কৃষি আইন প্রত্যাহার: আগে ঘোষণা হলে বাঁচত ৭০০ কৃষকের প্রাণ! মোদীকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রতিক্রিয়া কেজরিওয়ালের
কৃষি আইন প্রত্যাহার: আগে ঘোষণা হলে বাঁচাত ৭০০ কৃষকের প্রাণ! মোদী ধন্যবাদ জানিয়ে প্রতিক্রিয়া কেজরিওয়ালের
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী তিনি। সেই দিল্লিতে ঢোকার মুখেই গত ১১ মাসের বেশি সময় ধরে কৃষকরা ধর্নায় বসে আছেন। এদিন দিল্লির সেইসব কৃষকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) বলেছেন, ৩ কৃষি আইন প্রত্যাহার (Repeal farm Laws) করে নেওয়া হচ্ছে। কৃষকরা (Farmers) ক্ষেতে গিয়ে কাজ করুন। প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ্র কেজরিওয়াল (Arvind Kejriwal)।

আগে ঘোষণা হলে বাঁচাত ৭০০ কৃষকের প্রাণ
এদিন আপ প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, এই আইন আগের প্রত্যাহার করা যেত। প্রধানমন্ত্রীর আইন প্রত্যাহারের ঘোষণা নিয়ে তিনি বলেছেন, এদিন একটা জিনিস খুব দুঃখের। ৭০০-র বেশি কৃষক প্রাণ হারিয়েছেন। সেটার প্রয়োজন ছিল না। এই আইন আগেই বন্ধ করা যেত বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। পাশাপাশি যেসব কৃষক আন্দোলন করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন, সেইসব শহিদদের তিনি স্যালুট জানিয়েছেন।

দিনটিকে স্বাধীনতা দিবস, প্রজাতন্ত্র দিবসের সঙ্গে তুলনা
তিন কৃষি আইন প্রত্যাহারের জন্য প্রধানমন্ত্রী গুরুনানক দেবের জন্মদিবসকে বেছে নিয়েছে। এই দিনটিকে অরবিন্দর কেজরিওয়াল স্বাধীনতা দিবস এবং প্রজাতন্ত্র দিবসের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি বলেছেন, এই দিনকে মানুষ মনে রাখবে। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, এটা শুধু কৃষকদের জয় নয়, গণতন্ত্রের জয়। তিনি বলেছেন, সরকার সবরকমভাবে চেষ্টা করেছে কৃষি আইন বিরোধী আন্দোলনকে ব্যাহত করতে। এই আন্দোলনকে খালিস্তানি আন্দোলনের সঙ্গেও তুলনা করা হয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কৃষকরা এই আন্দোলন থেকে সরে আসেননি। প্রসঙ্গত কৃষকরা ধর্নায় বসার পরে প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তিনিই প্রথম সেখানে গিয়েছিলেন। সেখানে গিয়ে কেজরিওয়াল বলেছিলেন কৃষকদের সবরকম দাবিকে তিনি সমর্থন করেন। বিক্ষোভের পিছনে সঙ্গত কারণ রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেছিলেন।

কেন্দ্রকে কথা শুনতেই হবে
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেছেন, কৃষকরা প্রমাণ করে দিয়েছেন, কেন্দ্রকে জনগণের আশা শুনতেই হবে। তিনি বলেছেন, কৃষকদের এই আন্দোলনকে লাঠি থেকে জলকামান কিংবা পেরেক কিছুই দমাতে পারেনি। সরকার কৃষকদের আন্দোলনকে ব্যাহত করার চেষ্টা চালিয়ে গেলেও, তাতে সফল হয়নি কৃষকরা হাল না ছাড়ার কারণে।

পঞ্জাব ও উত্তর প্রদেশের ভোটের আগে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত
সামনের বছরের শুরুতেই পাঁচ রাজ্যে ভোট রয়েছে। তার আগে এদিন প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণা যথেষ্টই তাৎপর্যপূর্ণ। তবে এর মধ্যে উত্তরপ্রদেশ এবং পঞ্জাবের ভোটকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছে গেরুয়া শিবির। গত বছরের নভেম্বর থেকে এই আন্দোলনের মধ্যে যে তিন রাজ্যের কৃষকরা সব থেকে বেশি জড়িয়ে পড়েছিলেন, তার মধ্যে রয়েছে পঞ্জাব এবং উত্তর প্রদেশও। পাশাপাশি আইন বাতিলের জন্য গুরুনানক দেবের জন্মদিবসকে বেছে নেওয়াও আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ।












Click it and Unblock the Notifications