Cyclone Mocha: ঘূর্ণিঝড় মোখা ধেয়ে আসবে ঘণ্টায় ১৫০ কিমি বেগে! কোন উপকূলে চলবে তাণ্ডব
বঙ্গোপসারে তৈরি হওয়া ঘূর্ণাবর্ত ইতিমধ্যেই সুস্পষ্ট নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এরপর গভীর নিম্নচাপ থেকে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়া স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। মৌসম ভবনের তরফে সেই পূর্বাভাস জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে তারা জানিয়ে দিয়েছে সপ্তাহান্তে ঘূর্ণিঝড় মোখা সুপার সাইক্লোনেরও রূপ নিতে পারে!
মৌসম ভবনের পূর্বাভাস অনুযায়ী ঘূর্ণিঝড় মোখা ঘণ্টায় ১৫০ কিমি বেগে আছড়ে পড়তে পারে সমুদ্র উপকূলে। এই সপ্তাহেই ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নেওয়ার পর তা শক্তি বাড়িয়ে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপান্তরিত হবে। অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপান্তরিত হলে মোকার গতিবেগ হতে পারে ঘণ্টার ১৫০ কিলোমিটার।

মৌসম ভবন আরও জানিয়েছে বৃহস্পতিবার ঝড়ের সর্বোচ্চ গতিবেগ হতে পারে ঘণ্টায় ১০০ কিমি। কিন্তু শুক্র ও শনিবারই ঝড়ের বেগ বেড়ে ঘণ্টায় ১৩০ থেকে ১৪০ কিলোমিটার হতে পারে। সর্বোচ্চ গতিবেগ হবে ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার। সেইসঙ্গে ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাব্য গতিপথও জানিয়েছেন আবহবিদরা।
মৌসম ভবন জানিয়েছে, বুধবার দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর থেকে সংলগ্ন পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও আন্দামান সাগরে ঘূর্ণিঝড় তৈরি হতে পারে। তারপর বৃহস্পতিবার উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিক বরাবর পূর্ব ও মধ্য বঙ্গোপসাগরের দিকে এগোবে। এরপরই মোখা গতপিথ বদল করতে পারে।
ঘূর্ণিঝড় এরপর উত্তর ও উত্তর-পূর্ব দিকে বাঁক নিয়ে বাংলাদেশ ও মায়ানমার উপকূলের দিকে এগোতে পারে বলে জানিয়েছে মৌসম ভবন। আলিপুর হাওয়া অফিসের তরফেও এই বার্তা দেওয়া হয়েছে। তবে শেষমেশ ঘূর্ণিঝড় বাংলাদেশ বা মায়ানমারের উপকূলে আঘাত হানে কি না, সেটাই দেখার।

এর আগে আম্ফানও ওই জায়গা থেকে শক্তি বাড়িয়ে পূর্বাভাসমতো ময়ানমার উপকূলের দিকে না গিয়ে সোজা পথে বাংলা ও বাংলাদেশ উপকূলে হানা দিয়েছিল। এবারও সমুদ্রে সেই পরিবেশ রয়েছে। সমুদ্রের জলের উষ্ণতা ঘূর্ণিঝড়কে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপান্তরিত করতে পারে।
২০২৩-এর প্রথম ঘূর্ণিঝড় তৈরি হতে চলেছে বঙ্গোপসাগরে। সেই ঘূর্ণিঝড় মোখা নাম নিয়ে কোন উপকূল অভিমুখে ধেয়ে আসবে মোখা, তার পূর্বাভাসও মিলতে শুরু করেছে। ঘূর্ণিঝড় মোখার হাত থেকে এ যাত্রায় কি রক্ষা পাবে বাংলা? নাকি ২০২০ সালের স্মৃতি উসকে মোখা ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের মতোই সোজা ধেয়ে আসবে বাংলার দিকে।

পূর্ব অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভারতীয় আবহাওয়া সংস্থাগুলি সাবধানী পদক্ষেপ নিয়েছে। এখনও পর্যন্ত যদিও আভাস, ঘূর্ণিঝড় মোখা ১৩ বা ১৪ মে ভারতীয় উপকূলরেখাকে এ যাত্রায় বাঁচিয়ে মায়ানমার উপকূলে আছড়ে পড়বে। বেশিরভাগ মডেলই এমন ইঙ্গিত দিয়েছে।
তবে আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা এ কথাও উল্লেখ করেছেন যে, বঙ্গোপসাগরের ওই অঞ্চলে তাপের কারণে ঘূর্ণিঝড়ের দ্রুত তীব্রতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। আম্ফানের ক্ষেত্রে যেটা ঘটেছিল। দ্রুত শক্তিবাড়িয়ে গতিপথ বদলে উত্তর-পশ্চিমে ধেয়ে এসেছিল। তারপর বাংলা ও বাংলাদেশের উপকূলে তাণ্ডব চালিয়েছিল।












Click it and Unblock the Notifications