ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় মন্থা, একাধিক রাজ্যে জারি রেড অ্যালার্ট, কোন পূর্বাভাস বাংলায়?
দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপটি শক্তিশালী হয়ে আগামী মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবরের মধ্যে 'মন্থা' নামক এক ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। এই পরিস্থিতিতে অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলঙ্গানা এবং তামিলনাড়ুসহ বেশ কয়েকটি রাজ্যে সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। বিপর্যয় মোকাবিলায় এমনকী তৈরি রয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনীও। ভারতের দক্ষিণাঞ্চলের উপদ্বীপ এলাকা ছাড়াও ওড়িশাতেও ঘূর্ণিঝড় মন্থার সম্ভাব্য প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তামিলনাড়ু, ওড়িশা এবং তেলঙ্গানা ঘূর্ণিঝড় মন্থার সর্বাধিক প্রভাবের মুখোমুখি হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। ভারতের আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরের ওপর সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপটি পশ্চিম-উত্তর পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

সোমবারের মধ্যে এটি দক্ষিণ-পশ্চিম এবং সংলগ্ন পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরের ওপর ঘূর্ণিঝড়ে রূপান্তরিত হতে পারে। এরপর ২৮ অক্টোবর সকালের মধ্যে এটি আরও শক্তিশালী হয়ে 'ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ে' পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
যদি এই গভীর নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়, তবে এর নাম হবে 'মন্থা'। নামটি দিয়েছে থাইল্যান্ড।
আইএমডি জানিয়েছে, গভীর নিম্নচাপটি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ২৮ অক্টোবর সন্ধ্যায় বা রাতে অন্ধ্রপ্রদেশের কাকিনাড়ার কাছে মাচিলিপত্তনম ও কলিঙ্গপত্তনমের মধ্য দিয়ে একটি ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় হিসেবে উপকূল অতিক্রম করতে পারে। উপকূলে আঘাত হানার সময় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৯০-১০০ কিলোমিটার হতে পারে, যা দমকা হাওয়ার সঙ্গে ১১০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে।
পূর্ব-মধ্য আরব সাগরে আর একটি নিম্নচাপ বিদ্যমান রয়েছে। যা ঘণ্টায় প্রায় ১৩ কিলোমিটার বেগে দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। রবিবার সকালে এটি মুম্বইয়ের প্রায় ৭৬০ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণ পশ্চিম, গোয়ার ৭৯০ কিলোমিটার পশ্চিমে এবং ম্যাঙ্গালোরের ৯৭০ কিলোমিটার পশ্চিম-উত্তর পশ্চিমে অবস্থান করছিল।
আগামী ২৪ ঘণ্টায় এটি পূর্ব-মধ্য আরব সাগর অতিক্রম করে দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে। আইএমডি জানায়নি যে এই সিস্টেমটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপান্তরিত হবে কিনা।
অন্ধ্রপ্রদেশে ২৭, ২৮ ও ২৯ অক্টোবরের জন্য রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। তেলঙ্গানা, ওড়িশা এবং ছত্তিশগড়কে পরবর্তী তিন দিনের জন্য রেড ওয়ার্নিংয়ের আওতায় রাখা হয়েছে।
আইএমডি জানিয়েছে, দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরের গভীর নিম্নচাপটি ২৭ অক্টোবরের মধ্যে দক্ষিণ-পশ্চিম ও সংলগ্ন পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় মন্থায় এবং ২৮ অক্টোবর সকালের মধ্যে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ে রূপান্তরিত হওয়ার সম্ভাবনার কারণে এসব রাজ্যের কিছু অংশে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আইএমডির দাবি, অন্ধ্রপ্রদেশে ২৭, ২৮, ২৯ অক্টোবরের জন্য রেড অ্যালার্ট, ওড়িশায় ২৮ ও ২৯ অক্টোবরের জন্য, এবং তেলঙ্গানা ও ছত্তিশগড়ে শুধুমাত্র ২৮ অক্টোবরের জন্য রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। এদিকে, তামিলনাড়ুতে ২৭ ও ২৮ অক্টোবরের জন্য কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
তামিলনাড়ু ও পুদুচেরিতে আইএমডি'র বুলেটিন অনুযায়ী, ২৭ ও ২৮ অক্টোবর হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাতের সাথে বিচ্ছিন্নভাবে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ এবং বজ্রপাত ও দমকা হাওয়া (৩০-৪০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা) হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কেরলে ২৭ অক্টোবর ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা, এরপর তা কমতে পারে।
উপকূলীয় অন্ধ্রপ্রদেশে ২৬ থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত ব্যাপক বৃষ্টিপাত, যার মধ্যে ২৭ থেকে ২৯ অক্টোবর বিচ্ছিন্নভাবে চরম ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। তেলেঙ্গানায় ২৭ থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত, যার মধ্যে ২৮ অক্টোবর চরম ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। কর্ণাটকে ২৬ থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত মাঝারি বৃষ্টিপাত, বিশেষ করে উপকূলে বিচ্ছিন্নভাবে ভারী বর্ষণ হতে পারে।
এদিকে ওড়িশায় ২৭ থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত, যার মধ্যে ২৮ ও ২৯ অক্টোবর দক্ষিণ ওড়িশায় বিচ্ছিন্নভাবে চরম ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। ছত্তিশগড়েও ২৭ থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত, যার মধ্যে ২৮ অক্টোবর চরম ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে।
বিহার ও ঝাড়খণ্ডে ২৯ থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত। গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে ২৮ থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
ভারতীয় সেনাবাহিনী রবিবার জানিয়েছে যে পূর্ব-মধ্য আরব সাগর এবং দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর উভয় স্থানে ঘূর্ণিঝড়ের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় তারা উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে। এর মধ্যে শেষেরটি, অর্থাৎ বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপটি, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে 'মন্থা' ঘূর্ণিঝড়ে রূপান্তরিত হতে পারে।












Click it and Unblock the Notifications