তৃণমূলের সমর্থনে বিবৃতি সিপিএমের! ২০২৩-এর আগে বিজেপির বিরুদ্ধে কি নয়া সমীকরণ
ত্রিপুরায় কি রাজনৈতিক সমীকরণ বদলাচ্ছে। তৃণমূল নেতাদের উপর হামলা ও পার্টি অফিস ভাঙার অভিযোগ যখন বিজেপির বিরুদ্ধে, তখন সিপিএম তৃণমূলের পাশে দাঁড়াল।
ত্রিপুরায় কি রাজনৈতিক সমীকরণ বদলাচ্ছে। তৃণমূল নেতাদের উপর হামলা ও পার্টি অফিস ভাঙার অভিযোগ যখন বিজেপির বিরুদ্ধে, তখন সিপিএম তৃণমূলের পাশে দাঁড়াল। বিবৃতি দিয়ে তৃণমূলের উপর হামলার ঘটনার নিন্দা করল সিপিএম। সিপিএমের ত্রিপুরা রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর পক্ষ থকেে তৃণমূলের উপর হামলা ঘটনায় সরাসরি বিজেপিকে দায়ী করা হল।

বিজেপি-বিরোধী জোটে সিপিএম কি তৃণমূলের পাশে?
বিজেপি-বিরোধী জোটে সিপিএম কি তৃণমূলের পাশে থাকবে, তা নিয়ে জল্পনা চলছে। এ রাজ্যে সিপিএম দু-ভাগ সেই প্রশ্নে। সিপিএমের নেতারা একপক্ষ তৃণমূলের সঙ্গে চলতে চাইছে, কিন্তু এক পক্ষ চাইছে বিজেপি ও তৃণমূল থেকে সমদূরত্ব বজায় রেখে চলতে। এর মধ্যে ত্রিপুরা সিপিএমের এই বিবৃতি কেন্দ্রীয় ও রাজ্য রাজনীতিতে নয়া সমীকরণের জল্পনা তৈরি করল।

বিজেপিকে সরাসরি দায়ী করে সিপিএম তৃণমূলের পাশে
ত্রিপুরার আমবাসায় তৃণমূলের যুব নেতা-নেত্রীদের উপর হামলা হয়। তাঁদের গাড়ি লক্ষ্য করে ইট ছোড়া হয়, ধর্মনগরে তৃণমূলের পার্টি অফিসে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এই দুই ঘটনার তীব্র নিন্দা করা হয়। এবং বিজেপিকেই দায়ী করা হয়। সিপিএমের এভাবে তৃণমূলের পাশে দাঁড়ানোর ফলে রাজনৈতিক মহল অন্য সমীকরণের গন্ধ পাচ্ছে।

ত্রিপুরার বিপ্লব দেব সরকারের উপর আরও চাপ বাড়ল
সিপিএমের এহেন বিবৃতির পর স্বাভাবিক ভাবেই ত্রিপুরার বিপ্লব দেব সরকারের উপর আরও চাপ বাড়ল। এদিন তৃণমূলের যুব নেতা দেবাংশু ভট্টাচার্য-সুদীপ রাহা-জয়া-দত্তের উপর হামলার ঘটনার দায় অস্বীকার করেছে বিজেপি। কিন্তু সিপিএম সরাসারি বিজেপিকে দায়ী করে তৃণমূলের হাত শক্ত করল।

সিপিএম-তৃণমূলের মধ্যে নয়া সমীকরণের জন্ম
একইসঙ্গে সিপিএম-তৃণমূলের মধ্যে নয়া সমীকরণের জন্ম দিল এদিনের বিবৃতি। সিপিএম জাতীয় রাজনীতিতে তৃণমূলের সঙ্গে থাকতে পারে, আগেও তাদের এক মঞ্চে দেখা গিয়েছে জাতীয় ক্ষেত্রে। কিন্তু রাজ্যের ক্ষেত্রে তৃণমূলকে সমর্থন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। খুব স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, তবে কি সিপিএম বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এঁটে উঠতে না পেরে তৃতীয় শক্তি হিসেবে তৃণমূলের উত্থান চাইছে?

কেন তৃণমূলের সমর্থনে বিবৃতি দিল সিপিএম, জল্পনা
কংগ্রেসের সঙ্গে সিপিএমের একটা সমঝোতা রয়েছে। কংগ্রেস গত লোকসভায় সিপিএমের তুলনায় ভালো ফল করে। কিন্তু সম্প্রতি লোকাল বডি নির্বাচনে সিপিএম বিজেপিকে ধাক্কা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কেন তৃণমূলের সমর্থনে বিবৃতি দিল সিপিএম, তা নিয়ে চর্চা চলছেই।

সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলী বিবৃতি
সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলী বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, আমবাসায় তৃণমূল নেতা-কর্মীদের উপর হামলা, ধর্মনগরে পার্টি অফিস ভাঙচুরের ঘটনা বিজেপির দুর্বৃত্ত বাহিনীর ফ্যাসিস্টসুলভ আক্রমণের তীব্র নিন্দা করা হচ্ছে। বিজেপির রাজত্বে স্বাধীন মত প্রকাশের কোনও অধিকার নেই। আইন বা গণতন্ত্রের কোনও অস্তিত্ব নেই।

বিজেপিকে ক্ষমতাচ্যুত করতে রাজনৈতিক সমীকরণ
এখন দেখার ২০২৩ সালে বিজেপিকে শাসন ক্ষমতা থেকে হটাতে কোনও রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয় কি না। এদিন সিপিএমের বিবৃতি সেই জল্পনাই উসকে দিল। বাম-কংগ্রেস আর তৃণমূল যদি এক হয়ে বিজেপিকে উৎখাত করতে নামে তবে স্বাভাবিকভাবে বিপ্লব দেব সরকার চাপে পড়ে যাবে। যদিও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপি মোকাবিলায় সবাইকে এক হয়ে লড়ার আহ্বান জানালেও, সিপিএমের সঙ্গে জোট-তত্ত্ব উড়িয়ে দেন।












Click it and Unblock the Notifications