গুজরাত উপকূলে ঘূর্ণিঝড় আসনা, এর নামকরণ কীভাবে, এর অর্থই বা কী?
গুজরাত উপকূলে ঘূর্ণিঝড় অগাস্টে একটি বিরল ঘটনা। গুজরাতের সৌরাষ্ট্র-কচ্ছ অঞ্চলে তৈরি হয়ে যা আরব সাগরের ওপর দিয়ে ওমান উপকূলের দিকে যাবে বলে মনে করছেন আবহবিদরা। আবহাওয়া দফতর বলছে, সৌরাষ্ট্র ও কচ্ছের ওপর গভীর নিম্নচাপটি পশ্চিম-দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে সরে যেতে পারে এবং কচ্ছ ও সংলগ্ন পাকিস্তানের উপকূল থেকে উত্তর-পূর্ব আরব সাগরে একটি তীব্র ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে।
ঘূর্ণিঝড়টি তৈরি হলে তার নাম হবে আসনা। নামটি পাকিস্তানের দেওয়া। যে নিম্নচাপ থেকে এই ঘূর্ণিঝড় তৈরির সম্ভাবনা, তা গত তিনদিন ধরে গুজরাতে প্রবল বৃষ্টিপাত ঘটিয়েছে। যা ক্রমে পাকিস্তান হয়ে ইরানের দিকে যেতে পারে।

গভীর নিম্নচাপের শক্তি বৃদ্ধি
আবহাওয়া দফতরের সর্বশেষ বুলটিনে বলেছে, নিম্নচাপটি পরবর্তী বারো ঘন্টার মধ্যে কচ্ছ ও সংলগ্ন সৌরাষ্ট্র ও পাকিস্তান উপকূলে উত্তর-পূর্ব আরব সাগরে তীব্র ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে।
সাধারণভাবে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ করা হয় বিভিন্ন সতর্কীকরণ কেন্দ্রের মাধ্যমে। এছাড়া একই অববাহিকায় একসঙ্গে ঝড়ের ক্ষেত্রে বিভ্রান্তি কমাতে এই নামকরণ করা হয়। সাধারণভাবে ঝড়ের বেগ যদি ঘণ্টায় ৬১ কিমির বেশি হয়, তাহলে তাকে ঘূর্ণিঝড় বলা হয়। আর নামগুলি পূর্ব নির্ধারিত তালিকা থেকে বরাদ্দ করা হয়।
কে নাম দিয়েছে, অর্থই বা কী?
গুজরাতের গভীর নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হলে তার নামকরণ হবে আসনা। পাকিস্তান এই নামটি দিয়েছে। এর অর্থ হল স্বীকৃত বা প্রশংসিত। এই অঞ্চলের দেশগুলি ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ করে একটি নামের ভাণ্ডার তৈরি করেছে। সেখান থেকেই পর্যায়ক্রমে নামগুলিকে নেওয়া হয়।
ঘূর্ণিঝড় আসনা সম্পর্কিত তথ্য
- আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড় আসনার জেরে গুজরাত, বিশেষ করে সৌরাষ্ট্র ও কচ্ছে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে।
- ১৯৭৬ সালের পরে অগাস্টে আরব সাগরে এটিই প্রথম ঘূর্ণিঝড়।
- ১৯৬৪ সালে দক্ষিণ গুজরাত উপকূলের কাছে একটি ঘূর্ণিঝড় তৈরি হলেও উপকূলের কাছে আসার সঙ্গে সঙ্গে তা দুর্বল হয়ে পড়ে।
- ১৯৪৪ সালে ঘূর্ণিঝড় আরব সাগরে প্রবেশের পরে শক্তিশালী হয়েছিল কিন্তু তারপরে সমুদ্রে থাকা অবস্থায় দুর্বল হয়ে পড়ে।
- গত ১৩২ বছরে বঙ্গোপসাগরে, অগাস্ট মাসে মোট ২৮ টি এই ধরনের সিস্টেম তৈরি হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications