মোদীর মান বাঁচাতে লাদাখ সংক্রান্ত নথি ওয়েবসাইট থেকে সরাল প্রতিরক্ষামন্ত্রক! কী ছিল সেই নথিতে?
ভারতীয় ভূখণ্ড দখল করেছে চিন। এই দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদীকে গত দুই মাসে ক্রমাগত আক্রমণ করে এসেছে কংগ্রেস। সেই আক্রমণে আরও ধার আনতে প্রতিরক্ষামন্ত্রকই রাহুল গান্ধীর হাতে হাতিহার তুলে দিয়েছিল একটি নথির মাধ্যমে। সেই নথিতে বকলমে মেনে নেওয়া হয়েছিল ভারতীয় ভূমিতে চিনা সেনার আগ্রাসন। এবার সেই নথি সরিয়ে দিল প্রতিরক্ষামন্ত্রক।

প্রতিরক্ষামন্ত্রকের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত রিপোর্ট
সম্প্রতি ভারতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রকের ওয়েবসাইটে একটি রিপোর্ট প্রকাশিত হয় লাদাখ সম্পর্কিত। তাতে মেনে নেওয়া হয় যে চিন ভারতীয় ভূখণ্ড দকল করেছে। সেই স্বীকারোক্তিমূলক রিপোর্টকে উদ্ধৃত করেই ফের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে জোর আক্রমণ শানান কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তবে তারপরই কেন্দ্রের ওয়েবসাইটে সেই নথির অস্তিত্ব আর মেলেনি।

লাদাখ ইস্যুতে রাহুল গান্ধীর দাবি
কংগ্রেস প্রথম থেকেই দাবি করে এসেছিল যে চিন ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢুকে এলাকা দখল করে নিয়েছে। তবে এই বিষয়ে কেন্দ্রের বক্তব্য ছিল ভিন্ন। কেন্দ্রের তরফে বারবারই বলা হয় যে চিন ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করেনি। কিন্তু কেন্দ্রের এই কথা না মেনে রাহুল গান্ধী ধারাবহিক ভাবে প্রধানমন্ত্রী মোদীক আক্রমণ করে গিয়েছেন।

কী লেখা ছিল প্রতিরক্ষামন্ত্রকের রিপোর্টে?
প্রতিরক্ষামন্ত্রকের রিপোর্টে লেখা, 'কুগ্রাং নালা (হটস্প্রিংয়ের উত্তরে অবস্থিত প্যাট্রল পয়েন্ট/ফিঙ্গার ১৫), গোগরা, (ফিঙ্গার ১৭এ) এবং প্যাংগং সো হ্রদের উত্তরের এলাকায় ১৭ ও ১৮ মে চিনা সেনা অনুপ্রবেশ করেছিল।' ঠিক এই দখলদারির কথা না বললেও কংগ্রেসর প্রথম থেকে বক্তব্য ছিল, চিন ভারতে ঢুকেছে এবং কেন্দ্র তা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে।

প্যাংগং হ্রদের কাছে গ্রিন টপের উপর থেকে চিনা সেনা
এদিকে লাদাখের প্যাংগং হ্রদের কাছে গ্রিন টপের উপর থেকে চিনা সেনা দখলদারি সরাতে না চাওয়াতেই ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও তিক্ত হচ্ছে চিনের। জানা গিয়েছে রবিবার মোলডোতে অনুষ্ঠিত ভারত-চিন বৈঠকেও দিল্লির পক্ষ থেকে পিএলএ-কে সেখান থেকে সেনা প্রত্যাহারের জন্য বলা হয়। তবে চিনা সেনা এই বিষয়ে একগুঁয়ে মনোভাব পোষণ করছে। আর এতেই আরও পারদ ছড়ছে সীমান্তে।

প্যাংগংয়ে অনড় অবস্থান চিনের
হটস্প্রিং থেকে সরে গেলেও চিন এখনও অবস্থান করছে প্যাংগংয়ে। সেখানকার গ্রিন টপ থেকে ভারতের গতিবিধর উপর নজর রাখছে ভারতীয় গতিবিধির উপর। লাদাখে ভারত-চিন উত্তেজনা কমার কোনও নাম নেই। যেই প্যাংগং সো নিয়ে এত বিতর্ক, সেখানে চিনা সেনারা ফিঙ্গার ৫ এ ফিরে এসেছিল, তবে তারা এখনও ফিঙ্গার ৪-এর রিজলাইন দখল করে রয়েছে। চিনা সেনারা ফিঙ্গার ৪ থেকে ফিঙ্গার ৮-এর মধ্যকার ৮-কিলোমিটার দীর্ঘ এলাকাজুড়ে তাদের তৈরি কাঠামোগুলিকেই এলএসি বলে দাবি করে যাচ্ছে এখনও।

টহলদারী সীমান্ত নিয়ে বিবাদ
টহলদারী সীমান্ত নিয়ে বরাবরই ভারত ও চিনের মধ্যে চাপা উত্তেজনা ছিল। ভারত বিশ্বাস করে 'ফিঙ্গার ১' থেকে 'ফিঙ্গার ৮' পর্যন্ত টহল দেওয়ার অধিকার রয়েছে তাদের এবং চিন মনে করে যে 'ফিঙ্গার ৮' থেকে 'ফিঙ্গার ৪' পর্যন্ত টহল দেওয়ার অধিকার রয়েছে তাদেরই। ১৫ জুন, এই 'ফিঙ্গার ৪' এলাকাতেই উভয় পক্ষের সেনার মধ্যে সহিংস সংঘর্ষ বাঁধে। 'ফিঙ্গার ৪'-এ এই জন্যেই উল্লেখযোগ্য হারে সেনার সংখ্যা বাড়িয়েছিল চিন যাতে ভারতীয় সেনারা আর 'ফিঙ্গার ৮' এর দিক দিয়ে টহল দেওয়ার সুযোগ না পায়।












Click it and Unblock the Notifications