ঘণ্টায় ১৭৫ কিমি বেগে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড়! ‘নার্গিসে’র ধ্বংসলীলাকে ছাপিয়ে যাবে কি ‘মোখা’?
২০০৮ সালে ঘূর্ণিঝড় নার্গিস ধ্বংসলীলা চালিয়েছিলেন মায়নামার উপকূলে। সেই স্মৃতি ফের উসকে দিল ঘূর্ণিঝড় মোখা। 'নার্গিসে'র ধ্বংসলীলার আতঙ্ক আজ ফের ময়ানমারবাসীর চোখে-মুখে। ঘূর্ণিঝড় মোখা কিন্তু এক্সট্রিম সিভিয়ার সাইক্লোনিক স্টর্মের রূপ নিয়ে ধেয়ে আসছে মায়ানমার অভিমুখে।
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস, রবিবার বাংলাদেশ-মায়ানমার উপকূলে আছড়ে পড়বে ঘূর্ণিঝড় মোখা। আইএমডি জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড় মোখা বাংলাদেশের কক্সবাজার ও মায়ানমারের ক্যায়ুকপিউয়ের মধ্যে ল্যান্ডফল করবে ঘণ্টায় ১৫০ থেকে ১৬০ কিলোমিটার গতিবেগে তা আছড়ে পড়তে পারে।

পূর্বাভাসের আরও জানানো হয়েছে ঘূর্ণিঝড় মোখার সর্বোচ্চ গতিবেগ হবে ঘণ্টায় ১৭৫ কিলোমিটার। এই পূর্বাভাস ঘুম কেড়ে নিয়েছে বাংলাদেশ-মায়ানমার উপকূলবর্তী মানুষের। তাহলে কি আরও একটা ধ্বংসলীলা দেখতে হবে। আবারও কি ১৫ বথর আগের সেই বীভৎসতা ফিরে আসবে মায়ানমারের বুকে!
সেটাও ছিল মে মাস। ২০০৮ সাল। বঙ্গোপসাগররে বুক চিরে ধেয়ে এসেছিল ঘূর্ণিঝড় নার্গিস। মায়ানমারের দক্ষিণ-পশ্চিমের ইরাবতী অঞ্চলে আছড়ে পড়েছিল তা। বিধ্বংসী ঝড়ের সঙ্গে তা আঘাত হানে ইরাবতী নদীর ব-দ্বীপ অঞ্চলে। ইরাবতী নদীর ব-দ্বীপ অঞ্চলে আশেপাশের জনবহুল এলাকাগুলোকে ধ্বংস করে দেয় সেই ঝড়।

ঘণ্টায় ১৬৫ কিলোমিটার বেগে তা আছড়ে পড়েছিল মায়ানমার উপকূলে। এই ঝড়ের প্রভাবে কমপক্ষে ১ লক্ষ ৩৮ হাজার মানুষ মারা গিয়েছিলেন। এবং কয়েক হাজার বাড়ি-ঘর নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিল। তারপর ফের ধেয়ে আসছে আর এক সেমি সুপার সাইক্নোন। এখন পর্যন্ত যে গতিবেগের কথা জানানো হয়েছে, তা ঘূর্ণিঝড় নার্গিসের থেকেও বেশি।
এই অবস্থায় প্রশাসনের তরফে সমস্তরকম ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মোতায়েন করা হয়েছে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, সেনাকে। উপকূলবর্তী এলাকা থেকে সরানো হয়েছে লোকজন। বিপর্যু রুখতে তৈরি একদিকে মায়ানমার, অন্যদিকে বাংলাদেশ প্রশাসন। সাগর ফুঁসতে শুরু করেছে। জলোচ্ছ্বাসের সম্ভাবনাও প্রবল।

আবহাওয়ার পূর্বাভাস, রবিবার বিকেলে তা আছড়ে পড়তে পারে। যে গতিতে বঙ্গোপসাগর দিয়ে এগোচ্ছে ঘূর্ণিপাক, তা উপকূল ছুঁতে পারে ওইদিন সন্ধ্যার মধ্যে। তারপরই শুরু হবে দুর্যোগ। বাংলাদেশ ও মায়ানমারে তাণ্ডব চালাবে মোখা। সোমবার পর্যন্ত চলবে দুর্যোগ। আর যদি বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়ে তবে প্রলম্বিত হবে দুর্যোগ।
এদিকে রবিবার পর্যন্ত মধ্য ও উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর এবং উত্তর আন্দামান সাগর উত্তাল থাকবে। চলবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ। আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ ছাড়া উত্তর-পূর্বের ত্রিপুরা ও মিজোরাম-সহ কয়েকটি রাজ্যের জন্য সতর্কতা জারি করা হয়েছে। নাগাল্যান্ড, মণিপুর এবং দক্ষিণ আসামেও বিচ্ছিন্নভাবে বৃষ্টি হবে।












Click it and Unblock the Notifications