দিল্লি বিস্ফোরণ কাণ্ডে ডিএনএ পরীক্ষায় নিশ্চিত, বিস্ফোরক বোঝাই গাড়ি চালাচ্ছিলেন ড. উমর
রাজধানীর লালকেল্লার কাছে ভয়াবহ বিস্ফোরণ কণ্ডে নতুন মোড় নিল। ফরেন্সিক রিপোর্টে স্পষ্ট, বিস্ফোরক বোঝাই হুন্ডাই i20 গাড়িটি চালাচ্ছিলেন জম্মু কাশ্মীরের চিকিৎসক ড. উমর উন নবী। এদিন দিল্লি পুলিশের সূত্রে জানা গেছে, এআইআইএমএস ফরেন্সিক ল্যাবের ডিএনএ পরীক্ষায় ড. উমরের মায়ের নমুনার সঙ্গে বিস্ফোরণস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া অস্থি ও দাঁতের টুকরোর ডিএনএ ১০০ শতাংশ মিলেছে।
গত ১০ নভেম্বর রাতে লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের কাছে সুভাষ মার্গ সিগন্যালের পাশে বিস্ফোরিত হয়েছিল সেই হুন্ডাই i20 গাড়িটি। মুহূর্তের মধ্যে তছনছ হয়ে যায় চারপাশ। প্রাণ হারান অন্তত ১৩ জন, আহত হন অন্তত ২০ জন। তদন্তে জানা গিয়েছে, বিস্ফোরণের সময় গাড়িতে একাই ছিলেন ড. উমর। গাড়ির ভেতরেই মৃত্যু হয় তাঁর। এমনকি, তদন্তকারীরা বিস্ফোরণের পর গাড়ির অ্যাক্সেলেটরে আটকে থাকা একটি পা উদ্ধার করেছিলেন, যা পরবর্তী ডিএনএ পরীক্ষায় উমরের দেহাংশ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

ফরিদাবাদের আল ফালাহ হাসপাতালের চিকিৎসক ছিলেন উমর। সন্দেহে উঠে এসেছে দিল্লি বিস্ফোরণের পিছনে জইশ ই মহম্মদ জঙ্গি সংগঠনের ডক্টর মডেলের হাত রয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে, এই মডেলের মূল ষড়যন্ত্র ছিল প্রজাতন্ত্র দিবসে লালকেল্লায় বড় মাপের হামলা চালানো। পুলিশের টানা অভিযান ঘনিয়ে আসায়, বিস্ফোরণটি হয়তো আগেভাগে অর্থাৎ পরিকল্পনার আগেই ঘটানো হয়েছিল।
জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ ইতিমধ্যেই এই মামলার তদন্তভার হাতে নিয়েছে। গঠিত হয়েছে বিশেষ তদন্ত দল, যাদের নেতৃত্বে রয়েছেন এসপি পদমর্যাদার আধিকারিকরা। গৃহ মন্ত্রকের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে, ঘটনাটির পেছনে সন্ত্রাসের যোগ খুঁজে পাওয়ায় এনআইএকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
সূত্রের খবর, ড. উমর ও তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ড. মুজাম্মিল গনাই কয়েক মাস আগেই তুরস্ক সফর করেছিলেন। সন্দেহ, সেখান থেকেই তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিল বিদেশে থাকা জইশ ই মহম্মদের হ্যান্ডেলাররা।
তদন্তকারীদের মতে, এই দলটি মূলত শিক্ষিত তরুণদের নিয়ে গঠিত এক "হোয়াইট কলার টেরর মডেল"। তাদের লক্ষ্য ছিল রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলিতে বড় আকারের হামলা চালানো যেন ২০০৮ সালের মুম্বই হামলার পুনরাবৃত্তি ঘটানো যায়।
এক পুলিশ আধিকারিকের কথায়, "ড. উমর ছিলেন এই বিস্ফোরণের মূল চালক। ডিএনএ পরীক্ষার ফল আমাদের তদন্তের বড় প্রমাণ। এখন লক্ষ্য, এই সন্ত্রাস চক্রের বাকি সদস্যদের খোঁজ।"
লালকেল্লা বিস্ফোরণের তদন্তে এখন গোটা দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলির নজর। একদিকে সন্ত্রাসবাদের শিকড় খোঁজার চেষ্টা, অন্যদিকে উত্তর ভারতের নিরাপত্তা বলয় আরও শক্ত করা হয়েছে, যেন ইতিহাস সাক্ষী না হয় আরও এক রক্তাক্ত অধ্যায়ের।












Click it and Unblock the Notifications