গ্যাসের দুশ্চিন্তায় বদলাচ্ছে কেনাকাটার অভ্যাস, অনলাইনে প্যাকেট খাবারের চাহিদা ঊর্ধ্বমুখী
পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আবহে এলপিজি সরবরাহ নিয়ে তৈরি হওয়া উদ্বেগ এবার প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায়। তারই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে অনলাইন কেনাকাটার বাজারে। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ই কমার্স প্ল্যাটফর্মে তৈরি খাবার ও প্যাকেটজাত খাদ্যপণ্যের চাহিদা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে, কিছু ক্ষেত্রে বৃদ্ধি ছুঁয়েছে প্রায় ১৫ শতাংশ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়ার অনিশ্চয়তার আশঙ্কা থেকেই ক্রেতাদের মধ্যে খাবার মজুত করার প্রবণতা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। স্ন্যাকস, বিস্কুট, চানাচুরের পাশাপাশি দ্রুত প্রস্তুত করা যায় এমন নুডলসের মতো পণ্যের দিকে ঝুঁকছেন মানুষ। কম গ্যাসে রান্না সম্ভব এমন খাদ্যপণ্যের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে দ্রুত।

এই প্রবণতা কেবল বড় শহরেই সীমাবদ্ধ নয়। কলকাতা, হায়দরাবাদ, চেন্নাইয়ের মতো মহানগর থেকে শুরু করে গ্রামীণ এলাকাতেও একই ছবি ধরা পড়ছে। তবে দিল্লি, মুম্বই ও বেঙ্গালুরুর মতো শহরে চাহিদা বৃদ্ধির হার তুলনামূলক বেশি। শুধু প্যাকেটজাত খাবার নয়, খাদ্যশস্য, ভোজ্য তেল, শুকনো খাবার, পানীয় ও বাদামজাত পণ্যের বিক্রিও বাড়ছে চোখে পড়ার মতো।
এক জনপ্রিয় ই কমার্স সংস্থার এক আধিকারিক জানান, "গত কয়েক সপ্তাহে সুবিধাজনক ও দ্রুত প্রস্তুতযোগ্য খাবারের চাহিদা স্পষ্টভাবে বেড়েছে। অনেকেই আগাম খাবার মজুত করতে চাইছেন, যা বিক্রির পরিসংখ্যানে প্রতিফলিত হচ্ছে।"
অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় সরকার পরিস্থিতি নিয়ে আশ্বস্ত করেছে। সরকারের দাবি, দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে, তাই আতঙ্কের কোনও কারণ নেই। যদিও বাস্তবে বিভিন্ন জায়গায় এলপিজি সিলিন্ডার সংগ্রহ করতে ডিলারদের কাছে দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। অনলাইন বুকিংয়ের পর কিছুটা অপেক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে গ্রাহকদের।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ভারত তার প্রায় ৬০ শতাংশ এলপিজি আমদানি করে পশ্চিম এশিয়ার হরমুজ প্রণালী দিয়ে। বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সেই সরবরাহে কিছুটা ব্যাঘাত ঘটলেও, কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের দাবি মজুতে এখনও ঘাটতি তৈরি হয়নি।
তবে, জ্বালানি উদ্বেগ যে মানুষের কেনাকাটার অভ্যাস বদলে দিচ্ছে, তার স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে অনলাইন বাজারের এই নতুন প্রবণতায়।












Click it and Unblock the Notifications