করোনার থাবা মাওবাদী অধ্যুষিত গ্রামে, কড়া নিরাপত্তা নিয়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রবেশ সুকমায়
করোনার থাবা মাওবাদী অধ্যুষিত গ্রামে
থমথমে পরিবেশ, হামলা হওয়ার আশঙ্কা প্রবল, যে কোনও মুহূর্তে ঘটে যেতে পারে চরম বিপদ। কিন্তু তাও প্রাণের ঝুঁকি নিয়েই তিনজন সশস্ত্র নিরাপত্তা কর্মীর সঙ্গে ন’জন নার্স ও দু’জন চিকিৎসক প্রবেশ করলেন ছত্তিশগড়ের মাওবাদী অধ্যুষিত সুকমা জেলার কর্মা গোন্ডি গ্রামে। লক্ষ্য কোভিড–১৯ টেস্ট। কাছাকাছি হাইওয়ে থেকে প্রায় ২৫ কিমি ভেতরে জঙ্গলে ঘেরা এই গ্রাম। গত কয়েক সপ্তাহে তিনজনের মধ্যে একজন করোনা পজিটিভ ও বর্তমানে ২৩৯ জনের মধ্যে ৯১ জনের কোভিডে আক্রান্ত হওয়ার খবর মিলেছে।

করোনা আক্রান্তর চিকিৎসা চলছে
করোনা পজিটিভ সকলকে জেলার সদরে কোভিড কেয়ার কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে এবং গ্রামটিকে কনটেইনমেন্ট জোন হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে। কর্মা গোন্ডির মধ্যে পিপিই কিট পরে স্বাস্থ্যকর্মীরা প্লাস্টিকে আটকে থাকা গাছের শাখাগুলি এড়িয়ে গলি দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। করোনা টেস্টের জায়গাটি নিম গাছের নীচে করা হয়েছে ২টি টেবিল ও প্লাস্টিক চেয়ার সহযোগে। এগুলির বন্দোবস্ত করেছে গ্রাম থেকে ২০ কিমি দূরে অবস্থিত কুকানার পুলিশ স্টেশনে।

প্রথম করোনা কেস
গ্রামের প্রথম করোনা কেস ধরা পড়ে জেলা হাসপাতালে এক গর্ভবতী মহিলার শরীরে। যদিও গ্রামবাসীরা দাবি করেছেন যে গ্রামের একাধিক মানুষ অসুস্থ হওয়ার পরই তারা হেল্পলাইন নম্বরে সেটি জানায়। ছিন্দগড়ের কোভিড-১৯-এর দল গ্রামে পৌঁছায় ১৯ মে। কারণ তাঁদের জানানো হয়েছিল যে কর্মা গোন্ডিতে করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। এই দলের অন্তর্ভুক্ত এক কর্মী নেহারু মর্কাম জানান, ৪১ জন কর্মী প্রথম দিনই করোনা পজিটিভ ধরা পড়ে। তিনি বলেন, 'সকলের জ্বর ছিল। আমরা দরজায় দরজায় ঘুরে নজরদারি করেছি এবং উপসর্গ রয়েছে যাঁদের তাঁদের প্রথম করোনা টেস্ট করা হয়।'

করোনা কেস সুকমা জেলায়
গত বছরের মার্চ থেকে এখনও পর্যন্ত সুকমা জেলায় ৫,৬৮০টি কোভিড-১৯ কেস সনাক্ত হয়েছে এবং ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। রাজ্যে সবচেয়ে কম সক্রিয় করোনা কেস রয়েছে সুকমাতেই ১৯০টি। তবে কর্মা গোন্ডির মতো প্রত্যন্ত এলাকায়, নুন্যতম স্বাস্থ্য পরিষেবা রয়েছে সেখানে কোভিড-১৯ -এর মতো সংক্রমণ হওয়ায় তা খুবই উদ্বেগজনক। কুন্না গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত কর্মা গোন্ডি গ্রামের সবচেয়ে কাছের স্বাস্থ্য কেন্দ্র হল কুকানারে। যদিও গুরুতর অসুস্থ অধিকাংশ গ্রামবাসীকে জেলা সদরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের উদ্যোগ
জেলা শাসক বিনীত নন্দনওয়ার জানিয়েছেন যে তাঁদের নজর দ্রুত সনাক্তকরণ, কড়া পর্যবেক্ষণ ও চেইন ভাঙার দিকে রয়েছে। তিনি বলেন, 'আমরা ছোট ছোট গ্রামে ক্লাস্টার তৈরি করেছি এবং সেখানে নোডাল প্রধানকে নিয়োগ করেছি। আমাদের সক্রিয় কেসগুলি কখনই ৫০০ অতিক্রম করেনি, তবুও আমরা একযোগে ২ হাজারেরও বেশি মামলার জন্য প্রস্তুত।' কর্মা গোন্ডির ৪০ বছরের সাবিত্রী মদকামির করোনা টেস্টের আগে গত ১০ দিন ধরে জ্বর ছিল। তিনি বলেন, 'আমরা বাড়িতে তৈরি ওষুধ খেয়েছি।' তাঁর দুই ছেলে নাঙ্কু (২২) ও বুধারু (১৭) উভয়েরই জ্বর ছিল। মদকামি জানান যে তিনি কি করে এই ভাইরাসের সংস্পর্শে এলেন জানেন না। নিজেদের প্রয়োজন মতো সবজি ফলানোর জন্য ছোট জমি রয়েছে তাঁদের, এই পরিবারের সঙ্গে খুব কম যোগাযোগ বাইরের জগতের। মদকামি এও বলেন, 'মান্ডিও এখন বন্ধ রয়েছে।' সুতরাং তাঁরা বাজারেও যাচ্ছেন না।

