ঘূর্ণিঝড় মোখা কোথায় আছড়ে পড়বে, রক্ষা পাবে কি বাংলা? প্রাথমিক পূর্বাভাসে জানাল আইএমডি
২০২৩-এর প্রথম ঘূর্ণিঝড় মোখার তৈরি হতে চলেছে বঙ্গোপসাগরে। ইতিমধ্যেই ঘূর্ণাবর্ত বাসা বেঁধেছে। চা ক্রমে নিম্নচাপের রূপান্তরিত হবে, তারপরই শক্তি বাড়িয়ে ঘূর্ণিঝড় মোখার রূপ নিয়ে ধেয়ে আসবে উপকূল অভিমুখে। কিন্তু উপকূলের দিকে ধেয়ে আসবে মোখা, তার পূর্বাভাসও মিলতে শুরু করেছে।
এখন প্রশ্ন ঘূর্ণিঝড় মোখার হাত থেকে কি রক্ষা পাবে বাংলা? ঘূর্ণিঝড় কি উত্তর-পূর্বে ধেয়ে যাবে, নাকি উত্তর-পশ্চিমে। জিএফএস কিন্তু জানিয়েছিল, ঘূর্ণিঝড় মোখা উত্তর-পূর্বে ধেয়ে মায়ানমার উপকূলে আছড়ে পড়বে। সেক্ষেত্রে এ যাত্রায় রক্ষা পাবে বাংলা তথা ভারতীয় উপকূল।

কিন্তু পূর্ব অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভারতীয় আবহাওয়া সংস্থাগুলি সাবধানী পদক্ষেপ নিয়েছে। এখনও পর্যন্ত যদিও আভাস, ঘূর্ণিঝড় মোখা ১৩ বা ১৪ মে ভারতীয় উপকূলরেখাকে এ যাত্রায় বাঁচিয়ে মায়ানমার উপকূলে আছড়ে পড়বে। বেশিরভাগ মডেলই এমন ইঙ্গিত দিয়েছে।
তবে আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা এ কথাও উল্লেখ করেছেন যে, বঙ্গোপসাগরের ওই অঞ্চলে তাপের কারণে ঘূর্ণিঝড়ের দ্রুত তীব্রতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। আম্ফানের ক্ষেত্রে যেটা ঘটেছিল। দ্রুত শক্তিবাড়িয়ে গতিপথ বদলে উত্তর-পশ্চিমে ধেয়ে এসেছিল। তারপর বাংলা ও বাংলাদেশের উপকূলে তাণ্ডব চালিয়েছিল।

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ভারতের উপকূলীয় অঞ্চল তথা গাঙ্গেয়ের পশ্চিমবঙ্গে এই ঘূর্ণিঝড়ের কারণে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। আইএমডি নিশ্চিত করেছে যে, একটি ঘূর্ণিঝড় তৈরি হতে চলেছে। ইতিমধ্যে ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হয়ে গিয়েছে। ৮ মে তা নিম্নচাপে এবং পরদিন ৯ মে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার পর ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে শুরু করবে।
তীব্র ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনাও প্রবল। সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড় এবং ল্যান্ডফল পয়েন্ট সম্পর্কে সম্পর্কে প্রাথমিকভাবে জানানো হয়েছে, উত্তর-পূর্ব মায়ানমারে আছড়ে পড়বে ১৩ বা ১৪ মে। ভারতীয় উপকূলে কোনে ল্যান্ডফলের সতর্কতা জারি করা হয়নি। শনিবার আইএমডি ডিজি মৃত্যুঞ্জয় মহাপাত্র বলেছেন চূড়ান্ত পূর্বাভাস এখনই দেওয়া যাবে না।

শুধু ভারতের জন্য নয়, ভারতের প্রতিবেশী কয়েকটি দেশের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে ঘূর্ণিঝড় মোখা। তাই উপকূলবর্তী সমস্ত রাজ্যকেই সাবধান করে দেওয়া হয়েছে। মৎস্যজীবীরা যাতে উচ্চ সমুদ্র থেকে নিরাপদে ফিরে আসতে পারেন সময়ের মধ্যে, সেই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। সমস্ত ভারতীয় উপকূলেই জারি হয়েছে হলুদ সতর্কতা।
মায়ানমার সম্ভাব্য ল্যান্ডফল পয়েন্ট ধরা হলেও পশ্চিমবঙ্গ বা ওড়িশা উপকূলগুলি সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের দ্রুত তীব্রতা বৃদ্ধির সম্ভাবনার দিকে খেয়াল রাখতে হবে বলেও জানিয়েছে মৌসম ভবন। কারণ মার্চ মাস থেকে ওই অঞ্চলে প্রচুর তাপ রয়েছে। সেক্ষেত্রে ঘূর্ণিঝড়টি দ্রুত শক্তিশালী হয়ে গতিপথ বদল ঘটাতে পারে।












Click it and Unblock the Notifications