মে মাসের সকাল ঢাকল কুয়াশায়! স্বাভাবিকের থেকে নয় ডিগ্রি নিচে তাপমাত্রায় এসি ছেড়ে গিজারে ঝুঁকেছে দিল্লিবাসী
মে মাস। এই সময় সাধারণভাবে তাপপ্রবাহের পরিস্থিতি থাকে দিল্লি-সহ উত্তর ভারত এবং উত্তর পশ্চিম ভারতের বিস্তীর্ণ অংশে। তবে এদিন সকালের আবহাওয়া পুরোপুরি অন্যরকমের। তাপপ্রবাহের কোনও চিহ্ন নেই। এদিন সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৬.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
গত তিনদিন ধরে টানা বৃষ্টির পরে এদিন দিল্লির সকাল ছিল ঘন কুয়াশাচ্ছন্ন। গত তিন দিন ধরে দিল্লি ও আশপাশের এলাকায় যে বৃষ্টি হয়েছে, তাতে তা মে মাসের গড় বৃষ্টিপাতকে পেরিয়ে গিয়েছে। বৃহস্পতিবারের দিল্লি ও আশপাশের এলাকার আবহাওয়া বাসিন্দাদের অবাক করলেও আবহাওয়াবিদরা এর পিছনে যুক্তি দিয়েছেন।

আবহাওয়া দফতরের আধিকারিকরা বলছেন, একদিকে বাতাসে আর্দ্রতা বেশি, অন্যদিকে দিন ও রাতের তাপমাত্রার মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্যের কারণে এই পরিস্থিতি। যা কুয়াশার জন্য অনুকূল বলছেন আবহাওয়াবিদরা। সাধারণভাবে দিল্লিতে মে মাসে যেখানে গত সর্বোচ্চ তাপমাত্রা থাকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সেখানে এই ধরনের আবহাওয়া কমই দেখা যায়।
এদিন সফদরজং আবহাওয়া কেন্দ্রে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৫.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা বছরের এই সময়ের জন্য স্বাভাবিকের থেকে নয় ডিগ্রি কম। ২০০৯ সালের পরে মে মাসে এই তাপমাত্রা সর্বনিম্ন বলেই জানাচ্ছে আবহাওয়া দফতর। ১৯৮২ সালের ২ মে দিল্লির সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ১৫.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
এদিন সকালে পালামে দৃশ্যমানতা ছিল ৮০০ মিটার। ঘন কুয়াশা প্রায় দুই ঘন্টা বজায় ছিল। আর সকাল সাড়ে সাতটা নাগাদ কুয়াশার জেরে দৃশ্যমানতা ছিল ২০০ মিটার। সাধারণভাবে দৃশ্যমানতা ২০০-৫০০ মিটারের মধ্যে হলে তাকে মাঝারি বলা হয়ে থাকে। আর ২০০ মিটারের নিচে হলে তাকে ঘন বলা হয়।

দিল্লির এই আবহাওয়া পরিবর্তনে একদিকে রাস্তায় জল জমে যেমন যানজটের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষ এসি বন্ধ করে দিয়ে গিজার চালু করছেন। প্রসঙ্গত টানা বৃষ্টির কারণে বুধবার দিল্লির বেশ কিছু নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছিল।
দিল্লির এই আবহাওয়ার পরিবর্তন উঠে এসেছে সোশ্যাল মিডিয়াতেও। সেখানে সবাই আলোচনা করছেন, মে মাসের অস্বাভাবিক বৃষ্টি তাপমাত্রাকে কমিয়েছে, আর গরমের জায়গায় শীতের অনুভূতি দিচ্ছে। দিল্লিতে যেখানে মে মাসে গড়ে ২৯.৪ মিমি বৃষ্টিপাত হয়, সেখানে ইতিমধ্যেই তিন দিনে ৩৬ মিমি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস পশ্চিমী ঝঞ্ঝার কারণে শুক্রবার থেকে দিল্লি ও আশপাশের এলাকায় ফের বর্ষণের সম্ভাবনা। এবার এপ্রিল মাসে দিল্লিতে ২০ মিমির বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ২০১৭ সালের পরে সব থেকে বেশি। শুক্রবার থেকে আরও একটি পশ্চিমী ঝঞ্ঝা উত্তর-পশ্চিম ভারতকে প্রভাবিত করতে পারে বলে পূর্বাভাস আবহাওয়া দফতরের।












Click it and Unblock the Notifications