নাগাড়ে চলছে ইরানের প্রতিবাদ, মৃত ১৮৫
ইরানে নাগাড়ে চলছে হিজাব নিয়ে প্রতিবাদ। এই প্রতিবাদের ঝড় বেড়েছে এক তরুণীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে। ওই তরুণীর পুলিশি হেফাজতে থাকাকালীন মৃত্যু হয়। আর তা নিয়েই প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে সেখানে। খবর মিলছে এই হিজাব প্রতিবাদ নিয়ে ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১৮৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। একটি মানবাধিকার সংস্থার সূত্রে এমনটাই খবর মিলেছে।

মাহশা আমিনির শবযাত্রা
এর শুরু হয়েছিল ১৭ সেপ্টেম্বর বছর বাইশের মাহশা আমিনির শবযাত্রা থেকে। এই শবযাত্রা হচ্ছিল সাকেজ নামক এক কুর্দি শহরে হচ্ছিল। তা নিয়ে ঘটনার সূত্রপাত। তারপর থেকে প্রতিবাদের আকার ক্রমে বেড়েছে। নরওয়ের হিউম্যান রাইট সংগঠন বলেছে যে, "এই ঘটনায় অন্তত ১৮৫ জন মারা গিয়েছে। এর মধ্যে ১৯ জন শিশুও ছিল। সবথেকে বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে সিস্তান এবং বালুচিস্তান প্রদেশে। বলা হচ্ছে এই অঞ্চলেই মোট মৃত্যুর অর্ধেক মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

সোশ্যাল মাধ্যমে
যে সব ভিডিও সোশ্যাল মাধ্যমে দেখা যাচ্ছে সেখানে বলা হচ্ছে প্রত্যেক শহর থেকে হাজার হাজার মানুষ প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। শ'য়ে শ'য়ে স্কুলের ছাত্র ছাত্রীরা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। পুলিশ প্রতিবাদিদের উপর টিয়ার গ্যাস ছোঁড়ে। ছোঁড়া হয় গুলি। ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ আরও নানাভাবে আক্রমণ করে, তবে লাভের লাভ কিছু হয়নি।

সর্বস্তরের মানুষ এই বিক্ষোভ
ইরানে প্রথমে মহিলারা বিক্ষোভ শুরু করলেও এখন দেশের সর্বস্তরের মানুষ এই বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করেছে। স্কুলছাত্রীরা স্লোগান দিতে দিতে রাস্তায় নামতে শুরু করেছেন। ইরানের শ্রমিকরা ধর্মঘটে গিয়েছেন। ইরানের অতি রক্ষণশীল প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসিকেও বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছে। নতুন শিক্ষাবর্ষ উপলক্ষ্যে আল জাহারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ফটোগ্রাফের জন্য দাঁড়িয়েছিলেন ইরানি প্রেসিডেন্ট। সেই সময় জাহারা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাংশ প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, নির্যাতকের মৃত্যু হোক বলে ছাত্রীরা স্লোগান দিতে থাকেন।

ভয়াবহ পরিস্থিতি হয়েছে কুর্দিস্তানে
বিক্ষোভে সব থেকে ভয়াবহ পরিস্থিতি হয়েছে কুর্দিস্তানে আমিনির শহর সাকেজে। সেখানে স্কুল ছাত্রীরা 'নারী, জীবন, স্বাধীনতা' বলে স্লোগান দিতে থাকে। সম্প্রতি ইন্টারনেটে ইরানের বিক্ষোভের একটি ভয়াবহ ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। সেখানে দেখা গিয়েছে এক ব্যক্তি গাড়ির চাকায় বসে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। ইরানের পুলিশ তাঁকে গুলি করে হত্যা করে। ভিডিও ভাইরাল হয়ে যাওয়ার পর সমালোচনার মুখে পড়ে কুর্দিস্তানের পুলিশ। ইরানের পুলিশ এই প্রসঙ্গে জানিয়েছে, বিদ্রোহী শক্তিকে দমন করতে গুলি চালানো হয়েছে। এই ঘটনার পরেই কুর্দিস্তানের রাজধানী সানন্দাজে বিক্ষোভ আরও ভয়ঙ্কর আকার নেয়। পুলিশের ওপর বিক্ষুদ্ধ বিদ্রোহীরা ঝাঁপিয়ে পড়ে।












Click it and Unblock the Notifications