উত্তরাখণ্ডে তুষারধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬, পুরু বরফের নীচে আটকে আরও ৩ শ্রমিক
উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলার মানা গ্রামের কাছে ভয়াবহ তুষারধসের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৬। রবিবার সেনাবাহিনী আরও একটি মৃতদেহ উদ্ধার করেছে বলে জানিয়েছেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল মনীশ শ্রীবাস্তব। এখনও তিনজন নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চলছে এখনও।
সেনাবাহিনী, আইটিবিপি, বিমান বাহিনী, এনডিআরএফ এবং এসডিআরএফ যৌথভাবে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে। আটকে পড়া ব্যক্তিদের নিরাপদে সরিয়ে আনার জন্য হেলিকপ্টার ও ড্রোন প্রযুক্তির সহায়তা নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে, উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি টানা দ্বিতীয় দিনের মতো এদিনও দুর্যোগ নিয়ন্ত্রণ স্থান পরিদর্শন করেন এবং উদ্ধারকাজ কতদূর সম্পন্ন হল, সেই বিষয়ে জানতে চান।
ভারতীয় বিমান বাহিনী (IAF) ড্রোন-এর মাধ্যমে অনুসন্ধান চালাচ্ছে, যা বরফের নিচে আটকে পড়া ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে সক্ষম। এছাড়াও উদ্ধার অভিযানের জন্য হেলিকপ্টার মোতায়েন করা রয়েছে। ১টি MI-17 হেলিকপ্টার, ৩টি চিতা হেলিকপ্টার, ২টি উত্তরাখণ্ড সরকারি হেলিকপ্টার, ১টি AIIMS Rishikesh এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থলে উপস্থিত রয়েছে। যেকোনও সময় আটকে থাকা শ্রমিকদের মধ্যে কেউ উদ্ধার হলে তাঁকে তৎক্ষণাৎ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্যেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও, ভিকটিম লোকেটিং ক্যামেরা (VLC) ও থার্মাল ইমেজ ক্যামেরা ব্যবহার করে নিখোঁজদের সন্ধান চলছে।
এই প্রসঙ্গে, উদ্ধার পাওয়া একজন শ্রমিক, বিজয় পান্ডে, জানান, "আমরা যখন কন্টেইনারের ভেতরে ছিলাম, তখন তুষারধসের ধাক্কায় সেটি বহুদূর ভেসে যায়। আমরা সবাই তুষারের নিচে চাপা পড়ে গিয়েছিলাম"।
আপাতত, ২৪ জন উদ্ধার হওয়া শ্রমিক চিকিৎসাধীন রয়েছে। যার মধ্যে একজনকে গুরুতর অবস্থায় AIIMS Rishikesh-এ পাঠানো হয়েছে।
প্রবল তুষারপাতের কারণে উদ্ধার অভিযান কঠিন হয়ে পড়েছে, তবে প্রশাসন ও সেনাবাহিনী সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। নিখোঁজদের উদ্ধারে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে, এবং প্রয়োজন হলে আরও হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।












Click it and Unblock the Notifications