‘সরকারের সমালোচনা করলেই রাষ্ট্রদ্রোহিতা হয় না’, তীব্র ভৎসনা সুপ্রিম কোর্টের
‘সরকারের সমালোচনা করলেই রাষ্ট্রদ্রোহিতা হয় না’, তীব্র ভৎসনা সুপ্রিম কোর্টের
গঙ্গায় মৃতদেহ ফেলা নিয়ে ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের বক্রোক্তির মুখে পড়েছে সরকার। এবার অন্ধ্রপ্রদেশের দুই সংবাদ সংস্থার বিরুদ্ধে করা রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা করায় মুখ পুড়ল অন্ধ্রপ্রদেশ সরকারের। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যর্থতা-সহ কয়েকটি বিষয়ে বেশ কিছু দিন ধরে অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই এস জগন্মোহন রেড্ডির সমালোচনা করছিল সংশ্লিষ্ট ২টি টিভি চ্যানেল। ২ সপ্তাহ আগে তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা দায়ের করে অন্ধ্র সরকার।

যদিও সংশ্লিষ্ট ২টি টিভি চ্যানেল রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগকে চ্যালেঞ্জ করে কয়েকদিন আগেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় বলে জানা যায়। এদিন সেই মামলার শুনানিতেই রাষ্ট্রদ্রোহের সংজ্ঞা নতুন করে নির্ধারণের পক্ষে মত প্রকাশ করতে দেখা যায় বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়ের বেঞ্চকে। পাশাপাশি অন্ধ্রের টিভি ৫ এবং এবিএন অন্ধ্র জ্যোতি নামক দুই চ্যানেলের বিরুদ্ধে কোনও রকম পদক্ষেপ যাতে না নেওয়া হয় তার নির্দেশও দেওয়া হয় শীর্ষ আদালতের তরফে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, সরকারি পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আন্দোলন হোক বা বিদ্রোহ, সমালোচনা বা প্রতিবেদন প্রকাশ একাধিক ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা করেছে সরকার। মোদী জমানার শুরু থেকে তাতে আরও বাড়বাড়ন্ত দেখা যায়। এমনকী এর জেরে বছরের পর বছর শুধুমাত্র সরকারের কাজের সমালোচনা করার জন্য জেলে পচে মরতে হচ্ছে একাধিক নিরপরাধ মানুষকে।
এমতাবস্থায় রাষ্ট্রদ্রহিতাকে ঢাল করে গোটা দেশে যে ভাবে একের পর এক মামলা দায়ের হচ্ছে তাতে নতুন করে রাষ্ট্রদ্রোহের সংজ্ঞা নতুন করে নির্ধারণের প্রয়োজন রয়েছে বলে মত প্রকাশ করে শীর্ষ আদালত। এদিকে এর আগে ২০১৬ সালে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি দীপক মিশ্র এবং বিচারপতি উদয় ললিতের ডিভিশন বেঞ্চও ভারতীয় দণ্ডবিধির ১২৪-এ ধারার (রাষ্ট্রদ্রোহ) অপপ্রয়োগ সম্পর্কেও সে সময় রীতিমতো উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল বলে জানা যায়।












Click it and Unblock the Notifications