জোটবদলের রাজনীতিতে কমছে বিশ্বাসযোগ্যতা, ভোটের আবহে তামিল ভূমিতে রাশ আলগা বামেদের
পদ্মজোটের বিরুদ্ধে শক্তি হারাচ্ছে বামেরা, একনজরে তামিল ভূমিতে লালশিবিরের হাল-হকিকত
বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে রাজ্য-রাজনীতি। দক্ষিণেও বেজে উঠেছে নির্বাচনের ডঙ্কা। এমতাবস্থায় তামিলভূমিতে ভোটারদের মন জয়ে নেমেছে ডিএমকে ও এআইএডিএমকে-র মতো শাসক-বিরোধী সমস্ত দলই। যদিও এহেন পরিস্থিতির মাঝে বামেদের সাংগঠনিক পারাপতন যে বেশ স্পষ্ট, তা লক্ষ্য করেছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

কেমন ছিল শেষ বিধানসভা নির্বাচনের ফল ?
২০১৬-এর তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনেও বিজয়কান্তের নেতৃত্বাধীন ডিএমডিকে জোটে শরিক হয় সিপিআই ও সিপিএম। যদিও মাত্র ১.৫% ভোট নিজেদের দখলে আনতে সমর্থ হয় লাল জোট। তামিল রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, তামিল রাজনীতির ময়দানে ডিএমকে ও এআইএডিএমকের রাজনৈতিক কৌশলের জেরে কল্কে পায় না বামেদের মত ছোট দলগুলি। নির্বাচনী প্রচারের খরচ বহুগুণে বেড়ে যাওয়ায় ডিএমডিকে জোটে থেকেও বিলুপ্তির দিকে এগোচ্ছে অন্যান্য ক্ষুদ্র দলগুলি, মত বিশেষজ্ঞদের।

নাল্লাকান্নুর প্রভাব সত্ত্বেও তামিলে ব্যর্থ বামেরা
দেশজুড়ে পদ্মঝড়ের আবহে সঠিক সময়ে সঠিক জোটের শরিক না হওয়াতেই যে এহেন দুর্দশা বামেদের, তা স্পষ্ট বলেছেন রাজনীতিকরা। ন্যায় ও সততার জন্য নাল্লাকান্নু সহ অন্যান্য বাম নেতাদের সুপরিচিতি থাকলেও সঠিক জোটসঙ্গী না বাছার জন্য কমেছে বামেদের বিশ্বাসযোগ্যতা। পাশাপাশি এবারের নির্বাচনে মাত্র ৬টি আসনে বামজোটকে প্রার্থী দেওয়ার সুযোগ দিয়েছে ডিএমকে, যা ঘিরেও টানাপোড়েন তুঙ্গে। ২০০১ সালে এআইএডিএমকে জোটের সঙ্গে থাকলেও ২০০৬ সালে ডিএমকে জোটে নাম লেখায় বামেরা। ২০১১-য় পুনরায় জয়ললিতার হাত ধরে এআইএডিএমকে জোটের শরিক হলেও ২০১৬-তে আবার ডিএমডিকে জোটের অন্তর্ভুক্ত হয় বামেরা। স্বাভাবিকভাবেই বামেদের 'জোটবদলের রাজনীতি'-কে ঘিরে উঠছে বিশ্বাসযোগ্যতার প্রশ্ন!

জোটবদলের রাজনীতিতে আম-আদমির বিশ্বাস খুইয়েছে বামেরা
বর্তমানে সিপিআই ও সিপিএম জোটশরিক হলেও ইতিপূর্বে ভিন্ন ভিন্ন জোটে থেকেছে দুই বাম দল। ১৯৯৬-এ ডিএমকে জোটে ছিল সিপিআই এবং ভাগ্য ফেরানোর লক্ষ্যে ভাইকোর নেতৃত্বাধীন এমডিএমকে জোটে নাম লেখায় সিপিএম। আবার ১৯৮৯-এ জয়ললিতার এআইএডিএমকেতে সিপিআই নাম লেখালেও ডিএমকে ফ্রন্টে যুক্ত হয়েছিল সিপিএম। জোটের ক্ষেত্রে এহেন নামবদলই যে বামেদের কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে, তা মেনে নিয়েছেন বাম নেতারাও। সূত্রের খবর অনুসারে, বামেদের পকেটে শেষ ২০টি আসন ঢুকেছিল ১৯৮০ সালে এমজিআরের নেতৃত্বাধীন এআইএডিএমকে জোটের সৌজন্যে।

মাত্র চারটি তামিল বিধানসভায় সীমাবদ্ধ বামেরা
বামেদের অবিচ্ছিন্ন অধঃপতনের জেরে বর্তমানে লালশিবিরের দৌরাত্ম্য সীমাবদ্ধ তামিলনাড়ুর মাত্র চারটি বিধানসভা অঞ্চলে। কন্যাকুমারী, নাগাপাত্তিনাম ও থানজাভুর জেলার সাথে সাথে কোয়েম্বাটুর, তিরুচিরাপল্লি, চেন্নাই ও মাদুরাইয়ের কিছু অংশে এখনও রয়েছে বামপ্রভাব। পাশাপাশি কর্মচারী ইউনিয়ন, চাষী, মজুর ও কৃষিকর্মচারীদের মধ্যে বাম এখনও বর্তমান। দক্ষিণী রাজনীতিতে ইতিপূর্বে দুর্নীতিমুক্ত ও স্বচ্ছ দল হিসেবে নামডাক থাকলেও জোটবদলের জেরে সেই স্থান হারিয়েছে বামেরা, মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। অন্যদিকে মতাদর্শগত স্থান থেকে শক্তিশালী থাকলেও তামিলভূমিতে যে কমছে বামপ্রভাব, তা স্পষ্ট ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনেই।












Click it and Unblock the Notifications