Cyclone Mocha: সমুদ্রের তাপমাত্রা ক্রমেই বাড়ছে, ঘূর্ণিঝড় মোখার আম্ফান হয়ে ওঠার সম্ভাবনা প্রবল
সমুদ্রের উপরের তাপমাত্রা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। ঘূর্ণিঝড় মোখার অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার অনুকূল পরিবেশ রয়েছে মাঝ সমুদ্রে। দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হওয়ার পর মধ্য বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ রূপে অবস্থান করছে তা। এখন ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার পর শক্তি বাড়িয়ে কী রূপ নেবে মোখা তা নিয়েই চিন্তা আবহবিদদদের।
২০২৩-র প্রথম ঘূর্ণিঝড় তৈরির প্রাক্কালে ত্রস্ত বাংলা-সহ ভারতীয় উপকূল। ঘূর্ণিঝড় মোখার সম্ভাব্য প্রকৃতি আম্ফানের মতো লাগছে, তাই বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করেছে কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দফতর। তারা সতর্ক করে দিয়েছে বঙ্গোপসাগরের উপকূলবর্তী অঞ্চলগুলিতে।

মৌসম ভবন জানিয়েছেন বুধবারের মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নেবে বর্তমানে মাঝ সমুদ্রে সুস্পষ্ট নিম্নচাপ রূপে অবস্থান করা ঘূর্ণাবর্ত। আইএমডি-র ডিরেক্টর মৃত্যুঞ্জয় মহাপাত্র জানিয়েছে সাইক্লোনিক স্টর্ম ১১ মে উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম ধাবিত হয়ে মধ্য বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করবে।
আবহবিদরা জানিয়েছেন, সমুদ্রতলের তাপমাত্রা ২৬.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হলেই অনুকূল সাইক্লোনিক পরিস্থিতি তৈরি হয়। চারদিকে থেকে প্রবল গতিতে হাওয়া বইতে থাকে। তারই ফলে নিম্মচাপ ক্ষেত্র শক্তিশালী হয়ে ওঠে। আরও গতি বাড়িয়ে ঘূর্ণিঝড়ে বা অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে থাকে।
গত ৬ সেপ্টম্বর দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসারে তৈরি হওয়া ঘূর্ণাবর্ত ইতিমধ্যেই সুস্পষ্ট নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এরপর গভীর নিম্নচাপ থেকে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়া স্রেফ সময়ের অপেক্ষা বলে মনে করছে মৌসম ভবন। তারা পূর্বাভাস জানিয়েছে, সপ্তাহান্তে ঘূর্ণিঝড় মোখা সুপার সাইক্লোনেরও রূপ নিতে পারে!

মৌসম ভবন জানিয়েছে, বুধবার দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর থেকে সংলগ্ন পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও আন্দামান সাগরের দিকে এগিয়ে গিয়ে সুস্পষ্ট নিম্নচাপ থেকে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হবে। তারপর ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়ে বৃহস্পতিবার উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিক বরাবর পূর্ব ও মধ্য বঙ্গোপসাগরের দিকে এগোবে।
মধ্য বঙ্গোপসাগরে অবস্থান রত থেকে ঘূর্ণিঝড় মোখা গতিপথ বদল করতে পারে। এরপর উত্তর ও উত্তর-পূর্ব দিকে বাঁক নিয়ে বাংলাদেশ ও মায়ানমার উপকূলের দিকে এগোতে পারে বলে জানিয়েছে মৌসম ভবন। আলিপুর হাওয়া অফিসের তরফেও এই বার্তা দেওয়া হয়েছে।
তবে শেষমেশ ঘূর্ণিঝড় বাংলাদেশ বা মায়ানমারের উপকূলে আঘাত হানে কি না, সেটাই দেখার। এর আগে আম্ফানও ওই জায়গা থেকে শক্তি বাড়িয়ে পূর্বাভাসমতো ময়ানমার উপকূলের দিকে না গিয়ে সোজা পথে বাংলা ও বাংলাদেশ উপকূলে হানা দিয়েছিল। এবারও সমুদ্রে সেই পরিবেশ রয়েছে। সমুদ্রের জলের উষ্ণতা ঘূর্ণিঝড়কে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপান্তরিত করতে পারে।












Click it and Unblock the Notifications