আতিক আহমেদের হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে আগেই অপরাধের রেকর্ড, একনজরে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
গ্যাংস্টার ছাড়া প্রাক্তন সাংসদ, তার ওপরে ছিল পুলিশের বেষ্টনি। এমন অবস্থায় টিভি ক্যামেরার সামনে গুলি করে হত্যা। যার জেরে প্রয়াগরাজের নিরাপত্তা নিয়ে ধাক্কা খেয়েছে প্রশাসন। সেখানকার ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক আধিকারিকদের নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে হামলাকারীদের নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে পরতে পরতে।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, শনিবার রাতের ঘটনার প্রেক্ষিতে যোগী আদিত্যনাথের সঙ্গে বৈঠকের পরেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের কাছে রিপোর্ট জমা দিয়েছেন উত্তর প্রদেশের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব। মুখ্যমন্ত্রী তার আগে লখনৌ থেকে জেলাশাসক এহং পুলিশ সুপারদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে বৈঠক করেন। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও পুলিশ কর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

এক হত্যাকারী লাভলেশ তিওয়ারি আগেও জেলে ছিলেন। তার বাবা সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, ছেলের সঙ্গে পরিবারের কোনও সম্পর্ক ছিল না। ছেলের কাজ কর্ম সম্পর্কেও তারা কিছুই জানেন না বলে দাবি করেছেন বাবা। টেলিভিশনের পর্যায় নিডের ছেলেকে দেখেছেন বলে জানিয়েছেন বাবা যজ্ঞ তিওয়ারি।
বছরের পর বছর ধরে ছেলের সঙ্গে কথা হয়নি বলে দাবি করেছেন যজ্ঞ তিওয়ারি। তিনি জানিয়েছেন, এর আগে একটি মামলায় জেলের সাজা হয়েছিল। তিনি বলেছেন ছেলে মাদকাসক্ত ছিল। শনিবারের ঘটনায় তাঁর কিছুই করার নেই। কেননা তাঁর আরও সন্তান রয়েছে। শনিবারের ঘটনার সময় ক্রস ফায়ারিং-এ লাভলেশের পায়ে গুলি লাগায় সে প্রয়াগরাজের হাসপাতালে ভর্তি।
অপর হত্যাকারী সানির বিরুদ্ধে ১৪ টি মামলা রয়েছে। তার পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে বাবা মারা যাওয়ার পরে পারিবারিক সম্পত্তির অংশ বিক্রি করে বাড়ি ছেড়ে চলে যায় সানি। পাঁচ বছরের বেশি সময় বাড়ি মা কিংবা ভাই কারও সঙ্গেই দেখা করতে যায়নি। সানির ভাই পিন্টু সিং জানিয়েছেন দাদা কোনও কাজ করত না। কীভাবে অপরাধী হয়ে উঠল, তা তাঁরা জানেন না।

তৃতীয় হত্যাকারী অরুণ অনেক ছোট বয়সে বাড়ি ছাড়ে। ২০১০ সালে ট্রেনে এক পুলিশ কর্মীকে হত্যার ঘটনায় তার নাম সামনে আসে। পরবর্তী কালে সে দিল্লির কারখানায় কাজ করেছে। মাঝে মঝ্যে সে প্রয়াগরাজের লজেও থাকত বলে জানা গিয়েছে।
তিন হামলাকারীই জিজ্ঞাসাবাদের সময় পুলিশকে জানিয়েছে, তারা কুখ্যাত অপরাধী হতে চেয়েছিল। সেই কারণে গ্যাংস্টার আতিককে হত্যার পরিকল্পনা করে। তবে হত্যাকারীদের এই মন্তব্যে বিশ্বাস না করে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

তিন হামলাকারী জানিয়েছে, সাংবাদিকের পরিচয় দিয়ে ভিড়ের মধ্যে হত্যার পরিকল্পনা হিসেবে মিডিয়ার ভুয়ো পরিচয়পত্র যোগার করেছিল। তাদের সঙ্গে ক্যামেরা ও মাইকও ছিল। এইসব বিষয় পুলিশের এফআইআর-এ উল্লেখ করা হয়েছে। এই ঘটনায় উত্তর প্রদেশ পুলিশ ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে।












Click it and Unblock the Notifications