cyclone mocha: আম্ফানকে গতিতে চ্যালেঞ্জ! সুপার সাইক্লোনের রূপ নিয়ে ঘূর্ণিঝড় মোখার তাণ্ডব উপকূলে
অনুকূল পরিবেশ পেয়ে শক্তি বাড়িয়ে আম্ফানের মতোই সুপার সাইক্লোনে পরিণত হল ঘূর্ণিঝড় মোখা। আম্ফানের থেকেও তীব্র গতিতে উপকূলে আছড়ে পড়েছে মোখা, এখন আম্ফানের সর্বোচ্চ গতিকেও চ্যালেঞ্জ করতে শুরু করেছে। আম্ফানের তিন বছর পর ফের এক সুপার সাইক্লোনে বিধ্বস্ত হল বঙ্গোপসাগরের উপকূল।
দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হওয়ার পর তা দ্রুত শক্তি বাড়িয়ে অতি তীব্র ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছিল। শনিবার পর্যন্ত আবহাওয়া দফতরের খবর ছিল ঘণ্টায় ১৭০-১৭৫ কিলোমিটার বেগে আছড়ে পড়তে পারে ঘূর্ণিঝড় মোখা। কিন্তু তারপরও আরও শক্তি বাড়িয়ে সুপার সাইক্লোনের রূপ নেয় মোখা।

গতিতে তা রীতিমতো চ্যালেঞ্জ জানাতে থাকে আগের সুপার সাইক্লোন আম্ফানকে। আম্ফান পশ্চিমবঙ্গের বকখালিতে আছড়ে পড়েছিল ঘণ্টায় ১৫৫ কিলোমিটার গতিবেগে। সুপার সাইক্লোনের রূপ নিয়ে ঘূর্ণিঝড় মোখা কিন্তু ল্যান্ডফল করল ২১০ কিলোমিটার গতিবেগ। তা আরও শক্তি বাড়িয়ে আম্ফানকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে।
সুপার সাইক্লেন আম্ফানের সর্বোচ্চ গতিবেগ হয়েছিল ২৭০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টায়। তা মাত্র স্থায়ী হয়েছিল এক মিনিট। আর ঘণ্টায় ২৪০ কিলোমিটার গতিবেগ স্থায়ী হয়েছিল তিন মিনিট। এখন সুপার সাইক্নোন মোখা সেই গতি পেরিয়ে যায় কি না, সেটাই দেখার।

মার্কিন আবহাওয়া বিভাগের মতে সুপার সাইক্লোন মোখা ২৫০ কিলোমিটার গতিবেগে বইতে পারে। সেক্ষেত্রে আম্ফানের গতিবেগকে চ্যালঞ্জে ফেলে দেবে মোখা। ঘূর্ণিঝড় মোখা আম্ফানের মতো একই সময়ে একই জায়গায় সৃষ্টি হয়েছিল। আম্ফানের ক্ষেত্রে তা সরাসরি বাংলার উপকূলের দিকে ধেয়ে আসে।
কিন্তু ঘূর্ণিঝড় মোখা বাংলার উপকূলে না এসে উত্তর-পূর্ব দিকে বাঁক নিয়ে বাংলাদেশ-মায়ানমার উপকূলের দিকে ধেয়ে যায়। তারপরই তা শক্তি বাড়িয়ে সুপার সাইক্লোনের রূপ নেয়। এই বাঁক নেওয়ার আগে শক্তি বাড়িয়ে ফেললে কিন্তু বিপদ নেমে আসত বাংলার উপকূলে। এমনটাই অভিমত আবহবিদদের।

ঘূর্ণিঝড় মোখা আবহবিদদের অনুমানের থেকেও অনেক বেশি শক্তি আহরণ করে বঙ্গোপসাগরে ফুঁসতে শুরু করে। ঘূর্ণিঝড় মোখা নিয়ে মৌসম ভবন বলেছিল, তা আরো শক্তি বাড়িয়ে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় থেকে সুপার সাইক্লোনের রূপ নিতে পারে। আম্ফানের মতোই তার গতিপ্রকৃতি, তা অনুমান করেছিলেন আবহবিদরা।
সেই কারণেই বাংলাদেশ-মায়ানমার উপকূলে আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা সিংহভাগ হওয়া সত্ত্বেও বাংলার উপকূলকে সাবধান করে দিয়েছিল। কেননা আম্ফানের মতোই প্রকৃতি পরিবর্তন করে বাংলার উপকূলে হানা দিলে তখন কিছু করার থাকবে না। এর আগে মায়নামারের বুকে তাণ্ডব চালায় নার্গিস। নার্গিসের থেকেও বেশি গতিতে এবার আছড়ে পড়ল মোখা। নার্গিস ঘণ্টায় ১৬৫ কিলোমিটার বেগে আছড়ে পড়েছিল।












Click it and Unblock the Notifications