জারি হয়েছে মৃত্যু পরোয়ানা, দিল্লিতে থাকা এই আফগান মহিলার দুর্দশার কথায় শিউরে উঠবেন আপনিও
জারি হয়েছে মৃত্যু পরোয়ানা, দিল্লিতে থাকা এই আফগান মহিলার দুর্দশার কথায় শিউরে উঠবেন আপনিও
গোটা আফগানিস্তানই নিজেদের কব্জায় নিয়েছে তালিবানিরা। ফের মধ্যযুগীয় বর্বরতার সাক্ষী থাকছে গোটা বিশ্ব। এবার তার মাঝেই বড়সড় প্রশ্নের মুখে পড়ে গিয়েছে নারী স্বাধীনতা। জারি হচ্ছে একের পর এক ফতোয়া। এবার ভারতে থাকা এক মহিলার বিরুদ্ধে মৃত্যু পরোয়ানা জারি করতে দেখা গেল তালিবানদের। তালিবাদের তথ্য মতে ওই মহিলার অপরাধ সে তাঁর স্বামীকে অবৈধ ভাবে ডিভোর্স দিয়েছে।

তালিবান ভয়েই দেশ ত্যাগ
এদিকে সূত্রের খবর, বর্তমানে ওই মহিলা ভারতে রয়েছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তান ছেড়ে বছর চারেক আগেই ভারতে চলে আসেন ওই মহিলা। এমনকী সেই সময় তিনি জানতে পারেন তার স্বামী সক্রিয় তালিবান সদস্য। একথা জানা মাত্রই তিনি ডিভোর্স দিয়ে দেন তাঁর স্বামীকে। সেসময় ওই মহিলার বিরুদ্ধে বিশেষ কোনও ব্যবস্থা নিতে না পারলেও বর্তমানে ক্ষমতা দখলের পরেই ওই মহিলার খোঁজে মাঠে নেমেছে তালিবানেরা।

তালিবানদের কাছে বিক্রি হয়েছে দুই মেয়ে
সূত্রের খবর, হায়াত(নাম পরিবর্তিত) নামের ওই মহিলা বর্তমানে তার দুই মেয়ের সাথে দিল্লিতে রয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনের বয়স ১৩ একজনের ১৪। যদিও হায়াতের আরও দুই মেয়েকে তারই স্বামী তালিবানদের কাছে বিক্রি করে দিয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন ওই মহিলা। বর্তমানে হায়াতই জানাচ্ছেন তিনি জানতে পেরেছেন তার বিরুদ্ধে মৃত্যু পরোয়ানা জারি করেছে তালিবানেরা।আর সে কারনেই আফগানিস্তানে যেতে রীতিমতো ভয় পাচ্ছেন তিনি।

দিল্লিতে জিম ট্রেনার হিসাবে কাজ করেন ওই মহিলা
বর্তমানে দিল্লিতে জিম ট্রেনার হিসাবে কাজ করেন হায়াত। নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে নিয়েছেন নিজেদের বাড়িও। বর্তমানে আফগানিস্তানের ভয়ঙ্কর অবস্থার কখা ভেবে কার্যত ভেঙে পড়চেন হায়াত। তালিবানদের কব্জায় থাকা নিজেরে আরও দুই মেয়ের কথা ভেবে বারেবারেই শিউরে উঠছেন তিনি। এই প্রসঙ্গে স্মৃতিচারনা করতে গিয়ে হায়াত বলেন, "আমার স্বামী আমাকে চারবার ছুরিকাঘাত করার চেষ্টা করেছিল যার দাগ এখনও আমার মাথা, ঘাড় এবং আঙুলে রয়েছে।ওই দুর্বিষদ দিনের কথা আমি কখনও ভুলতে পারব না।"

মেয়েদের কথা উঠতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন হায়াত
তালিবানদের কব্জায় থাকা দুই মেয়ের কথা বলতে বলতে কার্যত কান্নায় ভেঙে পড়েন ওই আফগান মহিলা। বেদনাকাতর স্বরেই বলে ওঠেন, আমার অন্য দুই মেয়েকে কোন এলাকার তালিবানদের কাছে বিক্রি করা হয়েছে সে সম্পর্কে আমার কাছে কোনো তথ্যই নেই। তারা কোথায় কী অবস্থায় রয়েছে আমি কিচ্ছু জানিনা। আমার স্বামী আমাকে হুমকী দিয়ে বলেছিল সে আমার অন্য দুই মেয়েকেও বিক্রি করবে। আর তাই প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে আমি আফগানিস্তান ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছি।"
প্রতীকী ছবি












Click it and Unblock the Notifications