক এবং দু'জন ফায়ার ব্রিগেড কর্মী আহত হয়েছেন।

পুলিশের গুলি চালোনার অভিযোগ খারিজ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের
এর আগে দক্ষিণপূর্ব দিল্লির পুলিশ কমিশনার চিন্ময় বিশ্বওয়াল সংবাদমাধ্যমে এই প্রসঙ্গে বলেন, " প্রায় ২,০০০ লোকের উন্মত্ত ভিড় ওই দিন সন্ধ্যায় হঠাৎই হিংস্র হয়ে ওঠে। এরপরই রাস্তা ধারে দাঁড়িয়ে থাকা বাসগুলিকে টার্গেট করে ভাঙচুর চালানো হয়। পাথরবাজদের কবলে পড়ে আমাদের ৬ জন পুলিশ আধিকারিক আহত হয়েছেন।" যদিও এরপরই জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ার পড়ুয়াদের নাগরিকত্ব আইন বিরোধী প্রতিবাদ বিক্ষোভে পুলিশের গুলি চালানোর অভিযোগকে খারিজ করে দেওয়া হয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে।

মঙ্গলবার গ্রেফতার ১০
রবিবার রাতের অশান্তির জেরে লণ্ডভণ্ড হয়ে দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরি। রবিবার রাতে ক্যাম্পাসের মধ্যে ঢুকে বিক্ষোভ সামলানোর নামে তাণ্ডব চালানোর অভিযোগ ওঠে দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে। পড়ুয়াদের উপর লাঠি ও কাঁদানে গ্যাসের পাশাপাশি ভেঙে দেওয়া হয় লাইব্রেরিও। অন্যদিকে সূত্রের খবর, জামিয়ার বিক্ষোভে সহিংসতায় প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত থাকার অভিযোগে মঙ্গলবার ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের প্রত্যেকেই এর আগে বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজকর্মে জড়িত ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও পড়ুয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলেও জানানো হয়েছে। পাশাপাশি আরও ১৫ জনের বিরুদ্ধে এফআইআরও দায়ের করা হয়।












Click it and Unblock the Notifications