রাগের বশেই ১২ বছরের কিশোরীর ওপর এলোপাথারি কাঁচি চালায়, জেরার মুখে স্বীকার অভিযুক্তের

দিল্লিতে ১২ বছরের কিশোরীর বাড়ি ঢুকে তাকে নির্মমভাবে যৌন নির্যাতন করার অপরাধে পুলিশ ৩৩ বছরের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ওই একই ব্যক্তি ২০০৬ সালে দিল্লির বাইরে সুলতানপুরি এলাকায় বাড়ির ভেঙে ঢুকে এক ২৯ বছরের মহিলাকে খুন করেছিল, পুলিশ তখন তাকে গ্রেফতার করে। ২০০৬ সালে দোষী সাব্যস্ত করার পর কৃষাণ কুমারের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়, কিন্তু জেলের মধ্যে ভালো আচার–ব্যবহারের জন্য তাকে ২০১৪ সালেই ছেড়ে দেওয়া হয়।

দিল্লিতে নির্মমভাবে ধর্ষিতা ১২ বছরের কিশোরী

তার বিরুদ্ধে বর্তমানে যে মামলাটি রয়েছে, তা হল অভিযুক্ত এক ১২ বছরের কিশোরীর বাড়িতে ডাকাতির উদ্দেশ্যে ঢোকে এবং ওই কিশোরীর ওপর হমলা চালায় এবং যৌন নির্যাতন করে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত ওই কিশোরীকে মৃত ভেবে ২০০ টাকা হাতিয়ে ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়ে যায়। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলপুরির বাসিন্দা কৃষাণ স্কুল ছেড়ে দেয় বহু বছর আগেই এবং তার আরও দুই বড় ভাই রয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, '‌স্কুল ছাড়ার পর কৃষাণ প্লাস্টিক কারখানায় কাজ শুরু করে, সব সময় মদ্যপ অবস্থায় থাকত সে এবং চুরি করা শুরু করল। ২০০৬ সালে কৃষাণ এবং তার এক সহযোগী বাড়ি ভেঙে ঢোকে, বাড়ির মহিলা বাসিন্দা তা টের পেয়ে সজাগ হয়ে উঠলে অভ্‌যুক্তরা মহিলার মাথায় ইট দিয়ে মারতে শুরু করে। মহিলা নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করলে অভিযুক্তরা আরোও জোরে জোরে আঘাত করে তাঁকে খুন করে ফেলে। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সময় সে তিহার জেলে রান্নাঘরের কর্মী হিসাবে কাজ করত।’‌ পুলিশের পক্ষ থেকে আরও জানা গিয়েছে, ২০১৪ সালে কৃষাণের ভালো ব্যবহারের জন্য তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বাইরে এসে দেখে তার পরিবার তাকে পরিত্যাগ করেছে। এরপর সে একটি কারখানায় কাজ শুরু করে। কিন্তু ফের ২০১৬ সালে পশ্চিম বিহারে চুরির জন্য তাকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে জেলে পাঠানো হলেও চার মাসের মধ্যে জামিন পেয়ে সে বেড়িয়ে আসে। কিছু মাস পর তাকে ফের গ্রেফতার করা হয় নিজের জ্ঞাতি ভাইকে খুনের চেষ্টা করায়। কিন্তু আদালতে জ্ঞাতি ভাই তার বিরুদ্ধে সব অভিযোগ তুলে নেয়।

সাম্প্রতিক এই মামলায় পুলিশ জানিয়েছে যে ডাআতি করার উদ্দেশ্যে কৃষাণ বহুতলের মধ্যে ঢোকে এবং ওই কিশোরীর ঘরের দরজা খোলা দেখে ঢুকে পড়ে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তকে জেরার সময় সে তার দোষ স্বীকার করে জানিয়েছে যে সে ঘরে ঢোকার পর ওই কিশোরী চিৎকার জুড়ে দেয়। এরপর সে ওই মেয়েটিকে ধরে নিয়ে এসে বিছানায় ফেলে এবং মুখের মধ্যে হাত চেপে দিয়ে তার চিৎকার থামানোর চেষ্টা করে। মেয়েটি নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টায় কৃষাণকে মাটিতে ফেলে দেয়। ক্ষুব্ধ হয়ে কৃষাণ তার মাথায় সেলাই মেশিন ছুঁড়ে মারে এবং মাথায় ক্রমাগত আঘাত করতে থাকে। এরপর ফের যখন কিশোরী নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা চালায়, তখন কৃষাণ তার ওপর এক জোড়া কাঁচি দিয়ে হামলা করে এবং যৌন নির্যাতন করে। কৃষাণ জানিয়েছে যে মেয়েটি প্রতিরোধের চেষ্টা করায় সে রেগে গিয়ে মেয়েটির ওপর হামলা করে। সে ভেবেছিল মেয়েটি মরে গিয়েছে এবং ঘটনাস্থল ছাড়ার আগে সে বাড়ির সব ব্যাগ ঘেঁটে ২০০ টাকা পায় এবং পালিয়ে যায়।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কিশোরীকে রক্তাক্ত অবস্থায় প্রতিবেশীরা বারন্দায় পড়ে থাকতে দেখে। এরপরই তাকে নিয়ে যাওয়া হয় কাছাকাছি একটি হাসপাতালে এবং সেখান থেকে এইমসে স্থনান্তর করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত বারংবার কাঁচি দিয়ে আঘাত করে কিশোরীকে। পেটের নীচের দিকে, মুখে ও মাথায় আঘাত করার পর তাকে ফেলে পালিয়ে যায়। পুলিশ আক্রান্তের বাড়ি থেকে রক্তমাখা কাঁচি উদ্ধার করেছে। এইমসের আইসিইউতে ভর্তি রয়েছে কিশোরী এবং সঙ্কটজনক অবস্থা তার। বৃহস্পতিবার তার দু’‌টি অস্ত্রোপচার হয়েছে। আরও একটি অস্ত্রোপচার হওয়ার কথা রয়েছে।

শুক্রবার দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল টুইট করে বলেন, ‌'‌আমি চিকিৎসকদের সঙ্গে এবং মেয়েটির পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি। আমি হাসপাতালেও তাকে দেখতে গিয়েছিলাম। মেয়েটি জীবনের সঙ্গে লড়ছে, চিকিৎসকরাও যথাসাধ্য চেষ্টা চালাচ্ছে। মেয়েটির জন্য সকলে প্রার্থনা করুন।’‌

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+