কোথা থেকে সংক্রমণ হল উৎস অজানা
সরকারি আধিকারিকরাও খুবই অবাক হচ্ছেন যে এই প্রত্যন্ত গ্রামে কীভাবে ভাইরাস প্রবেশ করল। ছিন্দগড়ের এক স্বাস্থ্য সেবা পেশার সঙ্গে যুক্ত কর্মী বলেন, 'একমাস আগে প্রতিবেশী গ্রামে কোভিড-১৯ কেস দেখা দিয়েছিল। এমনকী এখানকার অনেকে অন্ধ্রপ্রদেশে কাজ করতেন তাঁরাও একমাস আগে ফিরে এসেছেন। এটা নতুন সংক্রমণ এবং তা কীভাবে এল জানি না।' তবে পঞ্চায়েত রামকুমার পোরিয়াম বলেন, 'তেন্ডু পাতা সংগ্রহের জন্য অনেকে একত্রিত হন। সেখান থেকে সংক্রমণ ছড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।'

সরকারের ওপর ক্ষোভ গ্রামবাসীদের
সরকারি কর্মকর্তারা এও জানান যে স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর পাশাপাশি সরকারের কর্মীদের ওপর, বিশেষ করে তথ্যের অভাবে গ্রামবাসীদের বিশ্বাসের অভাব রয়েছে, যা কাজ করার ক্ষেত্রে বেশ চ্যালেঞ্জের। জেলা শাসক নন্দনওয়ার জানিয়েছেন সম্প্রতি স্বাস্থ্যকর্মীরা ইচ্ছাকৃতভাবে করোনা পজিটিভ রিপোর্ট দিচ্ছে বলে গ্রামবাসীরা তাঁদের দিকে তীর-ধনুক নিয়ে হামলার চেষ্টা করেন। স্বাস্থ্য কর্মীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনী ছাড়াও কুকানার পুলিশ থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসার নরেন্দ্র দুবেও ছিলেন। তিনি বলেন, 'এখানে মাওবাদীদের ভয় রয়েছে, এছাড়াও গ্রামবাসীরাও আক্রমণাত্মক ও অস্ত্রও রয়েছে তাঁদের, আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।'
-
আরও একটি সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন, আর কত নাম নিষ্পত্তি হওয়া বাকি? -
বাংলায় ভোট পরবর্তী হিংসা রুখতে অনির্দিষ্টকালের জন্য থাকবে কেন্দ্রীয় বাহিনী -
ভোটের আগেই কমিশনের কড়া নির্দেশ! অনুমতি ছাড়া জমায়েত নয়, নিয়ম ভাঙলেই গ্রেফতার, রাজ্যজুড়ে জারি কঠোর নির্দেশ -
দাগি নেতাদের নিরাপত্তা কাটছাঁট কতটা মানল পুলিশ? স্টেটাস রিপোর্ট চাইল নির্বাচন কমিশন -
যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝেই বড় রদবদল! মার্কিন সেনা প্রধানকে সরাল ট্রাম্প প্রশাসন, কারণ কী, জল্পনা তুঙ্গে -
আরও একটি মার্কিন F-35 যুদ্ধবিমান ধ্বংসের দাবি ইরানের, কী বলছে আমেরিকা? -
এপ্রিলে শক্তিশালী ত্রিগ্রহী যোগ, শনি-সূর্য-মঙ্গলের বিরল মিলনে কাদের থাকতে হবে সতর্ক? -
এপ্রিলেই বাড়ছে গরমের দাপট! আগামী সপ্তাহেই ৪-৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বাড়ার আশঙ্কা, কী জানাচ্ছে হাওয়া অফিস -
পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের প্রভাব! শিল্পে ধাক্কা, একলাফে বাড়ল ডিজেলের দাম, কত হল? জানুন -
পুর-নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ভোটের আগে তৃণমূলের দুই হেভিওয়েট নেতাকে ইডির তলব -
পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ! MRI Scan-এর খরচ আকাশছোঁয়া হতে পারে, বিপাকে পড়তে পারেন রোগীরা -
অমিত শাহের রাজ্যে থাকার ঘোষণায় তীব্র কটাক্ষ মমতার, বললেন, যত বেশি থাকবে, তত ভোট কমবে












Click it and Unblock the Notifications