করোনার ছত্রতলেই বাড়ছে ‘সাইটোমেগালো’ আতঙ্ক! কতটা ভযঙ্কর এই নয়া ভাইরাস
করোনার ছত্রতলেই বাড়ছে ‘সাইটোমেগালো’ আতঙ্ক! কতটা ভযঙ্কর এই নয়া ভাইরাস
এ বছরের এপ্রিল-মে জুড়ে করোনার দ্বিতীয় পর্যায়ের দাবানল তছনছ করেছে গোটা দেশকে। বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও নিত্যদিন কোভিডের নতুন নতুন উপসর্গ ও নয়া স্ট্রেনের উদ্ভবে চিন্তার ভ্রুকুটি চওড়া হচ্ছে গবেষকদের কপালে। এহেন বিপদসঙ্কুল পরিবেশে চিন্তা বাড়াচ্ছে সাইটোমেগালোভাইরাস ওরফে সিএমভি ভাইরাস। করোনার আক্রমণে মুমূর্ষু রোগ প্রতিরোধী ক্ষমতাকে নাস্তানাবুদ করছে এই সিএমভি।

কোভিড ধরা পড়ার একমাসের মাথায় সিএমভি
দেশের বেশ কিছু হাসপাতাল মারফত খবর, কোভিড ধরা পড়ার পর ২০-৩০ দিনের মাথায় ধরা পড়ছে সিএমভি ভাইরাসের অস্তিত্ব। এক্ষেত্রে আক্রান্ত রোগীদের মলদ্বারে রক্তপাত ও তলপেটে যন্ত্রণার ন্যায় উপসর্গ চোখে পড়ছে চিকিৎসকদের। ফরটিস হাসপাতালের সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ডঃ কীর্তি সাবনিসের মতে, "কোভিড চিকিৎসায় স্টেরয়েড ব্যবহারের ফলে রোগীদের মধ্যে সিএমভি বা হিউম্যান হার্পিসভাইরাস ৫ (এইচএইচভি-৫) নজরে আসছে।"

রোগ প্রতিরোধে দুর্বল হলেই সমস্যা বাঁধাবে সিএমভি
"ছোটবেলায় অনেককেই আক্রমণ করলেও উপসর্গহীন থাকে সিএমভি। অনেকের দেহেই সারাজীবন কোনো সমস্যা না করেই থেকে যায় এই ভাইরাস। যদিও এইডস, কর্কটের ন্যায় দুরারোগ্য ব্যাধি থাকলে আসল রূপ দেখায় সিএমভি", ডঃ কীর্তি জানান এমনটাই। আক্রান্ত ব্যক্তির থুতু, দেহরস, রক্ত, মূত্র বা বুকের দুধ মারফত ছড়াতে পারে সিএমভি। গবেষকদের মতে, কোভিড ও করোনার চিকিৎসায় ব্যবহৃত জটিল স্টেরয়েডের কারণে দুর্বল হয় শরীর, ফলে আক্রমণ করতে সুবিধা হয় সিএমভির।

লিম্ফোসাইট কম থাকলে সিএমভির আধিক্য
গবেষকদের মতে, দেহে ২০-৪০%-এর বদলে মাত্র ৬-১০% লিম্ফোসাইট থাকলে সিএমভি সক্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। উপসর্গযুক্ত সিএমভির ক্ষেত্রে জ্বর, রাতের বেলায় ঘর্ম, পেশি-গাঁটে ব্যাথা, খিদে কমে যাওয়া ও ওজন কমার মতো লক্ষণ দেখা যায়। ডঃ সাবনিসের বক্তব্য, "সাধারণত আক্রান্ত হওয়ার দু'সপ্তাহের মধ্যেই উপসর্গ উবে যায়। তবে চোখ, ফুসফুস বা পৌষ্টিকতন্ত্রের নানা অঙ্গে সিএমভি আক্রমণ করলে উপসর্গ ভিন্ন হয়।"

সিএমভির মূল উপসর্গ কী কী?
সিএমভির সম্ভাব্য উপসর্গ সম্বন্ধে সংবাদমাধ্যমকে বিস্তারিত জানিয়েছেন ডঃ কীর্তি। সাধারণত জ্বর, ডায়রিয়া, পেটে গ্যাসের সমস্যা, গুহ্যদ্বারে রক্তপাত, শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া এবং রক্তে অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা গেলে সিএমভির উপসর্গ হিসেবে ধরে নেওয়া হয়। তাছাড়া মুখে আলসার, ঝাপসা দৃষ্টি, হেপাটাইটিস, পাকস্থলীর বৃদ্ধি, এনসেফালাইটিস, এমন কী কোমায় পর্যন্ত চলে যেতে পারেন সিএমভি রোগী। স্বভাবতই এর মধ্যে যেকোনো উপসর্গ চোখে পড়লে যথা সত্ত্বর নিকটবর্তী হাসপাতালে যোগাযোগের পরামর্শ দিচ্ছেন গবেষকরা।












Click it and Unblock the Notifications