করোনা আটকাতে ভ্যাকসিনের বুস্টার ডোজ নয় কেন, কেন্দ্রকে প্রশ্ন দিল্লি হাইকোর্টের
করোনা আটকাতে ভ্যাকসিনের বুস্টার ডোজ নয় কেন, কেন্দ্রকে প্রশ্ন দিল্লি হাইকোর্টের
এবার কোভিড ভ্যাকসিনের বুস্টার ডোজের পক্ষে সওয়াল করল আদালত। বৃহদাকার দিল্লি হাইকোর্ট স্পষ্ট বলে, বুস্টার ডোজ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত কখনোই অর্থনৈতিক অবস্থা দেখে নেওয়া উচিত নয়। কেন্দ্রীয় সরকারকে তড়িঘড়ি এই বিষয়ে নিজেদের অবস্থান আদালতকে জানাতে বলে তারা।

চলতি বছরের এপ্রিল-মে মাসে দেশজুড়ে আছড়ে পড়েছিল করোনার দ্বিতীয় ঢেউ। সেই সময়ই প্রকাশ্যে এসে গিয়েছিল দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার কঙ্কালসার অবস্থা। তবে সেসব এখন অতীত। দ্বিতীয় ঢেউয়ের ফাঁড়া কাটিয়ে উঠেছে দেশ। সংক্রমণও এখন তলানিতে। তবে তৃতীয় ঢেউয়ের ভয় থেকেই যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এখনও তৃতীয় ঢেউ আছড়ে পড়া ভীষণভাবে সম্ভব।
প্রথমে মনে করা হচ্ছিল, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং গণটিকাকরণই করোনার প্রকোপ থেকে বাঁচার একমাত্র উপায়। সেই অনুযায়ী পদক্ষেপও নিয়েছিল সরকার। তবে এখন দেখা যাচ্ছে, টিকার দু'টি ডোজ পর্যাপ্ত নয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সহ ইউরোপের একাধিক দেশের সরকার বুস্টার ডোজ নিয়ে ভাবনাচিন্তা করছে।
অন্যদিকে ভারত আবার এই পথে হাঁটতে চায় না৷ এই মুহূর্তে দেশের সমস্ত সাবালক নাগরিককে টিকা দেওয়াই সরকারের লক্ষ্য। তবে এমন পরিস্থিতিতে বুস্টার ডোজ নিয়ে সরকারকে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে বলল দিল্লি আদালত৷ কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে নির্দিষ্ট সময়সীমাও চেয়েছে তারা। বিচারক বিপিন সিংঘি এবং জসমীত সিংয়ের ডিভিশন বেঞ্চ বুস্টার ডোজ সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রতিবেদন ও বিশেষজ্ঞদের মতামত খতিয়ে দেখেন। সেই প্রতিবেদন থেকেই তারা জানতে পারেন, ভারতের বিশেষজ্ঞরা এখনও বুস্টার ডোজ দেওয়ার পক্ষে কোনও সওয়াল করেননি।
এরপরই আদালত জানায়, 'বুস্টার ডোজ দেওয়া নিঃসন্দেহে খুবই ব্যয়বহুল কাজ। কেন্দ্রীয় সরকারকে এই ডোজ একেবারে বিনামূল্যে দিতে হবে, খুব কম মানুষই এই টিকা কিনবেন। কিন্তু এই সংক্রান্ত কোনও সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র অর্থনীতির অবস্থা ভেবে নেওয়া উচিত নয়। হয়ত এই কারণেই সরকার বুস্টার ডোজ নিয়ে ভাবনাচিন্তা করছে না। কিন্তু আমরা ফের দ্বিতীয় ঢেউয়ের মতো অবস্থায় দাঁড়াতে চাই না৷ তেমন হলে এই টিকাকরণের সুবিধা নিতে পারব না আমরা।'
বহু মানুষ, বিশেষত যাঁরা অন্যান্য রোগে ভুগছেন তাঁরা বুস্টার ডোজের সম্পর্কে জানতে চাইছেন। এই পরিপ্রেক্ষিতে আদালত বলে, 'ভ্যাকসিনের বহু ডোজ অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সেগুলির মেয়াদও পেরিয়ে যাবে আর কিছুদিনের মধ্যেই।' শিশুদের টিকাকরণ নিয়েও মুখ খোলে আদালত। তারা বলে, ' বিশ্বের বহু দেশ শিশুদের টিকাকরণ করে ফেলেছে। এখন আমাদের দেশজুড়ে স্কুল খুলছে। তাই শিশুদের টিকাকরণ নিয়েও ভাবা উচিত সরকারের৷'












Click it and Unblock the Notifications