১১৭ কিমি বেগে ধেয়ে আসবে ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদ! সুপার সাইক্লোনের অভিমুখ বদলের সম্ভাবনাও
১১৭ কিমি বেগে ধেয়ে আসবে ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদ! সুপার সাইক্লোনের অভিমুখ বদলের সম্ভাবনাও
ডিসেম্বরে শীতের কাঁপুনি শুরুর আগেই ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের আতঙ্কে কাঁপছে ভারতীয় উপকূল। বাদ যাচ্ছে না বাংলাও। বঙ্গোপসাগর দিয়ে ধেয়ে আসা জাওয়াদ কোন অভিমুখে আসবে, কোন উপকূলে আছড়ে পড়বে, তা নিয়েই তটস্থ রাজ্য প্রশাসন। শীতের মুখে ঘুম উড়েছে উপকূলবর্তী রাজ্যগুলির। আবহবিদরা জানিয়েছেন ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদ অতি প্রবল ঝড়ের আকার নিতে পারে।

ঘূর্ণিঝড় গুলাবের পর আসছে ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদ
বর্ষাকালে এবার কোনও ঝড় সেভাবে বাংলার উপকূলে আসেনি। এপ্রিল-মে মাসে শেষ ঝড় এসেছিল ইয়াস রূপে। তারপর মাস দুয়েক আগে গুলাব তৈরি হয়েছিল বঙ্গোপসাগরে। কিন্তু তা অতি প্রবল সাইক্লোনে রূপান্তরিত হয়নি। ভারতের পূর্ব উপকূলে আছড়ে পড়ার পর তা আরব সাগরে চলে গিয়েছিল। তারপর তা নতুন করে শক্তি সঞ্চয় করে শাহিন নাম নিয়ে ওমানের দিকে ধেয়ে গিয়েছিল।

পূর্ব উপকূলের গা ঘেঁষে বেরিয়ে গেলে আরও বিপদ
এবার বঙ্গোপসাগরের বুকে শক্তি বাড়িয়ে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদ। আগামী শনিবার অর্থাৎ ৪ ডিসেম্বর তা উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশা উপকূলের মধ্যে আছড়ে পড়তে পারে বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান করছেন আবহবিদরা। তবে শেষ মুহূর্তে তা পূর্ব উপকূলের গা ঘেঁষে বেরিয়েও যেতে পারে। সেক্ষেত্রে ওড়িশা বা বাংলার বিপদ বাড়তে পারে।

বঙ্গোপসাগরে শক্তি বাড়িয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে ঘূর্ণাবর্তটি
ভারতের মৌসম ভবনের তরফে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার সকালে দক্ষিণ থাইল্যান্ড সংলগ্ন সাগরে একটি নিম্নচাপ অবস্থান করছে। রাতেই তা পৌঁছে যায় আন্দামান সাগরে। তারপর তা ক্রমেই পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। বৃহস্পতিবারের মধ্যে তা গভীর নিম্নচাপে পরিণত হবে বলেই আবহবিদরা জানিয়েছেন।যা দক্ষিণ-পূর্ব এবং তৎসংলগ্ন পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করবে। সেখানেই নিম্নচাপ অঞ্চলে প্রবেশ করে শক্তি বাড়িয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে ঘূর্ণাবর্তটি।

১১৭ কিলোমিটার বেগে আছড়ে পড়তে পারে ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদ
ক্রমাগত শক্তি বাড়িয়ে ঘূর্ণিঝড় ভেরি সিভিয়ার সাইক্লোনে পরিণত হবে। আবহবিদরা জানিয়েছেন, শনিবার ৪ ডিসেম্বর সকালের দিকে উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশা উপকূলের মধ্যে আছড়ে পড়তে পারে। ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের গতিবেগ হতে পারে ঘণ্টায় ৮৯ কিলোমিটার থেকে ঘণ্টায় ১১৭ কিলোমিটার বেগে আছড়ে পড়তে পারে। এর ফলে গা ঘেঁষে বেরিয়ে গেলেও ওই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে পূর্ব উপকূল অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

কোথায় কোথায় বৃষ্টি হবে, কী বলছে মৌসম ভবন
মৌসম ভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, ওড়িশা উপকূলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হবে। কয়েকটি জায়গায় বিক্ষিপ্তভাবে অত্যধিক ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস রয়েছে। ওড়িশার কয়েকটি জেলা ও পশ্চিমবঙ্গের উপকূলবর্তী জেলা এবং উত্তর উপকূলীয় অন্ধ্রপ্রদেশে বিক্ষিপ্তভাবে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হতে পারে। রবিবার ৫ ডিসেম্বর পশ্চিমবঙ্গ এবং সংলগ্ন উত্তর উপকূলীয় ওড়িশার কয়েকটি জায়গায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদ বিদায়ের পরই শীত পড়বে জাঁকিয়ে
এবার ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ করেছে সৌদি আরব। আরবি শব্দ জাওয়াদ। এই জাওয়াদ কথার অর্থা উদার বা মহান। ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদ যথেষ্ট দাপট দেখাবে বলেই মনে করছেন আবহবিদরা। শীতের শুরুতেই ভাসতে পারে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গ। দক্ষিণ থাইল্যান্ড থেকে এই ঝড়ের সূত্রপাত। তা কোথায় শেষ হয়, এখন তা নিয়েই পর্যোলাচনা চলছে। এই জাওয়াদ বিদায়ের পরই শীত পড়বে জাঁকিয়ে।












Click it and Unblock the Notifications